গল্প: মরাখলা খাল (২য় পর্ব) ভৌতিক ঘঠনা অবলম্বনে একটি খালের সহস্য

343

আমি সবাইকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য ভাবলাম এই মাছটা’কে যেভাবেই হোক আমি ধরবোই। আমার কোঁচে তাকে ধরা দিতেই হবে। ওরা সবাই একে-একে অনেক মাছ ধরে ফেলেছে কিন্তু আমি এখনো একটা মাছও ধরতে পারিনি। এই বিষয়টা আমার কাছে খুব খারাপ লাগছে কিন্তু এখনই সময় এসে গেছে মাছটি ধরবার আমি মাছটির পিছনে ছুটতে লাগলাম। কিন্তু কোনো ভাবেই যেন আমি মাছটির ধারে কাছেও যেতে পারছিলাম না। আমি এতটাই মাছ ধারার প্রতি আগ্রহ হয়ে পড়েছি পিছন দিকে তাকানোর আর সময় পেলাম না। হঠাৎ করেই এই বিষয়টা আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে আমি তো অনেক দূরে চলে এসেছি দেখিতো পিছনে তাকিয়ে ওরা কোথায় আছে।

ঠিক তখনই পেছনে তাকিয়ে দেখলাম ওরা কেউই আমার পেছনে নেই। নিস্তব্ধ এই অন্ধকার রাতে কিছুই ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। তবে আমি আমার টর্চ লাইট দিয়ে আমার বন্ধুদের দেখার চেষ্টা করলাম। কি অদ্ভুত ব্যাপার আমি যে রাস্তা দিয়ে এখানে এসেছি, সেই রাস্তাটাও নেই আর বন্ধুরাও নেই। পিছনে ভাল করে তাকিয়ে দেখছি মনে হচ্ছে এইমাত্র এখান থেকে খালটা শুরু হয়েছে তাহলে নৌকা ভেয়ে এতটা পথ পার হলাম যে সেটা কোথায় গেলো। আমি রীতিমতো ভয় পেয়ে গেলাম যাক ওই সমস্ত চিন্তা না করে আমি মাছটা ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছি। মাছটা আমাকে নিয়ে খেলা করছে অনেক সময় নিচ্ছে, কাছে এসে ধরা দিতে চায় আবার যখনই আমি কোঁচ দিয়ে মাছের শরীরে আঘাত করতে চাই তখনই মাছটা পালিয়ে যায় মানে উধাও হয়ে যায়।

এখন আমি চারপাশ আবার ভালো করে খোঁজার চেষ্টা করি কিন্তু কোথাও ওই মাছটাকে দেখতে পাচ্ছি না। ঠিক কিছুক্ষণ পরেই আবার দেখি আমার নৌকার সামনে ওই মাছটা তার লেজ নাড়াচ্ছে। আমি আবার দ্রুত করে নৌকা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, লক্ষ একটাই যে করেই হোক মাছটা’কে আমার ধরতেই হবে। এত বড় মাছটা দেখে তো সবাই অবাক হয়ে যাবে আর সবাই বলবে কি করে তুই এটা ধরলি।

আমার মাথাতে শুধু এটাই ঘুরপাক খাচ্ছে, এই মাছটা আমাকে যে করেই হোক নৌকায় তুলতেই হবে। আমি আবার সামনে থেকে যাত্রা শুরু করলাম কিন্তু কিছুতেই মাছটা ধরা দিচ্ছে না। আমি বারবার কোচ ফেলে দিচ্ছি মাছ টার দিকে তবুও পারছি না। তবে এখন একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে চলছে আমার সাথে, কি আজব ব্যাপার এখন আমি আর মাছ টাকে খুঁজে পাচ্ছি না। এপাশ-ওপাশ দুপাশে ভালো করে খুঁজলাম কিন্তু মাছটা’কে কেন খুঁজে পাচ্ছি না।

আমি মাছটা’কে অনেকবার খোঁজার চেষ্টা করছি কিন্তু কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। আমি একটু হতাশ হয়ে পরছি। হঠাৎ করে ওপর দিকে তাকালাম, এ কি অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পেলাম। খালের যত মাছ ছিল সব মাছ বাতাসে ভাসছে, এমন দৃশ্য আমি দেখতে পাবো ভাবতে পারিনি। তবে এ বিষয়টা দেখে আমি পুরোপুরি ঘাবড়ে গেলাম। এটা কি করে সম্ভব আকাশে মাছ তাও আবার হাঁটাচলা করছে। আমি চোখ ভাল করে মুছে দেখলাম বিষয়টা কি সত্যি নাকি মিথ্যা, কিন্তু না বারবার দেখা শর্তেও দেখলাম যে আমার মাথার ওপরেই মাছ ভাসতেছে।

আমি তখন আমার চারপাশটা দেখতে লাগলাম। চারপাশটা দেখে মনে হলো এ যেন কোনো অপরিচিতা এলাকা। মনে হচ্ছে এখানে জীবনেও কখনো আসেনি। এটা কোথায় আসলাম এটাতো আমাদের খালের কোনো অংশই নয়। অথবা সামনে একটি নদী আছে সেই নদীরও কোনো অংশই নয় এই জায়গাটা। তাহলে এটা কোন জায়গায় আমি এসে পড়লাম কিছু বুঝতেছি না শরীরের তাপমাত্রা দ্বিগুণ হারে বেড়ে যাচ্ছে ।

আমি এখন পিছন দিকে তাকানোর চেষ্টা করলাম দেখি আমার বন্ধুদের সাড়া পাওয়া যায় কিনা, আমি ওদের জোরে ডাকতে লাগলাম। কিরে তোরা কোথায় গেলি?
অমৃতা…..
রিজমান ….
তোরা কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছিস না ? কোথায় তোরা তাড়াতাড়ি এখানে আয়?

এত চিল্লাচিল্লি করার পরেও কেউই যেন আমার কথা শুনতে পাচ্ছে না আর কেউই আমার দিকে ছুটে আসছে না। আমি ভাবলাম ওরা কোথায় গেছে নাকি ফিরে গেছে কিন্তু চলে গেলে তো আমাকে নিয়ে যেত। বিষয়টা আমার কাছে অন্য রকম লাগছে মনে হচ্ছে আমি মহা বিপদে পড়ে গেছি ।

আমি জোরে চিৎকার দিতে থাকি।
বাঁচাও বাঁচাও .. কেউ সাহায্য করো ..

কিন্তু কোন লাভই হচ্ছে না। এ দিকে আমার হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে। চারদিকে এতটাই নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে যেন কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। আমার হাতে টর্চ লাইট ছিল সেটারও চার্জ শেষ হয়ে আসছে আর চতুর্দিক থেকে আসছে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ। এই ধরনের শব্দ হয়তো আমি এর আগে কখনো শুনিনি। আমার খুব কান্না পাচ্ছে, আমার শরীরের যতগুলা লোম ছিল সবগুলোই দার হয়ে গিয়েছে আর শরীরের তাপমাত্রা পাঁচ গুন হারে বাড়তে থাকে। আমি একটু সাহস করে বলতে থাকলাম:

কে আমার সাথে এমন করছো?
সাহস থাকলে সামনে এসো।
তখনও আমি কারো কোন সাড়া শব্দ পাচ্ছি না আর চারপাশে শব্দটা যেন আস্তে করে আমার কাছে আসতেছে আমি এরকম অনুভব করছি।
এখন আর আমার মুখ দিয়ে কোন আওয়াজ বের হচ্ছে না। আমি বুঝতে পারছি আমার সাথে কিছু উল্টোপাল্টা হচ্ছে ।

আমার শরীর থরথর করে কাপতে থাকে।
কান্না করতে-করতে বলছি..
কে? কে ওখানে?
দয়া করে এই শব্দ বন্ধ করো।

ঠিক তখনই টর্চ লাইটা পানিতে ধরলাম। দেখতে পেলাম ওই মাছটা আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। আমি ভয় পেয়ে হুট করে নৌকার এক কোণা থেকে আরেক কোনায় চলে গেলাম। কি ভয়ংকর দেখতে মাছটির মুখটা আর কেমন করে যে হা করে আছে, হয়তো ভাষা দিয়ে বলে বোঝানো যাবে না।

আমার কাছে মনে হচ্ছে মাছটা হয়তো একটু দূরে চলে গেছে এখন পিছন দিকে ফিরে যাই। মনের মধ্যে ভয় লেগেছিল তাই আবার পানিতে টর্চলাইটা ধরলাম।
কি অদ্ভুত ব্যাপার পানিতে টর্চ লাইটটা ধরতেই দেখতে পেলাম পুরো পানি জুড়েই শুধু মাছ আর মাছ, সবগুলোই যেন হা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এই দৃশ্য দেখে আমি হিমশিম খেয়ে গেলাম মুখ থেকে আর চিৎকার বের হচ্ছে না।
বের হচ্ছে সারা শরীর থেকে ঘাম।

এত বড় মাছ আর মাছ গুলোর মাথা এত বড় হয়তো এ জনমে এত বড় মাছ আমি দেখিনি। আমি দ্রুত নৌকাটা পিছন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু কোনভাবেই নৌকাটা নড়ছে না। আমি আবার টর্চ লাইট দিয়ে পানিতে দেখতে লাগলাম বিষয়টা কি হয়েছে। নৌকা থেকে দেখতে পেলাম আমার পুরো নৌকাটা একটা বড় মাছের উপরে আছে আর মাছের মুখটা আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে যেন আমাকে আস্ত গিলে ফেলবে।

এই দৃশ্য দেখার পরে আমার মুখ থেকে অনর্গল চিৎকার বেরোচ্ছে হয়তো বাইরে কোথাও শোনা যাচ্ছে না কিন্তু আমার ভিতর থেকে খুব চিৎকার বের হচ্ছে আর চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে। সারা শরীর ঘামে একাকার হয়ে গিয়েছে এমন ভয়ানক পরিস্থিতির মাঝে হয়তো আমি আমার জন্মেও পরি নাই।

ঠিক এমন সময়ই একটা মাছ পানি থেকে উঠে ঠিক আমার সামনে বিশাল আকার ধারণ করে। আমি এটা দেখে প্রচন্ড ভয় পেয়ে যাই আর থরথর করে কাপতে থাকি। হয়তো এটা পৃথিবীর সব থেকে বড় মাছ আর সবথেকে ভয়ঙ্কর। এমন করে হা করে তাকিয়ে আছে মুখ থেকে রস ভেয়ে পড়ছে। কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থেকেই আমাকে আমার নৌকাসহ হাঁ করে গিলে ফেললো।

আমার মুখ থেকে কোন আওয়াজ বের হচ্ছে না। মনে হচ্ছে যেন পাতালপুরীতে চলে যাচ্ছি ..

চলবে __

গল্প: মরাখলা খাল (ভৌতিক ঘঠনা অবলম্বনে একটি খালের সহস্য)
পর্ব: ২য় পর্ব
লেখক: SM Rony Chowdhury

সম্পূর্ণ গল্পটি কাল্পনিক বাস্তব চরিত্রের সঙ্গে কোনো মিল নেই। এ রকম ভালো গল্প পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের পাশে থাকুন এবং সবসময়ই নোটিফিকেশন চালু করে রাখুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here