কোন স্বপ্ন দেখলে কি হয়? স্বপ্নের ব্যাখ্যা করলেন মিজানুর রহমান আজহারী

342

প্রশ্ন: আমরা যারা সাধারন মানুষ, আমরা তো স্বপ্ন দেখি! তো এই স্বপ্ন সত্যি কি না?

স্বপ্নের মধ্যে একটা প্রকারভেদ আছে তবে একটা প্রকারভেদ হলো অনর্থক স্বপ্ন। এইটা সাধারণত সারাদিন একটা মানুষ যায় করে সেটার একটা প্রভাব রাতের বেলায় হয়। একজন খুব ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়, সে ঘুমের মধ্যে ছক্কা মারচ্ছে।
একজন ফুটবল খেলে তো ঘুমের মধ্যে দেখা যায় সে বলের মধ্যে লাথি মারছে। যদি সারাদিন কেউ বেশি ইংরেজি পড়ে কিংবা আরবি পরে ঘুমের ঘোরে দেখা যাচ্ছে ইংরেজি পড়ছে। আসলে এটা একটা প্রতিফলন হয় আর এগুলোকে বলা হয় অনর্থক স্বপ্ন এগুলোর কোনো ব্যাখ্যা হয় না। এগুলো সবার ক্ষেএেই লক্ষ্য করা যায়।

তবে মিজানুর রহমান আজহারীর মতে, মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়াতের ৪৬ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ মুমিনের স্বপ্ন আর কাফের স্বপ্নের পার্থক্য রয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধানের স্বপ্ন এবং সাধারন জনগনের স্বপ্নে অনেক পার্থক্য রয়েছে। স্বপ্নটা আপনি কখন দেখেছেন মানে কোন সময়ে দেখেছেন সেটারও একটা বিষয় আছে। স্বপ্নটা এসব কিছু বেঁধেই হয়ে থাকে।

তবে হাদীসে কিছু আলামত পাওয়া যায় যদি আপনি স্বপ্ন দেখেন আপনার দাঁত পড়ে গিয়েছে এটা আপনার জন্য একটা খারাপ স্বপ্ন। আপনার সাথে কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে মৃত্যুর আশঙ্কাও থাকে। এরকম কিছু হতে পারে, তবে দাঁত পড়লে আপনি যে মারা যাবেন কিছুদিন পরে এটা সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা যায় না।

আপনি যদি স্বপ্নে দুধ খেতে দেখেন তাহলে এতে আপনার জ্ঞান বাড়বে।
বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু স্বপ্নে দেখেছিলেন উনার আঙ্গুল দিয়ে দুধ বের হচ্ছে তখন তিনি তৃপ্তি সহকারের দুধ খাওয়ার পরে দেখলো আঙ্গুলে কিছু দুধ লেগেছিল, পরে দুধের এই অবশিষ্ট অংশটুকু তিনি ওমর ফারুকের মুখে লাগিয়ে দিলেন। (বুখারি হাদিস)

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহ এটা দিয়ে জ্ঞানের ব্যাখ্যা করলেন, দুধ খেলে জ্ঞান বাড়ে ওমর ফারুক যে অনেক জ্ঞানী ছিল এটা বোঝা যায়।

আপনি স্বপ্নে যদি দেখেন আপনার জামা ডিলে-ডালা হচ্ছে তাহলে বুঝবেন আপনার দ্বীনদারী বাড়ছে। বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু স্বপ্নে দেখলেন যে, লাইন ঘরে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে কারো জুব্বা নাভি পর্যন্ত, কারো কোমর, কারো হাটু, কারো পা পর্যন্ত তখন তিনি খেয়াল করলেন ওমর ফারুকের জুব্বা অনেক ডিলে-ডালা অনেক লম্বা টেনেহিঁচড়ে আসছে। (বুখারি হাদিস)

তখন সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল এটা দ্বারা আপনি কি ব্যাখ্যা করলেন?

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহ বললেন, এটা দ্বারা তিনি দ্বীনদারি ও তাকওয়া ব্যাখ্যা করলেন।আর যদি আপনি স্বপ্নে দেখেন আপনার জামা কমে যাচ্ছে তাহলে বুঝবেন আপনার দ্বীনদারী কমে যাচ্ছে।

তবে সর্বোপরি কথা হচ্ছে স্বপ্নের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে পানাহ করা। বিশ্বনবী সবার উদ্দেশ্য করে বলেছেন স্বপ্ন ভালো হোক বা খারাপ হোক এটা অন্য কারো কাছে শেয়ার করা যাবে না।

তবে কোন বড় জাতের আলেম বা কোন শুভাকাঙ্ক্ষীর ছাড়া কোনভাবেই স্বপ্ন শেয়ার করা যাবে না।কেননা স্বপ্নের ব্যাখ্যা তেমনি হয়ে থাকে যেমন তার ব্যাখ্যা করা হয়।

আপনি কারো কাছে স্বপ্নটা শেয়ার করবেন তখন সে হুটহাট করে একটা ব্যাখ্যা করে দিবেন দেখা যাবে ঐরকমই হয়ে যাবে।তাই যেন কখনো না জেনে ব্যাখ্যা করতে নেই। অপ্রয়োজনের স্বপ্নের কথা বা ব্যাখ্যা কারো কাছে জানতে নেই।

মুহাম্মদ ইবনে শিরিনের সময়ে দুজন লোক একই স্বপ্ন দেখলো। একজন বললো তার ছেলের পেট ফুলে অনেক বড় হয়ে গিয়েছে ঠিক একই স্বপ্ন আরেকজনও দেখলো।

তো একজন এক মূর্খ লোকের কাছে গিয়ে বললো, তিনি তাঁর স্বপ্নের দেখেছেন ওনার ছেলে পেট ফুলে বড় হয়ে গেছে তখন ওই মূর্খ লোকটি বললো তাই নাকি ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখেছো তুমি। তোমার ছেলে তো মারা যাবে। ঠিক কিছুদিনের পরে ওই সন্তান মারা।

আর এই একই স্বপ্ন অন্য লোকটি ওই স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাইলেন মুহাম্মদ ইবনে সিরিন এর কাছে তখন তিনি বললেন তোমার ছেলের পেট ফুলে গিয়েছে! তোমার ছেলে তো বড় আলেম হবে। ঠিকই তার ছেলে জগৎ বিখ্যাত আলেম হয়েছিল এজন্য স্বপ্নের কথা গুলো কারো সাথে শেয়ার করা ঠিক না।
স্বপ্নের ব্যাখ্যা তেমনি হয়ে থাকে যেমন তার ব্যাখ্যা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here