গল্প: স্বামী যখন পরিস্থিতি শিকার (৩য় পর্ব)

446

এই অবস্থায় বাদশা কিছু বলছে না কেননা তার এই বিয়েটা করাই ভুল হয়েছে যদিও তার এই বিয়েটা রিলেশনশিপে হয়েছে।

তারা কিছুদিনের সম্পর্কে ভেবেছিল একে অপরকে ভালোবেসে থাকবে কিন্তু ওই মহিলাটা মানে শেলিনা এত খারাপ মহিলা হবে তার জানা ছিল না।

যে কিনা যেখানে যাই সেখানেই সম্পর্ক করে বসে থাকে যার কোন আত্মবোধ নাই। সে কি করে সমাজে মুখ দেখাবে

আর এই খারাপ মহিলা সমাজে মুখ দেখাবে কি করে। শেলিনার কাছে সবটাই খারাপ, সবটাই ভালো হয়তো ওর পরিবার টাই খারাপ ছিল সেজন্যই মহিলাটা খারাপ হয়েছে।

তবে এখানে একটা ভদ্র ফ্যামিলি যেখানে সমাজে অনেক মূল্য পেত সেটাকে এই মহিলাটি ভেঙেচুরে খান-খান করে দিচ্ছে।

এই মহিলাটির কারণে বাদশার জীবন ভেঙ্গে পড়ল আর ওইদিকে বাদশার বোন অবন্তিকার জীবনও ভেঙে পড়লো কেননা সেও এখন বাদশাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে ।

ওর স্বামীর বাড়ি থেকে ওকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওর স্বামীর বাড়িতে ওই মহিলা মানে সেলিনা স্থান দখল করে নিয়েছে।

অবন্তিকার স্বামীর ছোট্ট একটা দোকান আছে। তেমন পরিমাণের অর্থ উপার্জন করতে পারেন না, বলতে গেলে দিন আনে দিন খায়।মাঝে- মাঝে খাবার ও পায় না তবে সেখানে অবন্তিকা একটু কষ্ট হলেও গুছিয়ে নিয়েছিলো পরিবারটা।তার স্বামী তাকে মারধর করতো কিন্তু এসব কিছুকে সে মানিয়ে নিয়েছিল।

ও বলাই হয়নি অবন্তিকার স্বামীর বাড়ির পাশের বাড়ি ছিল শেলিনাদের বাড়ি। তাদের ছোটবেলা থেকেই একটা সম্পর্ক ছিল কিন্তু তারা দুর্ভাগ্যবশত তারা এক হতে পারেনি কিন্তু এখন সেই প্রেম আবার উথলে পড়েছে ।

এখন এই অবন্তিকার জায়গায় সেলিনা গিয়ে অবন্তিকাকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
বেচারা অবন্তিকা খুব কষ্ট পেয়েছে।

বাদশা অনেকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে কিন্তু কোনভাবেই শেলিনার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না আর যদিও ফোন রিসিভ করে থাকে তাহলে উল্টাপাল্টা অনেক কিছুই বলে। বাদশাকে অনেক বকাঝকা করে বলে কিনা সে ওখানে খুব সুখে আছে। সেখানে থেকে সে আসতে চায় না।
বাদশা যেন তার সঙ্গে কোন যোগাযোগ না করে তাতে শেলিনা ভালো থাকবে ।

আর এদিকে বাদশার বাচ্ছাগুলো খুব চেঁচামেচি করে তার মায়ের জন্য, তিনটা মেয়ে তার, একটা ক্লাস সেভেনে পড়ে আর ছোট দুইটা এখনো অনেক ছোট ।

বাদশা এই মহিলাকে বিয়ে করেই ওর জীবন টাকে সে নিজেই ধ্বংস করে ফেলেছে কেননা মহিলাটা অন্যরকম ছিল। কতজনের সাথে সম্পর্ক করেছে সেটা হয়তো সেও নিজেও বলতে পারবে না। এরকমই ওই মহিলা টা কিন্তু কি করবে বিয়ে করে ফেলেছে, এখন তো বাচ্চাকাচ্চা হয়ে গিয়েছে সংসার করতেই হবে।

সেজন্যেই সম্পর্কটা তাদের এতদূর নিয়ে এসেছে কিন্তু এভাবে এই দিনে এই সময় তাদেরকে ছেড়ে শেলিনা চলে যাবে বাদশা ভাবতে পারেনি।

এদিকে বাড়িতে তার বোন অবন্তিকা এসে হাজির তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওদিকে সেলিনা ওখানে বাসা বেধেছে।

বাদশা এখন কি করবে বেচারা অফিসে যায় মন খারাপ করে, অফিস থেকে আসে মন খারাপ করে, বাসায় এসে দেখে বাচ্চাগুলো কান্না করছে ওদেরকে সান্তনা দেওয়ার মতো কেউ নেই কি করবে সে এখন!

আর এদিকে সেলিনা তার দুলাভাইয়ের ঘরে থাকছে। এ ঘটনা বাদশাদের সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে, রটিয়ে গিয়েছে সব জায়গায়। আশেপাশে মহল্লা গুলো আর বাকি নেই এই ঘটনা জানার।

কিন্তু বাদশাহ কি করবে, না পারছে শেলিনাকে ফিরিয়ে আনতে, না পারছে নতুন করে বিয়ে করতে, কেননা এ বাচ্চাগুলো যে অনার্থ হয়ে যাবে তিনটা বাচ্চা তার তিনটাই মেয়ে।

সে কি করবে কিছু করার মত ক্ষমতা তার নেই। সমাজের চোখে সে মুখ তুলে তাকাতে পারছে না সারাদিন রুমে থাকে এবং রুম থেকে শুধু অফিসে যায় আর অফিস থেকে এসেই রুমে বসে থাকে।

এভাবে কিছুদিন কাটতেছে বাদশার তবে এখন আর সে বাড়িতে আসে না তার বাচ্চাগুলো এখন দেখাশোনা করে তার ভাইয়ের বউয়েরা। সে এখন আর এই পরিস্থিতি নিতে পারছে না। সে এখন তার অফিসের কাছে একটি রুম ভাড়া নিয়ে থাকে যেহেতু বাড়িতে আসলেই মানুষ নানান কথা বলে এবং সে এগুলো সহ্য করতে পারে না।

এভাবেই দু মাস কেটে গেল, একদিন বাদশা ফোন দিয়ে শেলিনাকে বললো অনেক তো হয়েছে এবার চলে এসো, তোমার বাচ্চা গুলো খুব কান্না করছে তোমাকে পাওয়ার জন্য শোনো যেটা হয়েছে সেটার কারণে আমি তোমাকে আর কিছইু বলবো না। আমি শুধু চাই তুমি ফিরে আসো।

তোমার রাগ হয়তো এখন একটু কমেছে, জানি সমাজের চোখে আমার মুখে চুলকানি লাগিয়ে দিয়েছো কিন্তু কি করব বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ো হয়তো তোমাকে এখানে ফিরে আসতে হবে। তোমার হয়তো বাচ্চাদের প্রতি একদমই মোহাব্বত নাই কিন্তু বাচ্চারা যে তোমাকে চায় সেটা কি তুমি একবারও দেখবে না।

এভাবে অনেকবার বুঝাতে থাকে বাদশা কিন্তু শেলিনা তার কথা বুঝতে চায় না।।

তবে যখন সেলিনা দেখতে পেল অবন্তিকার স্বামীর ঘরে খুব অভাব।ওর স্বামীর আয়-রোজগার খুবই কম, দিন আনে দিন খায় কিন্তু তার খাওয়া-দাওয়ার চাহিদা খুবই কমে যাচ্ছে সে চিকন হয়ে যাচ্ছে, রোগা হয়ে যাচ্ছে।

সে ভাবলো এভাবে থাকলে হয়তো সে একদিন মারা যাবে সেজন্য সে চিন্তা করলো বাদশার এখানে আবার ফিরে যাবে।বাদশা তো বারবার ফোন দিয়ে তাকে বলছে চলে আসছে ।

তাই সে আর দেরী না করে চলে গেলো আবার বাদশার কাছে। বাদশা যেখানে নতুন রুম নিয়েছিল সেই রুমে সে চলে আসে।

বাদশা খুব খুশি হলো শেলিনা তার এখানে আসাতে কেননা তার বাচ্চা গুলো একটু শান্তি পাবে এখন।

সে তার দুইটা মেয়েকে তার এখানে নিয়ে আসলো আর বড় মেয়েটা তাদের এই বাড়িতে রেখে দিল ওখানেই থেকে লেখাপড়া করবে ।

বিশেষ করে ছোট দুটো মেয়ে বেশি কান্নাকাটি করে সেজন্যেই ওদেরকে এখানে নিয়ে আসা, এভাবে বাদশা এবং সেলিনা আবার সংসার শুরু করলো।

বাদশা মনে-মনে শেলিনাকে খুবই ঘৃনা করে কেননা এরকম একটা দুশ্চরিত্রা মেয়ের সঙ্গে সে কি করে সংসার করতে পারে। যে মেয়ে কোন কথা ছাড়াই অন্য জনের সাথে চলে যেতে পারে একদিন নয় দুই মাস থাকতে পারে, কেমন মেয়ে হতে পারে শেলিনা সে তা হারে-হারে বোঝে গিয়েছে ।

এখন শুধু বাচ্চাদের জন্য শেলিনাকে এখানে নিয়ে আসা হলো, না হলে বাদশা কখনোই তাকে এখানে নিয়ে আসতো না। কেননা বারবার তার পরিবার তাকে সম্পূর্ণভাবে নিষেধ করে দিয়েছে যে এই মহিলা এই বাড়িতে যেন আর না আসে ।

কিন্তু বাদশা কি করবে বাচ্চাদের জন্য হলেও এই মহিলাকে সে আবার নিয়ে এসেছে কিন্তু তাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসতে পারেনি।

এদিকে তার বোন অবন্তিকাকে তার দুলাভাই নিয়ে যাচ্ছে না, ওখান থেকে খবর পাওয়া গেল অবন্তিকা কে ডিভোর্স দেবে।

চলবে __

গল্প: স্বামী যখন পরিস্থিতি শিকার
পর্ব : ৩য় পর্ব
লেখক : S M Rony Chowdhury

গল্পটিতে একটি সমাজের একটি পরিবারের ঘটনা টা তুলে ধরা হয়েছে। দয়া করে পুরো গল্পটি পড়ার অনুরোধ রইল। সম্পূর্ণ গল্পটি আমাদের এই ওয়েবসাইটে আপনি পাবেন প্রতিদিন একটি করে পর্ব দেওয়া হবে।

আর আমাদের এই ওয়েবসাইটে ভালো-ভালো গল্প পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here