গল্প: ভাবি যখন বউ _১৬ তম পর্ব (সমাজ থেকে নেওয়া)

1001

তখন সুমন নিজ দিকে তাকিয়ে আছে কিছুই বলছে না যেন তার মুখ কেউ বন্ধ করে দিয়েছে।

এই মুহূর্তে রুম থেকে বেরিয়ে আসলো সুজন এবং সুজনের মা সবাই সেখানে উপস্থিত ছিল। সবাই বলতে ছিল মেয়েটা উল্টা-পাল্টা বলছে কিন্তু যখন রেখা সুমন কে জিজ্ঞেস করল এ ব্যাপারে।

রুপা: কি হলো সুমন কিছু বলছো না কেন। এই মহিলাটা কি বলছে।

তখনো সুমন বললো: আরে এই মেয়েটা মিথ্যা কথা বলছে এ খুব বাজে একটা মহিলা। আমাকে ফাসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে তোমরা কেউ এর কথা বিশ্বাস করো না এর আগেও আমার এক বন্ধুকে এরকম ব্ল্যাকমেইল করেছে এখন আমার কাছে এসে এসব করছে। জনি না এসব করে কি পায় সে।

এই সমস্ত মেয়েদের জন্য রাস্তাঘাটে বের হওয়া যায় না পযন্ত, সুন্দর একটা ফ্যামিলি নষ্ট করে দিতে এসেছে।
এই মেয়ে শোন এতক্ষণ তো কিছুই বলছি না এখন বলছি বেরিয়ে যা, না হয়তো ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব।

তখন সুজন বললো মানুষ তো শুধু-শুধু এভাবে কারো উপর জোরজাবস্তি করতে পারে না, কেউ কাউকে এভাবে অপরাধ চাপিয়ে দিতে পারে না হয়তো তুমি কোনো ভুল করেছো সেজন্যই এই মহিলাটি এখানে এসেছে।

সুমন:আরে আমি কোন ভুল করিনি। কোত্থেকে এই আপদ এসেছে আমি নিজেও জানি না। আমি শুধু একে চিনতাম মাত্র কিন্তু এইসব কি বলছে মেয়েটা হয়তো এখন পুরোটাই পাগল হয়ে গিয়েছে। আর বুঝলাম না এধরনের কথা বলার সাহস কি করে হয়েছে।

অবন্তিকা: তাই, এখন আমাকে পাগল বানাচ্ছ আমি পাগল হয়ে গেছি তাই না!
ঠিক আছে আমি এবারের মতো চলে যাচ্ছি আমি আবার আসবো, তখন আমি দেখিয়ে দেবো কে পাগল আর কে পাগল না। আমি এত সহজে তোমাকে ছেড়ে দিচ্ছি না সুমন, আমি তোমাকে দেখে নেব। আমি পুলিশের কাছে যাবো আমি তোমার বিরুদ্ধে মামলা করবো এখন আর কিছু বলতে চাই না গুডবাই ।

এই বলে মেয়েটি সেখান থেকে চলে যায় কিন্তু এখানে যারা উপস্থিত ছিল, সবাই এখন সুমনের দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে যেন সুমনকে সবাই গিলে ফেলবে।

এই মুহূর্তে রূপা গিয়ে সুমন একটা জোরে থাপ্পড় মারে আর বলতে থাকে কি বললো এই মেয়েটা কথা কি সত্যি নাকি?

সুমন কিছু বলছে না নিজ দিকে তাকিয়ে আছে তার মানে বুঝতে পারলো তারা, যে কথাগুলো সত্যি বলেছে। সুমন এতটা খারাপ কি করে করতে পারলো।

প্রথমে রুপা একদমই বিশ্বাস করতে পারছিল না, কিন্তু সুমনের এই অবস্থা দেখে আর কিছু বুঝার বাকি রইল না।

থাপ্পড়টা দিয়ে রুপা দৌড়ে তার রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে কান্না করতে থাকে আর এদিকে সুমন বেরিয়ে পরলো বাড়ি থেকে।

সুজন মনে-মনে অনেক খুশি। যাক বাবা এখন তো একটা কিছু হবে। হা, হা এখন শুধু আমি দেখে যাবো সিনেমা। তারাই নায়ক তারাই ভিলেন আমি শুধু দর্শক।
সব শেষে রুপা আমার হবে ।

এদিকে সুজন এবং সুমনের মা কিছু বলছে না। কেননা এখানে কিছু বলার মতো তিনি ভাষা় খুঁজে পাচ্ছেন না। তার ছেলে এতটা নিচু মানের একটা কাজ করতে পারবে সেটা তিনি একদমই বিশ্বাস করতে পারছেন না। আর এই নিয়ে কী বলবেন এটা তো খুবই জঘন্য কাজ।

নিজের ছেলে সম্পর্কে একজন এসে উল্টাপাল্টা বলে গেল তার নিরবে সহ্য করতে হলো আজ।তিনি শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছু না বলেই রুমে চলে গেলেন। আসলেই ঔ অবস্থায় উনার কিছুই বলার নেই কেননা নিজের সন্তান এরকম হতে পারে সেটা কখনো ভাবতে পারেন না।

যাক পুরো ঘরটা কেমন শান্ত হয়ে গেছে কোথাও কোন আওয়াজ নেই যেন নিস্তব্ধ বাড়িতে কেউই নেই যেন বড়ই অদ্ভুত।

এদিকে সুমন দৌড়ে গিয়ে অবন্তিকার বাড়িতে যায়। সুমন গিয়ে দেখে অবন্তিকা সেজেগুজে বসে আছে বিছানার উপরে।

সুমন: তুমি আমার বাড়ির এড্রেস কি করে জানলে? আর কি করেছ তুমি এটা?
তুমি তো আমার জীবনটা একেবারে শেষ করে দিয়েছো?

অবন্তিকা: বেশ করেছি। আর কতদিন আমি এভাবে বসে থাকবো, কতদিন তুমি আমাকে এভাবে ছলনা করে ঘুরাবে?
আমি তো আর বসে থাকতে পারছি না। সুমন আমি আর বসে থাকতে পারছি না এখন সময় এসে গেছে কিছু একটা করার। তুমিও যখন কিছু একটা করো নাই তাই এখন আমি একটা কিছু করে দেখাবো।

সুমন: প্লিজ এইসব করো না। আমার সংসারটা ধ্বংস হয়ে যাবে। আমার ছেলেটা অনার্থ হয়ে যাবে তুমি এসব বন্ধ করে দাও প্লিজ অবন্তিকা ।

অবন্তিকা: প্লিজ বললে যদি সবকিছু হয়ে যেত তাহলে তো ভালোই হতো।

সুমন: দেখো আমি তোমার সাথে অনেক অন্যায় কাজ করেছি সেজন্য তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও তারপরও আমার থেকে তুমি সরে যাও। তুমি অন্য কারো পিছনে লেগে যাও তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না।

অবন্তিকা: এইসব কি বলছো তুমি?
আমি দীর্ঘ সাত বছর তোমার কাছে পার করেছি, তোমার অপেক্ষায় আমি বসে ছিলাম এবং তোমার জন্য আমি সব স্বীকার করেছি। আমার এত সম্পদ, বাড়ি গাড়ি সব কিছুই তোমাকে দেবো বলে আমি স্থির করেছি, আর তুমি আমার সাথে সারা বছর ধরে এভাবে দূরে চলে যাবে আমি কি কখনো হতে দেব? যদিও অনেক দিয়েছি আর এটা হবে না । হা,হা ..

খুব ভালো লাগে মেয়েদের নিয়ে খেলতে তাই না এখন বুঝতে পারবে আমি কি জিনিশ। আমি কালকেই যাব থানায় দু’চারটা পুলিশ নিয়ে যাবো তোমার বাড়িতে তারপরে তুমি ঠিক হয়ে যাবে।

সুমন: প্লিজ অবন্তিকা এমন কিছু করো না। বাড়িতে আমার মান-সম্মান একদম পচে যাবে। সমাজে আমি চোখ দেখাতে পারব না। আমাকে সবাই ঘৃনা করবে।

অবন্তিকা: তোমার কাছে দুইটা সুযোগ আছে:
একটি হলো সব ছেড়ে আমার কাছে চলে আসবে।
দ্বিতীয় টি হলো চুপ করে বসে থাকবে আর দৌড়ানি খেয়ে যাবে।

তুমি সিদ্ধান্ত করে নাও এখন তুমি কোনটা করবে আর কখনো তুমি আমাকে ভুলেও এটা বলবা না যে আমাকে তোমার ওই নরক বস্তিতে নিয়ে যেতে।

আমার এই সহায়-সম্পত্তি ছেড়ে আমি কোথাও যেতে চাই না বরংচ তুমি এখানে চলে আসবে, যদি না আসো সব ছেড়ে তাহলে দেখিয়ে ছাড়বো আমি অবন্তিকা কি করতে পারি।

সুমন: কি বলছো তুমি! এসব তোমার মাথা ঠিক আছে! প্লিজ আমার সাথে তুমি এরকমটা করো না। আমি মানছি তুমি এখন একটু বেশি শিহরিত এ বিষয়টা নিয়ে।প্লিজ অবন্তিকা তুমি একটু ঠান্ডা হও।

এইসব কথা বলে সুমন অবন্তিকার পাশে গিয়ে বসলো আর একটু রোমান্টিক কথা বলতে শুরু করল।

অন্যদিকে রুপা কান্নাকাটি করতে-করতে ভাবলো নিশ্চয়ই সুমন এখন তাহলে ওই বাড়িতে গিয়েছে, তাহলে আমাকে একটু গিয়ে দেখে আসতে হবে তাদের মাঝে কিসের সম্পর্ক।

রুপা ভাবলো আমি তো চিনি না কোথায় ওই মেয়ের বাড়ি, কে আমাকে নিয়ে যাবে। তখন রুপা সুজনের রুমে গিয়ে বললো: আমাকে একটু হেল্প করবে প্লিজ আমি খুব বিপদে আছি।

সুজন ভাবল এই শুরু হয়ে গেলো আরো শুরু হবে শুধু অপেক্ষা করো রুপা তুমি আরো অনেক কিছু দেখতে পারবে।

সুজন বলল: হ্যাঁ, বলো অবশ্যই করবো।
রুপা: আমাকে নিয়ে চলো তো তোমার ভাইয়া কোথায় গিয়েছে সেখানে।
সুজন: আমার মনে হয় নিশ্চয়ই ওই মেয়েটার কাছে গিয়েছে ওই মেয়েটার বাড়িতে।

রুপা; আমারও তাই মনে হচ্ছে তুমি কি চিনো? আমাকে নিয়ে যেতে পারবে?

সুজন: আমি কি করে চিনবো। তবে মনে হয় একটু খোঁজাখুঁজি করলে পাওয়া যেতে পারে।

রুপাঃ আচ্ছা ঠিক আছে আমি রেডি হয়ে আসছি তুমি রেডি হয়ে নাও একটু আমরা খোঁজাখুঁজি করে আসি দেখি কোথায় গিয়েছে।
সুজন: ঠিক আছে।

রুপা আর সুজন রওনা হল সুমন কোথায় গিয়েছে তা দেখার জন্য।
সুজন তো জানে ওই মেয়েটার বাড়ি কোথায় কিন্তু রুপাকে তা বুঝতে দিচ্ছে না কেননা যদি রুপা এটা বুঝে ফেলে তাহলে তো সন্দেহ করবে সেজন্য সে রুপাকে একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ওই বাড়িতেই নিয়ে যাচ্ছে।

আর এদিকে সুমন অবন্তিকা কে বোঝাতে না পেরে অবন্তিকা’কে করজোড়ে অনুরোধ করছে।

কিছুতেই অবন্তিকার রাগ কমছে না। অবশেষে সুমন একেবারে অবন্তিকার কাছাকাছি বসে বলতে লাগলো।

ঠিক এমন সময়ই রুপা এবং সুজন এসে হাজির হলো তারা জানালা দিয়ে দেখছে ওরা কি কথা বলছে।

সুমন অবন্তিকার পাশাপাশি বসে বললো শোনো অবন্তিকা তোমার কথা আমি রাখবো। আমি সব ছেরে তোমার কাছে ছুটে আসবো,

চলবে _

গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন 3)
পর্ব: ১৬ তম পর্ব
লেখক: S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here