গল্প: ভাবি যখন বউ_১৫ তম পর্ব (সমাজ থেকে নেওয়া)

604

অবন্তিকা’কে অপমান করে সুমন বেরিয়ে গেল এবং বলে গেল ছিল সে যেন তাকে আর বিরক্ত না করে। বেচারা এখন মেঝেতে পরে কান্না করছে। এখন কি হবে তার আর পেটের সন্তানের কি হবে?
কে হবে এই সন্তানের বাবা, সে খুব চিন্তায় পড়ে গেলো এবং খুব কান্না করছে। কিন্তু সে খুব সাহসী মেয়ে, এত সহজে হার মেনে নিতে পারে না।

এদিকে বাহিরে দাড়িয়ে ছিল সুজন। সে হাটি-হাটি পায়ে এগিয়ে চললো ওই ঘরের দিকে, সে দেখতে চায় কেন তার ভাইয়া এখানে আসে আর কি করে এখানে এসে এসব প্রশ্ন তার মনের মধ্যে আলোরণ সৃষ্টি করছে। সুজন একটু এগিয়ে দেখতে পেলো, একটি মেয়ে কান্না করছে যেন খুব কষ্টে আছে মেয়েটি।

তখন সে দরজার সামনে গিয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে এবং বললো:

আসলে আমি আপনাকে চিনি না কিন্তু আপনার এখানে যে একটু আগে এসেছিল তাকে আমি চিনি সে আমার আপন ভাই হয় ।।

জানি এই মুহূর্তে আপনাকে বিরক্ত করা আমার একদমই ঠিক হচ্ছে না কিন্তু কি করবো বলেন আমাকে যে জানতেই হবে আপনার সঙ্গে তাঁর কীসের সম্পর্ক!

এখন অবন্তিকা তার দিকে মুখ তুলে তাকালো এবং কান্না ভাব নিয়ে বলতে লাগলো:

অবন্তিকা: তুমি সুজন??
সুজন: জি আমি সুজন, কিন্তু আপনি আমাকে চিনলেন কি করে? আমার তো এর আগে আপনার সাথে কখনো দেখা হয় নাই।

অবন্তিকা: আমি তোমার কথা অনেক আগে থেকেই শুনেছি তোমার ভাইয়ের মুখে আর এতদিন তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করেও ছিল। কিন্তু কখনো তোমাকে দেখতে পারি নাই।

সুজন: ও আচ্ছা। তবে আপনি আমার ভাইয়ার কি হন? কেন আমার ভাইয়া আপনার কাছে আসে আর আপনার সাথে সম্পর্কটা কিসের?

অবন্তিকা: আমি তোমার ভাইয়া কে ভালবাসি সেও আমাকে খুব ভালোবাসে।

সুজন: তাই, কতদিন ধরে আপনাদের এ ভালোবাসা চলতেছে?
অবন্তিকা: প্রায় 6-7 বছর তো হবেই।
সুজন: এত দিনের ভালবাসা আপনাদের তাহলে আপনারা প্রকাশ কেন করেন নি কেন? আর আপনি কি জানেন না সুমন ভাইয়ের পরিবার আছে সে বিয়ে করেছে!

অবন্তিকা: হ্যাঁ সবই জানি আমি। কিন্তু তোমার ভাইয়া বলে ছিল আরেকটু দেরী করতে কিন্তু দেরি করতে-করতে এখন ধৈর্যের বাহিরে।

সুজন: ও আচ্ছা, এই কথা! তো আপনি এখন এভাবে কান্না করছেন কেন কি হয়েছে আপনার?

অবন্তিকা: তোমার ভাই আমার সাথে প্রতারণা করছে, আমার সাথে চিট করছে। আমি এতদিন তা বুঝতে পারি নাই কিন্তু এখন বুঝতে পারছি। আমি ওকে শিক্ষা দিব। আমাকে এইভাবে ফেলে যাবে আমি কখনো ভাবতেও পারি নাই। আমার সাথে এরকম ছলনা করবে আমি এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না।

আজ আমাকে এভাবে ফেলে রেখে চলে যাচ্ছে। আমার পেটে সন্তান কিন্তু আমি ওকে ছাড়বো নাই। কি ভেবেছে সে এভাবে আমাকে রেখে পার হয়ে যাবে কিন্তু না, সে যেটা ভেবেছে তা কখনোই হবে না। আমি তাকে কোথাও যেতে দেবো না, আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো।

তখন সুজন চিন্তা করল বাহ সুন্দর একটা রাস্তা পেলাম তো ভাইয়াকে সরিয়ে দেওয়ার। যদি ভাইয়া এই মহিলাকে বিয়ে করে তাহলে তো রুপা আমার কাছে চলে আসবে। আমার জন্য এটাই একটা সুযোগ। খুব ভেবে চিন্তে কাজ করতে হবে।

এখন আর আমাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। ভাইয়াকে যদি একে বিয়ে করিয়ে দিতে পারি তাহলে তো রুপা আমার হবে। আমার কাছ থেকে রুপাকে কেউ আলাদা করতে পারবে না।

তখন সুজন ওই মেয়েকে বলল:

আসলে আজ আমার ভাইয়াকে আমার নিজের আপন ভাই বলতে খুবই ঘেন্না হচ্ছে।এত বড় নোংরামি করতে পারে আমার ভাই আমার জানা ছিল না আজ ভাইয়ের পরিচয় দিতে আমার খুবই দ্বিধা বোধ হচ্ছে।

আর শুনুন, ভাইয়া শুধু আপনার সাথেই এরকম করে নাই। সে আরো অনেক জনকে এভাবে ঠকিয়েছে।আমিও আপনার সাথে আছি। আমি আপনার সাথে কাজ করতে চাই। আমি আমার ভাইয়াকে একটা উচিত শিক্ষা দিতে চাই। আপনার যে কোনো প্রয়োজনে আপনি আমাকে পাশে পাবেন।

এই কথা শুনে অবন্তিকা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো যেন সে খুশি হয়ে গেলো, কেননা সুমনের ছোট ভাইকে সে হাত করতে পেরেছে আর কিছু হোক না হোক এখন তো কিছু একটা করে যেতে পারবে।

তারা দুজনে একটা পরামর্শ করে নিল। এবং কালকে একটা পরামর্শ প্রয়োগ করতে চায়। সুজন অবন্তীকা’কে বলে দিয়েছে যে কাল যেন তাদের বাড়িতে গিয়ে তার এই সমস্ত কর্মকাণ্ড প্রকাশ করে। এবং বাড়িতে সবাই থাকবে, তখন দেখবেন কি অবস্থা হয় আর হ্যাঁ আপনাকে কিন্তু ভাল করে সবকিছু বলতে হবে। আমি আপনার সাথে আছি।

সুজনের কাছ অবন্তিকা বাড়ির এড্রেস নিয়ে নিলো এবং ঠিক সেটাই করলো যেমনটা কথা ছিল।

পরের দিন সকাল না হতেই সুমনদের বাসায় কলিংবেল বাজতে লাগল।

কেন জানি আজ হঠাৎ করে রুপা ঘুম থেকে উঠে গিয়েছিল এবং সে দরজা খুলতে গেলো।

রুপা দরজাটা খুলেই অবাক হয়ে,
সে দেখতে পেলো লাল বেনারসি পড়নে, চুলগুলো যেন বাতাসে উড়ছে, কপালে ছোট্ট একটা টিপ দিয়ে, এবং খুব সুন্দর ভাবে সেজেগুজে এক সুন্দরী মেয়ে দাড়িয়ে আছে।

রুপা এই মেয়েকে প্রশ্ন করতে লাগল:

রুপা: কে আপনি? আপনাকে তো চিনতে পারছি না?
অবন্তিকা: আমি অবন্তিকা। আমাকে আপনি চিনতে পারবেন না দয়া করে আপনি সুমন কে ডাকুন ।

রুপা: কেন সুমনকে ডাকবো কেন? আপনি আমাকে বলুন আপনি কার কি হন?
অবন্তিকা:আপনি আগে সুমনকে ডাকুন তারপরেই আপনি জেনে যাবেন আমি কার কি হয়।

রুপা: আরে আজব তো! আপনি অযথা এত কথা বলে যাচ্ছেন কেন আগে আপনি আপনার পরিচয়টা দেন তারপরে না হয় আমি অন্য সবাইকে ডেকে আনছি ।

অবন্তিকা: আমি আপনাকে আমার পরিচয় দিলেও আপনি আমাকে চিনবেন না, দয়া করে আপনি ডাকুন সুমনকে ।

এইসব কথা বলতে-বলতে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছুতেই অবন্তিকা বলছে না যে সে সুমনের কি হয়।

অবশেষে রুম থেকে সুমন বলতে লাগলো এত চেঁচামেচি হচ্ছে কেন? কে এসেছে?

রুপা: আরে দেখা তো কোত্থেকে একটা মেয়ে এসে কি আজব কথা বলছে।
সুমন: কে এসেছে নাম কি ওর?
রুপা: নাম অবন্তিকা।

ভিতর থেকে সুমন আর কোন উত্তর না দিয়ে দ্রুত গতিতে রুম থেকে বেরিয়ে আসলো এবং এসে দেখতে পারলো সুন্দর করে সেজে গুজে অবন্তিকা এসে হাজির।

সুমন তাকে দেখে একেবারে থমকে যায় কি করে এই মেয়েটা তার বাড়ির এড্রেস জানলো। আর কি করেই এখানে চলে আসলো। সর্বনাশ তার তো খবর করে ছাড়বে। সে অনেকটাই থমকে যায় এবং একটু মৃদু সুরে বলতে লাগলো:

সুমন: কি ব্যাপার তুমি এখানে?
এখানে কি করে এলে?
রুপা: তুমি ওনাকে চিনো?
অবন্তিকা: চিনবে না মানে তোমার থেকে বেশি ভালো করে চিনে আমাকে ।
রুপা: মানে কি, আপনি এসব কি কথা বলছেন।

সুমন: আরে থামো তো। কি শুরু করলা আমাদের বাড়িতে এসে তুমি, এখন যাও অফিসের ব্যাপার অফিসে সলভ করব
রুপা: কে উনি?
সুমন: আরে আমার অফিসের কলিগ।
অবন্তিকা: কি আমি তোমার অফিসের কলিগ? দাঁড়াও ভিডিওটা দেখাচ্ছি। তারপরেই তুমি ঠিক হয়ে যাবে এবং ঠিক মতো কথা বলবে।
সুমন: আরে কি করছো কি! যাও সন্ধ্যায় তোমার সাথে দেখা করছি এ বিষয় নিয়ে

রুপা: কিসের ভিডিও দেখাতে চাচ্ছেন? আপনি কি বলছেন আমাকে খুলে বলুন তো। সুমন কি করেছে আপনার সাথে?
অবন্তিকা: কি বলবো এই নরপশুর নামে আমাকে বিয়ে করার ছলনা করে আমাকে সাতটি বছর পার করিয়েছে এবং আমার পেটে আজ বাচ্চা গর্ভধারণ করেছে।

রুপা: আপনি কি উল্টা পাল্টা বলছেন এসব? আপনার মাথা ঠিক আছে নাকি?
অবন্তিকা: জিজ্ঞেস করেন আপনার আদরের স্বামীকে সে কি করেছে আমার সাথে।

তখন সুমন নিচের দিকে তাকিয়ে আছে কিছুই বলছে না যেন তার মুখ কেউ বন্ধ করে দিয়েছে।

রুপা: কি হলো সুমন এই মহিলাটা কি বলছে

চলবে _

গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)
পর্ব: ১৫ তম পর্ব
লেখক: S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here