গল্প: ভাবি যখন বউ_ ১৪ তম পর্ব (সমাজ থেকে নেওয়া)

637

সুমন ও অবন্তীকার বিয়ে হয়নি শুধুমাত্র বন্ধুত্ব ছিল কিন্তু তাদের বন্ধুত্ব এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যার ফলে তাদের মেলামেশা এতটাই বেড়ে ছিল ফলে অবন্তিকা প্রেগনেন্ট হয়ে যায়।

কিন্তু এটাতে অবন্তিকা খুব খুশি হয়েছে কেননা এখন সে সুমনকে একেবারে কাছে আনার হাত করে নিয়েছে। শহরের ডিজিটাল মেয়ে বলে কথা সে কি করতে পারে সেটা তো একটু পরেই দেখা যাবে।

খুব আনন্দ উল্লাসে কেটেছিল তাদের সময়টুকু এবং খুবই আড্ডা মাস্তিতে তারা ভরপুর ছিল বিভিন্ন পার্টিতে, বিভিন্ন সিনেমা হলে, গেস্ট হাউসে তাদের প্রায়ই যাওয়া হতো।

কিন্তু সুমন যখন এই খবর পেল যে অবন্তিকা প্রেগনেন্ট তখন সে আস্তে-আস্তে অবন্তিকার কার কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করল। সে তার বউ রুপাকে সময় দিতে শুরু করল সে এখন খুব কমই রুম থেকে বের হয়।

এখন রুপাও খুব খুশি সে প্রথমে ভেবেছিল হয়তো সুমন তাকে তেমন ভালোবাসবে না। তাকে হয়তো অনেক কষ্ট করতে হবে কিন্তু সে যা দেখল তা দেখে সত্যিই অবাক হয়ে যাচ্ছে। সে দেখতে পেল সুমন তাকে খুবই কাছে পেতে চাচ্ছে এবং সব সময় কাছে থাকে সময় দিচ্ছে কিন্তু কি জন্য যে সময় দিচ্ছে সেটা তো এখনো বুঝেনি।

তবে এখন সুমনের ভালোবাসাটা রুপা পেয়ে সুজনকে ভুলে যাচ্ছে আর এইদিকে সুজন বেচারা পথের ভিখারির মত রাস্তায়-রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, নিজের প্রেমিকাকে আজ বাড়ির বড় ভাইয়ের বউ হিসেবে দেখতে হচ্ছে বড়ই আজব লীলাখেলা। তাই সে বাড়িতেও খুব কম আসে এবং বাড়িতে আসলেও ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে না ।

সে সত্যি কারে ভালোবেসে ছিল কিন্তু রুপা তার ভালোবাসার মূল্য দিল না।
সে রুপাকে এখনো বলে রুপা তুমি সব ছেড়ে আমার কাছে চলে এসো আমি তোমাকে আমার জীবন দিয়ে ভালোবাসবো। আমার থেকে তোমাকে সুখে রাখার চেষ্টা করব কিন্তু তার কথা রুপা তো কোন ভাবে শোনে না শুধু বলে তার বোনের ছেলেকে সে লালন-পালন করবে বিনিময় কিছু পেতে চায় না নিজের জীবনের সব ভালোবাসা সবকিছু বিসর্জন দিতে হলে দিবে ।

রুপা বারবার সুজনকে বলে এ কথা:
তুমি নতুন কাউকে খোঁজো নতুন কারো মাঝে তোমার ভালোবাসা সৃষ্টি করো দেখবে তুমি আমাকে ভুলে যাবে যেমনটা আমিও পারতেছি।

কিন্তু সুজন পারছে না, আসলে হয়তো ছেলেরা যদি কোনো মেয়েকে মন থেকে ভালোবাসে, তাহলে তাকে ছাড়া হয়তো অন্য কাউকে ভালবাসতে পারে না। হয়তো তারই মাঝে তার সবগুলো অনুভূতি নীরবে গেঁথে ফেলে আর তার থেকে যতই ভালো কেউ আসুক না কেন তাকে সে কখনই ভুলতে পারে না কেননা ছেলেরা মন একবারই দিতে পারে, দ্বিতীয়বার আর যে পারে না ।

হয়তো সেটাই ঘটেছে সুজনের সাথে সেজন্য সুজন কোন মেয়ের দিকে ঐরকম ভাবে আর তাকাতে পারছে না, কোন মেয়ের দিকে ওরকম আর হাসি মুখ নিয়ে কথা বলতে পারছে না, তাহলে কি করে হবে প্রেম ভালোবাসা ।

তবে যাই হোক সুজন এবং রুপার সম্পর্কটা আস্তে আস্তে নিচের দিকে চলে যাচ্ছে এই সম্পর্কটা যেমন কেউ জানতো না ঠিক এখনো কেউ জানে না। এভাবেই সম্পর্কটাকে শেষ হয়ে যাবে কি? ভালোবাসা কি আজও এক হতে দেবে না?

তাহলে পৃথিবীতে ভালোবাসা কেন আসে?কেনইবা এ পৃথিবীতে ভালোবাসা আসে আবার কেন এই পৃথিবীতে ভালবাসার জন্য নিজের কলিজার টুকরা কে হারাতে হয়!! কেন সত্যিকারের ভালোবাসা গুলো ভালোবাসাকে কাছে পেতে পারে না!! সত্যিই হয়তো বিধাতার খেলা।।

পরিস্থিতির কাছে সব ভালোবাসায় হেরে যায় কিন্তু যে ভালোবাসা দুটো দিক থেকেই শক্ত মজবুত থাকে তখনই ওই ভালোবাসাগুলো সত্যিকারের ভালবাসায় পরিণত হয়। পৃথিবীর সমস্ত কিছু ওলট-পালট হয়ে গেলেও দুটি মন যদি ঠিক থাকে তাহলে হয়তো ভালোবাসা কেউ ঠেকাতে পারে না। হয়তো এই পৃথিবীতে না হয় দ্বিতীয় প্রজন্মের ভালোবাসা ঠিক এক হতে পারে ।

লাইলি মজনু, শিরি ফরহাদ, দেবদাস, এরা কতইনা ভালোবেসে ছিল কিন্তু তাদের ভালোবাসা পরিপূর্ণ হয়নি। শুধুমাত্র পরিস্থিতির কারণে তারা পরিস্থিতির ফাঁদে ফেঁসে গিয়েছে সেজন্যই তারা এই জনমের ভালোবাসায় এক হতে পারে নাই । যদি তাদের ভালোবাসা সত্যিই ঠিক হয়ে থাকে, সত্যিই যদি পবিত্র হয়ে থাকে তাহলে পরবর্তী প্রজন্মে তারা এক হবেই ।

যাক অনেক তো ভালোবাসা নিয়ে কথা বললাম এবার গল্পে ফিরে আসা যাক।

একদিন রাতের বেলা সুমন ও রুপা রুমে আছে খুব হাসিখুশি ভাবে ওরা আড্ডা দিচ্ছে ওই সময়ে সুমনের মোবাইল ফোনে বারবার কল আসতে থাকে সুমন দেখতে পেল অবন্তিকার নাম্বার থেকে কল আসছে ।

সে কলটা ওই মুহূর্তে কেটে দিল তখন রুপা বলল: কি হলো কে কল দিয়েছে, আর ফোনটা ধরে নাও ..

সুমন: না থাক, আমার কলিক বারবার ডিস্টার্ব করতেছে আমাকে ফোন দিয়ে, আমি বলেছি এই কাজটা আমি করব না কিন্তু তাও আমাকে বিরক্ত করছে ।
রুপা: ওহ, ঠিক আছে।

একটু পরে আবার ফোন আসলো সুমন আবার কেটে দিলো কিন্তু একের পর ফোন এসেই চলছে এখন রুপা বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে বললো:

কি ব্যাপার ফোনটা তোলো, কে ফোন দিয়েছে হয়তো কোন দরকারে ফোন দিয়েছে।
সুমন: আচ্ছা ঠিক আছে তুমি এখানে থাকো আমি কথা বলে আসছি।

সুমন ফোনটা রিসিভ করল এবং অবন্তিকা খুব রাগী অবস্থায় বলতে লাগল: তুমি যেখানেই থাকো না কেন এই মুহূর্তে আমি তোমাকে আমার রুমে দেখতে চাই, ওকে। আমি তোমার আর কোনো কথা শুনতে চাই না ।

সুমন: কি হয়েছে তোমার এভাবে কথা বলছো কেন? কি সমস্যা তোমার রুমে? ওকে ঠিক আছে আমি এখনই আসছি।

এই বলে সুমন তাড়াহুড়া করে এই রাত দশটার দিকে বেরিয়ে যাচ্ছে পেছনদিক থেকে রুপা বলতে লাগলো:

কি ব্যাপার কে ফোন দিয়েছিল আর এখন তুমি এত রাতে বের হয়ে যাচ্ছ কোথায় যাচ্ছ ?

সুমন: একটা জরুরী কাজ আছে আমি এখন আসি। একটু পরেই এসে পড়বো তুমি থাকো, আর আমার ছেলেটাকে দেখে রাখো।

এই বলে সুমন তাড়াহুড়া করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে এবং অবন্তিকার বাড়ি থেকে রওনা হয়।

এদিকে বাড়ির গেইট দিয়ে সুজন ঢুকতে ছিল। এই মুহূর্তে সুমন বেরিয়ে যাচ্ছে বাড়ি থেকে এই রাত দশ টায়। তখন সুজন চিন্তা করল এত রাতে ভাইয়া কোথায় যাচ্ছে সেটা তো আমার দেখতেই হবে এমনিতেই কয়েকদিন পরে-পরে ভাইয়া রাতে বাড়িতে থাকে না, কোথায় যায় সেটা তো আমার জানার খুব ইচ্ছা তাহলে আজ আমি দেখবো সে কোথায় যায় ।

সুমনের পিছন পিছন ছুটে চললো সুজন। আজ সে দেখবে তার ভাইয়া এই রাত্রে বেলা কোথায় থাকে এবং কি করে।

অবশেষে সুমন পৌঁছে গেল অবন্তিকার বাড়িতে আর অন্যদিকে সুজন ওই বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকলো সে ভাবলো ভাইয়া এ বাড়িতে কি করে এখানে তো আমাদের কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই। নিশ্চয়ই অন্য কিছু আছে তা নয় তো সেখানে কি করে ঠিক আছে সেটা দেখেই যাবে আজ। এখানে কি আছে কার কাছে ভাইয়া ছুটে যায়।

তখন সুমন এবং অবন্তিকা মধ্যে খুবই জোর জবরদস্তি হচ্ছে।

অবন্তিকা: এভাবে আর কতদিন চলবে? দিন যাচ্ছে এদিকে আমার প্রসবের দিন ঘনিয়ে আসছে। তুমি এভাবে আর কতদিন লুকিয়ে থাকবে। আমাকে কিছু একটা করো নয়তো আজ আমি সবকিছু সবাইকে বলে দেবো।

সুমন রাগী অবস্থায় বললো: কী করবে তুমি হ্যাঁ ?? কি করার ইচ্ছা আছে আমাকে তোমার ?

অবন্তিকা: তাই বুঝি, এত বড় গলায় তুমি আমার সঙ্গে কথা বলছো।

সুমন: হ্যাঁ বলছি তাতে কি হয়েছে। এত রাতে ফোন দিয়ে বিরক্ত করার মানেটা কি? এখন কেন ফোন দিয়ে এনেছে সেটা আমাকে আগে বলো।

অবন্তিকা: তাই বুঝি, আমি তোমাকে বিরক্ত করছি। এতদিন তুমি আমাকে বিরক্ত করছিলে এখন আমি তোমার কেউ না তাইতো। ওকে এখন দেখতে পারবা আমার খেলা আমি কি করতে পারি এবং কি করাতে পারি। সেটাই তোমাকে এখন দেখবো দাড়াও তোমার আর আমার এই ভিডিওটা আমি তোমার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি এবং দেখাবো তুমি কতটা নিচু মানের ছেলে হতে পারো।আমি তোমার ছদ্দবেশী মূখুশ খুলে দেব ।

সুমন: বাহ! তুমি তো এখন ব্ল্যাকমেল শুরু করছো আমার সাথে এসব কিন্তু কথা ছিল না অবন্তিকা।

অবন্তিকা: কোনটা কথা ছিল আর কোনটা কথা ছিল না সেটা কিন্তু আমার একদম জানার বিষয় না। আমি এখন চাই তুমি শুধু আমার হবে আর তুমি শুধু এখানেই থাকবে আমি আর কিচ্ছু চাই না।

আর শোনো দরকার হয় আমি পুলিশের কাছে যাবো আমি মামলা করব তোমার বিরুদ্ধে তারপরও আমি তোমাকে এখানে চাই, দিস ইজ মাই অর্ডার।

সুমন: যা মন চায় তা করো আর আমাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করবে না, ওকে বাই।

এসব কথা বলেই সুমন সেখান থেকে চলে আসতে থাকে। সে তার গাড়িতে করে বাড়ি থেকে রওনা হয়।

অন্যদিকে সুজন ওইখানেই দাঁড়িয়ে ছিল সে ভাবলো এখন দেখে আসি তো ভাইয়া এত সময় কার সঙ্গে কথা বলেছিল! কে ছিল ওই ঘরে আমি বরং একবার দেখে আসি ।

চলবে _

গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)
পর্ব: ১৪ তম পর্ব
লেখক: S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here