গল্প: ভাবি যখন বউ _১৩ তম পর্ব (সমাজ থেকে নেওয়া)

591

অবশেষে সুমন ও রুপার বিয়ে কোন রকম আয়োজন ছাড়াই হয়ে গেলো। আত্মীয়-স্বজনকে না যায়নি এই বিয়ের কাজটা সম্পন্ন করা হয়।

সুমন এতে একদমই রাজি ছিল না সে রেখার ভালোবাসা প্রথমে মূল্য দিয়ে ছিল না, কিন্তু যখন সে বুঝতে পারলো রেখা তাকে খুব ভালোবাসে তখন সে রেখার ভালোবাসার মূল্য দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তখনই রেখা মারা যায়। এই অবস্থা এসে খুবই মর্মাহত খুবই দুঃখ প্রকাশ করে।

কিন্তু তার মন চায়তো একটু ভিন্ন রকমের মেয়ে, একটু স্মার্ট মেয়ে, একটু শহর টাইপের মেয়ে, সে কখনোই গ্রামের মেয়ের দিকে নজর দিতে চায়তো না। যদিও রেখার বিয়েটা তার সঙ্গে হয়েছে তার মায়ের কারণে আর এখন তার এই বিয়েটা হচ্ছে তার সন্তানের কারণে তার সন্তানকে লালন-পালনের জন্য কিন্তু তার মন থেকে একদমই নয়।

সে বুঝে গিয়েছে যদি তার প্রেমিকা অবন্তিকাকে সে বিয়ে করে তাহলে তার সন্তানকে একদমই দেখবে না আর যদি সে রুপাকে বিয়ে করে তাহলে তার সন্তান থাকবে দুধে-ভাতে এখন সেই চিন্তা করে সে এই বিয়েতে মত দিয়েছে আর ওইদিকে তার প্রেমিকাকে আগে থেকেই মন দিয়ে রেখেছে ।

কিন্তু এইসব ব্যাপারে সুমনের পরিবার কিচ্ছু জানত না। শুধু জানতো রেখা সে তো এখন আর নেই তাই সবাই ভাবছে হয়তো সুমনের কোথাও রিলেশনশিপ নেই। সে হয়তো রুপাকে পছন্দ করেছে। আর রুপাও ভেবেছে দুলাভাইয়ের হয়তো পছন্দের কোনো মেয়ে নেই সেজন্য সেই বিয়েটা করতেছে।

সুমন যে অভিনয়টা করেছে রুপার সঙ্গে সেটা ছিল একটা মিথ্যা অভিনয়। কেননা সে অভিনয় করে তার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে সেজন্য এই মেয়েটাকে এই ফাঁদে ফেলতে চাচ্ছে কিন্তু মেয়েটা বুঝতেছে না। মেয়েটা শুধু চাচ্ছে তার ভাগ্নে যেন থাকে দুধে ভাতে।

রুপা ভাবছে দুলাভাই ওতো তাকে খুবই ভালোবাসে তাহলে তাদের মাঝে আর কোন তফাৎ থাকবে না তাদের মাঝে সুখ ভালোবাসা এগুলা বয়েই যাবে।

এই ভালোবাসা যদি মনে না থাকে তাহলে জোর করে আদায় করা যায় না। যেটা রেখাও করতে পারেনি। সুমনের যে ওদেরকে ভাল লাগে না। সুজনের একজনকেই ভালো লাগে সে হলো অবন্তিকা, যাকে সে অনেকদিন ধরে সময় দিচ্ছে। অনেক বছর ধরে ওর সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে কিন্তু ওকে এ বাড়িতে আনতে পারছে না।

বিয়েটা কোন রকম আয়োজন ছাড়াই হয়ে যায় তবে এখন সবকিছু ঠিকঠাক মতো চলতেছে যেমনটা সবাই চেয়েছিল সেরকমটাই হচ্ছে।

তবে একটু গন্ডগোল হয়েছে সুজন ঠিকমতো বাড়িতে আসে না। ঠিকমতো বাড়িতে এসে খাওয়া-দাওয়া করে না। বাড়িতে আসলেও কারো সামনে পড়তে চায় না।

কেননা রুপার সামনে পড়লে তার সেই হারানো দিনের কথা মনে পড়ে যায়, মনে পড়ে যায় একসাথে চলার কথা, মনে পড়ে যায় দুটি হৃদয় একসাথে বাসা বাঁধার কথা, সে যে এগুলা ভুলতে পারে না। পুরোপুরি ডুবে গিয়েছিল তার মাঝে কিন্তু আজ এই পরিস্থিতির কারণে তাদের দূরত্ব, তাদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে গেলো।

বড়ই অদ্ভুত এই জীবন।। সেজন্যই সে রুপা সামনে খুবই কম পড়ে বাড়িতে আসে শুধু মাকে দেখার জন্য।

একদিন হুট করেই সুজন বাড়িতে আসে রাতের নটার দিকে এসে দেখলো বাড়িতে খুব হাসাহাসি হচ্ছে।

তখন সে ভাবল ব্যাপারটা কি একটু জানা যাক তো কি হয়েছে বাড়িতে!!

তখন সে লুকিয়ে চুপি-চুপি দেখতে যায় কেন এতো হাসিখুশি, কি হয়েছে?

সুজন শুনতে পেল রুপাদের রুমে রুপা এবং সুজন দুজনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে বাহির থেকে।

সে আস্তে আস্তে করে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো এখন শুনতে পেল সে অনেক কিছুই।

ভিতর থেকে বলছে সুমন: সত্যি রুপা তোমার হাসিটা না বড়ই অদ্ভুত আমি তোমার হাসির পাগল হয়ে গিয়েছি এভাবে আর আর হেসো না, আমি যে পাগল হয়ে যাবো ।

রুপা: যাক বাবা, আমি হাসলে তুমি পাগল হবে কি জন্যে? যখন এতই পাগল হয়ে গেছো তাহলে কোথায় ছিলে? এতদিন তো দেখছি খুব আপুর সাথে খুবই মজা করেছো। আমি তখন কোথায় ছিলাম আমার দিকে কেন নজর গেল না।

সুমন: আরে কি যে বলছো তুমি। তখন তুমি ছিলে শালীকা, তখন কি আর তোমার দিকে নজর দেওয়া যায়।

রুপা: ও তাই, তাই বুঝি লক্ষী ছেলে!!
সুমন: আমি খুবই লক্ষী ছেলে আচ্ছা আমাদের বাবুটা দেখো তো কার মতো হয়েছে।
রুপা:একদম তোমার মত হয়েছে তবে রেখা আপুর চোখগুলো পেয়েছে আমাদের বাবুটা।

সুমন: হ্যাঁ, তাইতো। আচ্ছা তোমার কি এবাড়িতে থাকতে কোনো রকমের কষ্ট হচ্ছে না? তুমি কি ঠিকঠাক মতো থাকতে পারছো বাড়িতে?

রুপা: না, আমার কোন কষ্ট হচ্ছে না।
আমি ঠিকঠাক মত থাকতে পারছি। আমার একটা উদ্দেশ্য শুধু এই বাচ্চাটাকে বড় করার আমার আপু আমাকে বলে গিয়েছে এই বাচ্চাটা যেন থাকে দুধে-ভাতে, আমি সেটাই করেছি বিনিময় কিছু না পেলেও করে যাবো।

সুজন: সত্যিই তুমি অনেক ভালো।
রুপা: আচ্ছা আমার একটা কথা ছিল বলবো কি?
সুজন: হ্যাঁ অবশ্যই বলো।
রুপা: তুমি মাঝে-মাঝে কোথায় চলে যাও? মাঝে-মাঝে তুমি বাসায় আসো না কেন, কার কাছে তুমি যাও?

সুজন: প্লিজ তুমি আমার পার্সোনাল লাইফে ঢুকতে চেষ্টা করো না। এটা আমার পার্সোনাল লাইফ আমার যেখানে খুশি সেখানে যাবো। এটা আমি কাউকে বলি না এমনকি রেখাকেও বলছি না। আর তুমি জানতে চেও না।

রুপা: আচ্ছা ঠিক আছে তুমি যেখানে যাও না কেন আমি সেটা জানতে চাইবো না।

কথাগুলো জানালার পাশ থেকে দাঁড়িয়ে সুজন শুনছিলো। সে মনে মনে ভাবল বাহ ভালই তো ভালোবাসা হয়ে গেল ওদের মধ্যে, যাক আমি এবার দূর হয়ে যাই কিন্তু একটা কথা তার মনের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করছে। সেটা হলো ভাইয়া মাঝে মধ্যে কোথায় যায়! সেও মাঝে মধ্যে লক্ষ্য করে জিনিসটা করে ।

আসলে কয়েকদিন পরে পরেই সুমন ওই তার প্রেমিকার কাছে যায়। মানে ওখানে গিয়ে অনেক দিন রাত কাটিয়েছে। সে জন্য সবাই সেটা সন্দেহ করে কিন্তু সুমন এটা কাউকে বলতে চায় না। সে লোকচক্ষুর আড়াল থেকে এটা করেই যাচ্ছে।

তবে যাই হোক এখন রুপার মনে একটু বাধা পড়ে গেল ঠিক তেমনি একথাটাও সুজন জানালার পাশ থেকে দাঁড়িয়ে শুনে ফেললো এখন সুজন ঠিক করে নিল

ঠিক তো এবার দেখবো ভাইয়া কোথায় রাত কাটায় আর কোথায় কি করে আমাকে সব জানতে হবে।

এদিকে তাদের সন্তানের সকল চাহিদা পূরণ করছে। একদম যেন রাজপুত্রের মত বড় করে তুলতে পরিবারটিতে মোটামুটি সুখের উল্লাস বয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে সুমন ভালোই এক্টিং করছে সে প্রতিনিয়ত রুপাকে খুশি রাখার জন্য সবকিছুই করে যাচ্ছে ঠিক তদ্রূপ তার প্রেমিকা অবন্তিকা কেউ সে খুশি রাখার জন্য সবকিছু করে আসছে। তার প্রেমিকাকে সে কথা দিয়েছে যে সে তার প্রেমিকাকেই একদিন না একদিন বিয়ে করে আনবেই।

অবন্তিকা ও তার জন্য পাগল বলতে গেলে অবন্তিকা তার জন্যই সব সময় অপেক্ষা করে, কখন সুমন তার এখানে আসবে, সুমনকে সে বারবার ফোন দিয়ে আসতে বলে থাকে কিন্তু সুমন তাকে এখন বেশি একটা সময় দিতে পারছে না।

সেজন্য সে সুমনকে খুব খারাপ ভাষায় গালিও দিয়ে থাকে। সুমনকে ছাড়া যেন তার কিছুই ভালো লাগে না।

এভাবে সুমন অবন্তিকার কাছে যেতে-যেতে এক সময় গভীর সম্পর্কে প্রণীত হয়। একটা সময়ে এসে দেখা যায় তাদের মেলামেশা এতই বেড়ে গিয়েছিল যে একটা সময়ে অবন্তিকা প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়।

কিন্তু তাদের এখনো বিয়ে হয়নি শুধুমাত্র বন্ধুত্ব হয়েছিল আর এদিকে সুমনের ঘরে একটি বাচ্চাও আছে

চলবে _

গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)
পর্ব: ১৩ তম পর্ব
লেখক: S M Rony Chowdhury

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here