গল্প: ভাবি যখন বউ _ ১২ তম পর্ব (সমাজ থেকে নেওয়া)

724

সুজন: রুপা আমি কি শুনলাম এটা?
আমি যেটা শুনলাম সেটা কি সত্যি?
রুপা: হুম। তুমি যা শুনেছো সবকিছুই সত্যি শুনেছো।

সুজন: কি করে তুমি এত বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারো!! তুমি কি একটি বারের জন্যও আমার কথা চিন্তা করেছো?
আমার কথা তুমি ভেবেছো কি?
রুপা: আমি সবার কথাই ভেবেছি সুজন। আর এখন আমি আর চাচ্ছি না ওই সব কিছু ভাবতে। আমি এখন শুধু চাচ্ছি আমাদের সম্পর্কটাকে ভুলে যেতে ।

সুজন: কি করে সম্ভব? আমি তো পারবো না কখনোই।
রুপা: সবকিছুই সম্ভব মানুষের দ্বারা, অসম্ভব বলতে কোন কিছুই নাই।
দেখো পরিস্থিতি আমাদের খুবই ভয়াবহ একটা জায়গায় ফেলে দিয়েছে এখন আমরা যে সিদ্ধান্তটা নেব সেটাই আমাদের জীবনের নতুন একটা অধ্যায়ের সূচনা করে দাঁড়াবে।

সুজন: আমার অধ্যায় শেষই হলো না শুরু হবে কোথা থেকে, আমি কিছইু বুঝতেছি না। আমার মাথাটা পুরোটাই ঘাবড়ে যাচ্ছে, শরীরের সব রক্ত যেন মাথায় উঠে যাচ্ছে। আমি কি করবো বুঝতেছি না।

রুপা: প্লিজ সুজন একটু শান্ত হও এতটা উত্তেজিত হয় না। দেখো আমিও তো তোমাকে ভালোবাসি, আমিও তো তোমার মতই এরকম পাগল হতে পারতাম কিন্তু হচ্ছি না কারণ বাহির থেকে তুমি তো আর আমার ভিতরটা দেখতে পারছো না।
যদি একবার ঘুরে আসতে আমার ভিতরটা তাহলে বুঝতে পারতে কি রকম যন্ত্রণা হচ্ছে আমার ভিতরে। হয়তো তোমার থেকে হাজার গুন বেশি ।

শোনো সুজন আমি জানি আমাদের ভালবাসাটা পবিত্র আর এই পবিত্র ভালোবাসা কখনো অপবিত্র হবে না।
আমি তোমার ভালোবাসাটাকে সম্মান করি কিন্তু এখন এই পরিস্থিতির মাঝে আমাদেরকে এতটা ইমোশনাল হওয়া যাবে না। কেননা এখন আমারা খুবই খারাপ সময়ের মধ্যে আছি ।

দেখো সুজন আমি তোমাকেও মনে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি আর আমার রেখা আপুকেও মনের প্রানে ভালবাসি ।এখন দেখো আমি দুজনের ভালোবাসার কাছে ঋণী হয়ে আছি। এখন যদি আমি তোমার সাথে পালিয়ে যাই কিংবা তোমাকে বিয়ে করে নেই তাহলে আমার আদরের বোনটা খুব কষ্ট পাবে। আমার বোনের আত্মা কষ্ট পাবে আমি তার ভালোবাসার কাছে হেরে যাবো। সে আমাকে একটা কথা বলে রেখে গিয়েছিল সেই কথাটা আমি অমান্য করতে পারি না।

সুজন: তাহলে আমি কষ্ট পাবো না? তোমার ভালোবাসা কি আমার কাছে হেরে যাবে না?

রুপা: তুমি এখনো বেঁচে আছো তুমি যদি আমাকে আস্তে করে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করো তাহলে দেখবে তুমি নতুন কাউকে পেয়ে যাবে আর তারই মাঝে তোমার অনুভূতি গুলো আবার নতুন করে আলোড়ন করতে থাকবে, আবার ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। তোমাদের মাঝে নতুন পথ চলা হবে। তোমারা আবার নতুন একটি স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাবে। তোমরা এগিয়ে যাবে আর তোমার এই রুপার ভালোবাসা তোমাকে কখনো ছেড়ে যায়নি। তোমার ভালোবাসা সারা জীবন তোমার কাছেই থাকবে এবং তোমার পাশেই থাকবে।

সুজন: আমি পারবো না তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত বাঁচতে আমি পারবো না তোমাকে ছাড়া নতুন কাউকে নিয়ে ভাবতে। আমি যে পারবো না তোমাকে ছাড়া অন্য কারো হাত ধরতে। আমি থাকতে পারবো না তোমার ওই মায়াবী হাসি ছাড়া। আমি যে ডুবে গিয়েছি তোমার মাঝে রুপা আমাকে তুমি এরকমটা করো না, আমি যে পাগল হয়ে যাবো ।

রুপা: না সুজন না, তোমার কিচ্ছু হবে না। তুমি ঠিক হয়ে যাবে আমি বললাম আর আমি তো তোমার সাথেই আছি তোমাদের এই বাড়িতেই তো আছি যেমনটা এখন আছি বিয়ের পরে ওই রকম থাকবো । তোমার সাথে কথা বলবো তোমার সাথে খাবো তোমার সাথে হাসি ঠাট্টা করব সবকিছুই করব।

সুজন: না রুপা, আমি আমার প্রেমিকাকে আমারই ভাবি হিসেবে দেখতে চায় না।
রুপা: কিছু হবে না, সুজন। আমি বললাম তো তুমি ঠিক হয়ে যাবে আমি তোমার পাশে থাকবো সবসময় শুধুমাত্র তুমি এটা মনে করে নাও হয়তো আমাদের এই সম্পর্কটা এ জনমে সম্পণ হলো না কিন্তু পরের জনমে হয়তো ঠিকই তুমি আমার হবে আমি তোমার হবো।

সুজন: শোনো রুপা তুমি এটা করার আগে আমাকে বিষ এনে দাও, না হয় আমাকে জলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মেরে দাও, না হয়তো আমার এই ক্ষত কখনোই দূর হবে না।

রুপা: না সুজন অমন করে বলো না প্লিজ। আমার ভিতরটা জ্বলে পুড়ে তছনছ হয়ে যাচ্ছে, ভালো তো শুধু তুমি একাই বাসনি, আমিও তো তোমাকে ভালবেসেছি তাহলে আমি পারলে তুমি কেন পারবে না আমাদের এই সম্পর্কটা কি ভুলতে।

সুজন: আমি যে তোমার মাঝে পুরোপুরি ডুবে গিয়েছি তোমাকে ছাড়া আমি আর কিছু দেখতে পাই না। সয়নে তুমি সপণে তুমি, সব জায়গাতেই তুমি।

রুপা: প্লিজ সুজন আর বলো না । আমার কষ্ট হচ্ছে খুব কিন্তু কি করব পরিস্থিতি আমাদের এক হতে দিলো না। তুমি আমাকে আস্তে-আস্তে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করো।

এই কথাগুলো বলেই রুপা সেখান থেকে চলে যায়। সে আর এখানে থাকতে পারছে না খুব কান্না পাচ্ছিল কিন্তু সেটা একদমই সুজন কে বুঝতে দিল না।

আর এদিকে বেচারা সুজন অসম্ভব ভাবে মন খারাপ করে বসে পড়লো।
সে ভাবতেছে এতদিনের সম্পর্ক কি করে এভাবে তছনছ হয়ে যেতে পারে। এতদিনের ভালোবাসা কিভাবে ভেঙে যেতে পারে।

একসাথে কতইনা চলাফেরা করেছে একসাথে কতই না আনন্দ করেছে, একে অপরের দিন গুলো কিভাবে সাজাবে সেটাও তারা ঠিক করে রেখেছিল তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি হবে সেটাও তারা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল কিন্তু কি হলো এটা।

একে অন্যের মাঝে খুব সুন্দর ভাবে গুছিয়ে নিয়েছিল আর কি করে ভুলবে এই সম্পর্কটা সুজন একেবারে হাল ছেড়ে দিয়েছে। সে যেন জীবন থাকিতেও মৃত হয়ে যাচ্ছে।

বড়ই আজব মুহূর্তের মাঝে বেধে গিয়েছে। কি করবে এখন তার যে কিছুই করার নেই। না পারতেছে রুপাকে বুঝাতে, না পারতেছে নিজেকে সান্তনা দিতে। এখন সে যেন পুরোপুরি জ্ঞানশূন্য হয়ে গিয়েছে।

এদিকে সুমনের মা রুপার বাবা মার সঙ্গে কথা বলে ফাইনাল করে নিচ্ছে ।

রুপার বাবা বলে দিয়েছে: আসলে আমার একটা মেয়েকে হারিয়েছি এতে আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি। এখন আমার দ্বিতীয় মেয়ে সে যদি নিজ থেকে ভালো মনে করে, যে এটা করাতে তার জন্য ভালো হবে তাহলে আমরা বাধা দেব না।এখন তো তার বোঝার বয়স হয়েছে সে যদি মনে করে এটা তার জন্য ভালো হয় তাহলে সেটা করতে পারে এখন সে যথেষ্ট ম্যাচিওর।

ওনারা একেবারে সব দায়িত্ব রুপার কাঁধে ছেড়ে দিয়েছে কেননা সে তার নিজের জীবনকে কোথায় নিয়ে যাবে সম্পূর্ণ দায়িত্ব এখন তার কাছে।

সুমনের মা সুমনের সাথে কোন ধরনের কথা না বলেই আবার বিয়ের কথা শুরু করে দিল শুধুমাত্র তার নাতনীর ভালোর জন্য।

ওইদিকে সুমন মনে মনে ঠিক করতেছে তার ওই প্রেমিকাকে এ বাড়িতে নিয়ে আনার জন্য কিন্তু ওই প্রেমিকা অবন্তিকা কোনো ভাবেই এখানে আসার জন্য রাজি হচ্ছিল না, কেননা এখানে আসতে হলে তাকে একটি বাচ্চা লালন পালন করতে হবে কিন্তু সে সেটা একদমই চায় না।সে অনেক উচ্চ বংশের মেয়ে, বিলাসিতা একটা ধর্ম।

সুমন বারবার তার প্রেমিকা অবন্তিকাকে বলছে যে তুমি এখানে চলে আসো আমরা বিয়ে করে সংসার করি এতদিনের সম্পর্ক আমাদের যাতে ঠিক হয়ে যায় কিন্তু ওই মেয়েটা কিছুতেই আসতে চায় না। ওই মেয়েটি শুধুই বলে সুমনকে, তুমি আমার এখানে চলে আসো আমার এখানে তোমার কোনো কিছুর অভাব নেই, আমার সবকিছু আছে দামি গাড়ি, দামি বাড়ি কোন কিছুর কমতি হবে না তোমার, তুমি শুধু এখানে চলে আসো।

কিন্তু সুমন যেতে পারছে না কারণ তার ছোট বাচ্চার জন্য এবং তার পরিবারের জন্য।

এদিকে সুমনের মা সুমনের বিয়ের সব রকমের আয়োজন করতেছে আর অন্যদিকে সুজনের কান্নার বন্যা বয়ে যাচ্ছে।ওর সাথে কি হচ্ছে এটা, সেটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না।

এই মুহূর্তে সুজন যে পাগল হয়ে যাবে নাকি কি করবে বেচারা নিজের চোখের সামনে নিজের প্রেমিকাকে দেখতে হচ্ছে বড় ভাইয়ের বউ হিসাবে। আজাব লীলাখেলা শুরু হয়েছে ।

সুজন বারবার রুপাকে বলছে তুমি এটা করো না। তোমার জন্য এটা খুব খারাপ হবে। আমার ভাই খুবই খারাপ মানুষ সে তোমাকে ভালোবাসবে না একদমই তোমাকে অনেক কষ্ট করতে হবে তুমি এটা করো না।

রুপা শুধু একটা কথাই বলে: আমার আপু আমাকে বলে গিয়েছে যে সন্তানকে লালন পালন করতে। তার সন্তান যেন কোন কষ্টে না থাকে। আমি সেটাই করে যাবো আমাকে কেউ ভালোবাসুক আর না বাসুক আমি অন্তত এই সন্তানকে কোনো কষ্ট পেতে দেবো না । আমার শুধু সেটা হলেই চলবে আর কিছু লাগবে না আমি আমার আপুর শেষ মুহূর্তের ওয়াদা টুকু পালন করতে চাই অক্ষরে-অক্ষরে।

রেখা কিছুতেই বুঝতেছে না তার জন্য এটা ভাল হবে, কি খারাপ হবে। সে শুধু ওই সন্তানদের দিকে লক্ষ রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভালো মন্দ তো পরের কথা আগে যাতে এই সন্তানটা ভালো হয় ভালো থাকে সেই লক্ষ্যে সে এই বিয়েতে রাজি হচ্ছে।

চলবে _

গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)
পর্ব: ১২ তম পর্ব
লেখক: S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here