মহামারী নিয়ে দুটি কথা: (আমাদেরকে অন্ধকার জগত থেকে বাইরের জগতে বের করে আনবে)

281

একটানা একমাস গৃহবন্ধী আছি। একেবারে একদম বন্ধ হয়ে আসছে, চারদিকের সূর্যে আলো, খোলা হাওয়া হয়তো অনেক দিন ধরে দেখি না।

প্রকৃতি রুপ কি জিনিস আমি যেন তা ভুলে গিয়েছি। আমি এখন আর নেই প্রকৃতির মাঝে প্রকৃতি আমার থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছে, কেন জানি এরকমটা হলো আমাদের সাথে আমরা এখন গৃহবন্দী। ঘর থেকে বের হলেই আমরা আমাদের মৃত্যু দেখতে পাই ।

ঘরে বসে মনে পড়ে যায় সেই অতীতের স্মৃতিগুলো, কতই না ঘোরাফেরা করতাম, মনে পড়ে যায় সেই বিকাল বেলার কথা, যদিও কাজ থাকে কাজ শেষ করে বিকাল হতে না হতেই বেরিয়ে যেতাম একটু ঘোরাফেরা করতে একটু হাঁটাচলা করতে মন ভালো করতে কিন্তু এখন আর তা হচ্ছে না। আমরা এখন গৃহবন্দী আমরা বাহিরে বের হলেই মৃত্যু দেখতে পাই।

আমরা এখন আর তা করতে পারি না, আমাদের মন যা চায়। আমরা এখন সাম্যের নীতিতে বেঁধে গিয়েছি। আমাদেরকে কেউ বেঁধে ফেলেছে তার শিকলে শত চেষ্টা করছি এই শিকল থেকে ছুটে যাওয়ার কিন্তু আমরা তো পারছি না।

আমাদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঘরে থাকতে-থাকতে কিন্তু কি করব যদি বাহিরে মৃত্যু দাড়িয়ে থাকে তাহলে এখন তো একমাত্র ঘরেই আমাদের সংরক্ষিত স্থান।

হয়তো বিষয়টা আমরা প্রথমে সহজ ভাবে নিয়েছিলাম কিন্তু বিষয়টা যে এত কঠিন হবে সেটা আমাদের হয়তো কারো জানা ছিল না। একাধারে অনেক দিন করে থাকতে থাকতে আমাদের যে দম বন্ধ হয়ে আসছে। একটু আলো-বাতাস একটু খোলা বাতাস পাওয়ার জন্য।

চারপাশে হাজারো মানুষের মৃত্যুর সংবাদ শুনতে পাই, হাজারো অসুস্থ মানুষের কথা শুনতে পায় হাজারো মানুষের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা শুনতে পাই, হে আল্লাহ এভাবে আর কতদিন চলবে আর কতদিন আমরা গৃহবন্দী হয়ে থাকবো আমাদের দিকে তুমি চোখ মেলে তাকাও।
আমরা আজ অসহায়, আমরা আজ বঞ্চিত, আমরা হয়তো অনেক বড় ভুল করেছি যার জন্য তুমি আমাদের উপরে এই গজব দিয়েছো ।

আমরা আবারও প্রকৃতির সাথে মিশতে চাই আমরা প্রকৃতিকে ভালোবেসে একাকার হয়ে যেতে চাই ।

আবার আমাদের চোখ যেদিকে যায় সেদিকে যেতে চাই আমরা আবার আমাদের নিজেদের স্বাধীনতা পেতে চাই।

আমাদের যে রুমে থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসছে হয়তো এই রুমি আমাদের মৃত্যু দিয়ে ফেলতে পারে । তবে তবুও আমার অনেক ভাল আছি।

এখন মূল কথায় আসি:

আমরা যারা গৃহবন্দি আছি, আমরা যারা দু’বেলা তিন বেলা খেয়ে রুমে থাকতে পারছি তারা নিজেকে ধন্য ভাবছি না, তারা ভাবছি হয়তো বাইরের খোলা বাতাসটা আমাদের এখন খুবই প্রয়োজন ছিল, এটা মানছি দরকার ছিল কিন্তু আমরা তো এখন নিজেদের খাবার-দাবারের কোন কমতি রাখেনি, কোন দিক দিয়ে আমাদের কোনো কমতি নেই। আমরা ঠিকমতো আমাদের খাবার খেয়ে যাচ্ছি এবং সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি।

কিন্তু আমরা কি অন্যদিকে তাকিয়েছি কোন সময় ?
না কখনোই আমরা ওই দিকে তাকাই নি।। আমাদের পাশের বাড়ির যে মানুষটি আছে সে মানুষটির হয়তো না খেয়ে আছে, না খেয়ে তারা দিনের পর দিন পার করতেছে। গৃহবন্দি হয়ে আমরা কি তাদেরকে লক্ষ্য করেছি, না কখনোই লক্ষ্য করিনি।

আমরা কি তাদেরকে চোখ তুলে দেখেছি কখনোই দেখেনি, তারা না খেয়ে মরে যাচ্ছে। এই দেশের করুণ অবস্থা দেখে আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো তাদেরকে এক বেলা বা দুবেলা খাবার হাতে তুলে দেওয়ার।

আমরা মানুষ আর মানুষই তো মানুষের পাশে দাঁড়ায় হয়তো তারা আমাদের থেকে একটু নিম্নমানের কিন্তু মানুষ তো! তাদের ও তো একই মাটি দিয়ে আল্লাহ তা’আলা তৈরি করেছে। সুতরাং মানুষ মানুষের মাঝে ভেদাভেদ না রেখে তাদেরকে আমরা সাহায্য করি ।

কোনভাবেই তারা যেন বঞ্চিত না হয় তাদেরকে সর্বদা খেয়াল রাখি। জানি এখনো অনেক পরিবার আছে না খেয়ে আছে সকালে একবেলা খেতে পারলে বাকি দুই বেলা খেতে পারে না।

এই ভাইরাস আমাদেরকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সমাজ রাষ্ট্র এবং বিশ্বকে অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে কবে থেকে মুক্তি পাবো সেটা হয়তো কেউই জানে না। এখনো এর কোন ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি।

এই রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে অনেক ডাক্তারই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সুতরাং এই ভয়াবহ রোগ থেকে আমাদের রক্ষা পেতে হলে আমাদের যে গৃহবন্দি হতে হবে আর এ অবস্থায় গৃহবন্দী থেকে আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হতে পারে।

আজকে আমার সাথে একটি ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

আমি গ্রামে বসবাস করি, তো গ্রামে এই ভাইরাসটা একটু কমই ছড়িয়েছে তবে লোকের মুখে অনেক সর্তকতা অবলম্বন করতে আমি দেখেছি।

তবে যাই হোক এখন মূল কথায় আসি আমাদের এলাকায় কিছু ভিক্ষুক লোক আছে যারা ভিক্ষা ছাড়া আর কোন ভাবেই আয় রোজগার নেই। একমাত্র ভিক্ষা করেই তাদের উপার্জন হয়, দিন আনে দিন খায়।

এখন দেখা যাচ্ছে এই ভিক্ষুদের মানুষ ভিক্ষা দিচ্ছে না কারণ হচ্ছে ওরা বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করার জন্য যাচ্ছে, মানুষ সন্দেহ করছে তাদের তারা হয়তো করুনায় আক্রান্ত হলেও হয়তোবা বুঝতে পারছে না কারণ তারা বিভিন্ন অঞ্চলে অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেখান থেকে হয়তো এখানে কেউ না নিয়ে আসতে পারে সেজন্য তারা ওদেরকে ভিক্ষা দিচ্ছে না ।

কিন্তু এই বঞ্চিত লোকদের দিকে কেউ চোখ তুলে দেখচ্ছে না। আমি ওদেরকে বলেছি আপনারা কি ত্রাণ পেয়েছেন?

ওরা তখন হেসে বললো :না আমরা এখনো কিছুই পাই নাই। আমাদের চলাফেরা করা খুবই মুশকিল হচ্ছে মানুষ এখন আর আমাদেরকে ভিক্ষা দিতে চায় না, মানুষ আমাদেরকে দেখলেই তাড়িয়ে দিতে চায়।

আগে তো ভিক্ষা করে কোনরকম নিজের পেট চালাতে পারতাম এখন দেখা যাচ্ছে দুই এক দিন না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।

তবে যাই হোক দেশের অবস্থা যে কখন ভালো হবে তা ঠিক বলা যাচ্ছে না এই সুবিধাবঞ্চিত লোকদের পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছে না। ওরা না খেয়ে হয়তো একদিন মরে যাবে।

আমরা একটু কম খাবার খেয়ে একটু ওদেরকে দিয়ে সাহায্য করতে পারি। ওদেরকে একটু দিলেই ওরা খুশিতে ভরে উঠবে।

আমাদের যতটুকু সম্ভব ওদের পাশে দাঁড়াবো দেশের অবস্থা খুবই খারাপ সুতরাং মানুষ মানুষের ভাই-ভাই জীবন জীবনের সাথে সম্পর্ক চিরতরের।

সবশেষে একটা কথা বলতে চাই আমরা অদরকারে ঘর থেকে বের হবো না। ঘর থেকে বের হলেই বুঝবো মৃত্যু আমরা চোখের সামনে পাচ্ছি আর ভাইরাস চারদিকে ছড়াচ্ছে। প্রাকৃতির আলো-বাতাস সব জায়গাতেই ভাইরাস ছড়িয়ে যাচ্ছে।

যতটুকু পারি নিজের চারপাশে যে অসহায় বঞ্চিত মানুষগুলো আছে তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করে একটু পাশে দাড়াই । তারা যাতে বেঁচে থাকতে পারে আমরা তাদের সাহায্য করি।
আমরা হয়তো কোনো ভুল করেছিলাম যে ভুলের কারণে আল্লাহ তালা আমাদের উপরে গজব দিয়েছে তবে নিশ্চয়ই আমরা এর থেকে মুক্তি পাবো কারণ উপরওয়ালা আছে। আমরা মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে নামাজ পড়ে দোয়া করি।

তিনি সবকিছুই করতে পারেন, তিনি মহান, তিনি পারেন এই পৃথিবী সৃষ্টি করতে, তিনি পারে এ পৃথিবী ধ্বংস করতে, আমরা শুধু উনার কাছে দোয়া চেয়ে যাবো ।

আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং অন্যকে সচেতন করতে হবে সবাইকে বোঝাতে হবে এ ব্যাপারে আর জনসমাগম এড়িয়ে চলুন।

এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন এই কামনা করি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here