গল্প: ভাবি যখন বউ _১১ম পর্ব (সমাজ থেকে নেওয়া)

709

রেখা মারা যাওয়াতে সবাই খুব দুঃখ প্রকাশ করছে। এইভাবে হঠাৎ করে সবাইকে ছেড়ে চলে যাবে যেটা কেউই ভাবতেও পারছে না সবাই খুব কান্নাকাটি করছে, পরিবারই যেন নেমে এসেছে অন্ধকার ।

তবে যদিও খুশির সংবাদ আছে কিন্তু পরিবারটিতে নেই কোন হাসিখুশি কারো মুখে একটু নেই হাসি, সবাই কেমন মনমরা হয়ে আছে কারো দিকে যেন তাকানো যাচ্ছে না এমনই অবস্থা ।

রেখা মরে যায় কিন্তু রেখে যায় একটি ফুটফুটে সুদর্শন বাচ্চা। এই বাচ্চাটার দিকে তাকালে মনে হয় যেন রেখার মুখ ভেসে ওঠে। এত সুন্দর বাচ্চা হয়তো এর আগে কখনো দেখেনি কেউ যেন রাজপুত্র।

কিন্তু ছেলেটা পোড়া কপাল নিয়ে জন্ম নিল। জন্মের সাথে সাথেই তার মা মারা গেল এখন সে কার কাছে বড় হবে, কে তাকে বড় করে তুলবে সব কিছুই যেন উলটপালট হয়ে গেছে ।

হয়তো সবকিছু ওপরওয়ালার খেলা তিনিই ঠিক করে দেয় কার জীবনে কি হবে না হবে ।

উপর থেকেই ফিক্সট হয়ে আসে যে কে কত দিন বেঁচে থাকবে তার কতদিনের বেঁচে থাকার ক্ষমতা আছে এই পৃথিবীতে।

তবে রেখা যে এভাবে চলে যাবে সবাইকে ছেড়ে সেটা কেউই কল্পনাও করতে পারিনি কখনো।

সুমন একেবারে ভেঙে পড়েছে তার রেখা মারা যাওয়াতে, যাকে সে খুব জ্বালাতন করেছে এতদিন আর এখন একটু ভালোবাসা দেওয়ার সময়, এই সময়টাতেই চলে গিয়েছে অনন্তকালের জন্য তাদের জীবন থেকে, কি করে সে তাকে ভুলবে, কি করে সে তার কাছ থেকে ক্ষমা পাবে, কিছু সে যেন বুঝতেছে না।
সে যেন একটা পাগল হয়ে গিয়েছে।

এদিকে সজনা খুব মন খারাপ করে আছে মায়ের মত ছিল বাড়িটা ভাবিটা এত আদর যত্ন করতো কোন কিছুর কমতি রাখেনি এত ভালোবাসার মানুষটি চলে গেল তাকে রেখে সে খুবই মিস করছে

তবে হা রেখা মারা যাওয়ার আগে নার্সকে বলে গিয়েছিল, যদি সে বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে মারা যায় তাহলে তার সন্তান যেন কোনভাবে কষ্টে না থাকে। তার সন্তানের সকল চাহিদা যেন পূরণ করা হোক এবং তার সন্তান যেন তার বোন রুপার কাছে থেকে বড় হয় ।

তারা যখন লাশ নিয়ে বাসায় ফিরবে তখন ওই নার্স এসে তাদেরকে এ কথা জানালো।

কথাটা শুনে কেউ কোন সাড়াশব্দ দিলো না সবাই চুপচাপ হয়ে বাড়িতে আসলো।
বাড়িতে সবাই হইহল্লা শুরু করে দিল। কান্নাকাটির বন্যা বয়ে যাচ্ছে এভাবে রেখার কবর দেওয়া হয়ে গেলো ।

একে-একে সব আত্মীয়-স্বজন চলে গেল শুধু রয়ে গেল রুপা। সে বাচ্চাটাকে দেখাশোনা করছে। এত ছোট বাচ্চা মাকে ছাড়া কি করে থাকবে।মাকে প্রয়োজন কিন্তু কি হবে সেই কথা বললে ভাগ্যটাই হয়তো এরকম।

এভাবে চলতেছে কিছুদিন

রুপা ওই বাচ্চাটা কে লালন পালন করতেছে তবে সে একটা যুবতী মেয়ে এটা কি আর কদিন করতে পারে সমাজের চোখে বিষয়টা খুবই খারাপ দেখাচ্ছিলো।

তবে কি আর করা হবে যদি এখন বাচ্চাটাকে রুপা না দেখাশোনা করে তাহলে তো বাচ্চাটা মারা যাবে আর রুপা একজন যুবতী মেয়ে বটে সে কি করে এই বাড়িতে থাকতে পারে আর এখন তো ওর বোন নেই তাছাড়া এখানে থাকার কোন অধিকার নেই যেন তার।

সেজন্য একদিন সুমনের মা রুপার সাথে কিছু কথা বললেন একটি বিষয় নিয়ে তার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো;

সুমনের মা: এই যে রুপা মা একটু এদিকে আসো, একটু এখানে বসো তোমার সাথে দুটো কথা আছে আমার ।

রুপা: জি, মাঔ বলুন।

সুমনের মা: তুমি তো এ বাড়িতে থেকে অনেক দিনই আমাদের নাতনিকে দেখাশোনা করেছ তার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ জানানোর কোনো ভাষা নেই আমার আর সত্যি আমরা কোনোদিনই এ ঋণের শোধ করতে পারবো না ।

আমরা এখন নিরুপায় হয়ে পড়েছি আমাদের হাতে আর কোনো ক্ষমতা নেই যে এই বাচ্চাটা কে রক্ষা করার তুমি এই অবস্থায় আমাদেরকে যে সাহায্য করেছ সত্যিই আমরা চির কৃতজ্ঞ থাকবো তোমার কাছে।

রুপা: আপনি কী বলছেন এসব ? সে তো আমার ভাগ্নে হয় তাহলে এতে তো আমারও অধিকার আছে কিছু করার।

সুমনের মা: তাতো ঠিক বুঝলাম কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলবে এদিকে সমুনও কিছু খাওয়া-দাওয়া করছে না, বাসায় আসছে না, ব্যবসা-বাণিজ্যে তেমন মনোযোগ দিচ্ছে না বড়ই অসহায় হয়ে পড়েছে।

রুপা: হয়তো সবই কপাল। আপু এভাবে চলে যাবে কেউ ভাবতেও পারেনি আর এভাবে পরিবারটা ভেঙে যাবে।

সুমনের মা: শোনা মা, তুমি এবাড়িতে তো অনেকদিন থেকেছো আমরা এতে খুশি হয়েছি তুমি একজন যুবতী মেয়ে তুমি এবাড়ীতে থাকাতে সমাজের চোখে অনেকই অনেক মন্তব্য করেছে ।

(তখন রুপা কিছু বলছে না। বিষয়টা সেও বুঝতে পারছে)

সুমনের মা: আমরা চাচ্ছি সুমন কে আবার বিয়ে করিয়ে দেব, নতুন করে সংসার শুরু করুক আর এই বাচ্চাটাও ওদের দায়িত্ব থাকবে বড় করার।

এই কথাটা রুপা শোনা মাত্রই থমকে গেল মনে মনে ভাবল এটাতো কোনো ভাবে ঠিক হবে না। যদি নতুন বউ এবাড়িতে আসে তাহলে হয়তো তার ভাগ্নিকে ঠিকমতো দেখবে না আর সৎ মার বিষয়টা তো সবাই জানে।

তার বোন মারা যাওয়ার আগে নার্সকে বলে গিয়েছিল যে তার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে। তার সন্তানের জন্য কোনো অবহেলা না করা হয় এবং সে এতোটুকু আবদার করে গিয়েছিল তার বোনের কাছে মানে রূপার কাছে ।

রুপা এখন চিন্তা করছে যদি নতুন বধু এ বাড়িতে আসে তাহলে তো তার ভাগ্নের কপালে হয়তো আর সুখ মিলবে না।

(তখন সে কিছু বলো না চুপ করে রয়ে গেল)

সুমনের মা আরো অনেক কিছু বললো সেগুলো সে শুধু শুনেই গেল কিন্তু কোনো উত্তর দিল না। কেননা সে বুঝলো বিষয়টা যদি নতুন কোনো বউ আসে এ বাড়িতে তাহলে তো খুবই খারাপ হবে তার ভাগ্নের সাথে।

সুমনকে অনেক জোর জবরদস্তি করে বিয়ের জন্য রাজি করানো হল । এভাবে ঠিক করে নিল যে সুমন কে আবার বিয়ে করাবে নতুন বউ আসবে বাড়িতে নতুন করে সবকিছু আবার সাজিয়ে নেবে।

পাত্রী দেখা শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন জন সমন্ধ নিয়ে আসছে সুমনের জন্য তবে ভালো কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে রুপার মাথা যেন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। যদি নতুন বউ এবাড়িতে আসে তাহলে তো খুবই খারাপ হতে চলছে। সে চিন্তা ভাবনা করছে তার ভাগ্নে তো দুধে-ভাতে থাকতে পারবে না।

একদিন পড়ন্ত বিকেলে সুমনের মাকে রুপা বলে দিল যে সে সুমনকে বিয়ে করতে চাই। যদি তার দুলাভাইয়ের কোনো অমত না থাকে ।

কথাটা শুনে সুমনের মা চমকে গেল।
বললো সত্যিই তুমি সত্যি বলছো তো।তুমি বিয়ে কররে সুমন কে?

রুপা: হ্যাঁ আমি সত্যি বলছি।

সুমনের মা: তাহলে তো ভালোই হলো আমাদের আর বাইরে থেকে পাত্রী খুঁজতে হবে না। আর আমাদের নাতনিটা কেও যত্নে রাখবে হয়তো তুমিই পারো আমাদের নাতনিকে বড় করতে।আর আমি তোমাকে প্রস্তাবটা দিতে চাইছিলাম আগেই কিন্তু ভেবেছিলাম হয়তো তুমি না করবে কারণ তুমি একজন যুবতী মেয়ে তোমার এতে পছন্দ নাও হতে পারে ।
সেজন্য আমি তোমাকে এই বিষয় নিয়ে কোন কিছু বলি নাই ।

রুপা: জি, আমি পুরোপুরি রাজি আছি এ বিয়েতে আপনারা আমার বাবা মার সঙ্গে কথা বলে, দিন তারিখ ঠিক করে নিন।

সুমনের মা: মা তোমার কথা শুনে সত্যিই খুব খুশি হলাম। ঠিক আছে আমি তোমার মা-বাবা ও সুমনের সঙ্গে কথা বলে দেখি।

রুপা: ঠিক আছে।

রুপা এটা কি করতে যাচ্ছে ? তাহলে কি রুপা সুজনের সঙ্গে এতদিনের সম্পর্ক ভেঙে চুরে তছনছ করে দেবে ?

দীর্ঘ 6 বছরের ভালোবাসা এভাবে তুচ্ছ করে অন্যের ঘরে চলে যাবে এই কথা যখন সুজন শুনতে পারে তখন তো ওর মাথাটা পুরোটাই ঘাবড়ে যায়।

সে রূপাকে এনে জিজ্ঞেস করতে লাগলো।

চলবে _

পরবর্তী পর্বে জানা যাবে

গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)
পর্ব: ১১ম পর্ব
লেখক: S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here