গল্প: স্বামী যখন পরিস্থিতি শিকার (২য় পর্ব)

331

সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু এখনোও স্ত্রী বাসায় ফিরছে না, বাচ্চা গুলো একে-একে কান্না করতে-করতে ঘুমিয়ে গিয়েছে।

কিন্তু বাদশা এখনো ঘুমাচ্ছে না, সে বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে কিন্তু সেই কবে থেকে যে মোবাইল ফোন বন্ধ দেখাচ্ছে এখন পর্যন্ত বন্ধই দেখাচ্ছে।

বারবার ফোন করে যাচ্ছে ওর বাপের বাড়ি, ওর আত্মীয়-স্বজনের কাছে কিন্তু কোথাও তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না ।

সারারাত বাদশা একের পর এক চেষ্টা করে গেল মোবাইল ফোনে কিন্তু কোথাও ওর কোনো খোঁজ-খবর পেলো না । রাতটা ওর খুবই কষ্টের গেল একটু যেন চোখ বন্ধ করতে পারেন নি, আর কি বা করিবে করবে বেচারা।

যে বউটাকে সে এত ভালোবাসতো, সেই বউটা আজ ঘর থেকে বের হয়ে গেছে, কোথায় গেছে কে জানে, কার কাছে আছে কে জানে,

সমাজের চোখে, কি করে চোখ দেখাবে যদি সে ফিরে আসে, সমাজকে কি উত্তর দেবে যদি সে ফিরে আসে। একটি রাত এবং একটি দিন সে কোথায় ছিল কার কাছে ছিল যাক অযথা প্যাচাল পেড়ে লাভ নেই ।

এসকল কিছু চিন্তা করে সে রাতটা কাটিয়ে দেয়। সকাল হয়ে উঠলো বাচ্চাগুলো উঠে পড়েছে এবং উঠে মায়ের জন্য খুব কান্নাকাটি করছে কি করবে বেচারা বাদশা, মাকে তো আর বানিয়ে এনে দিতে পারবে না ।

সে তখন তার বাচ্চাগুলোকে সান্তনা দিয়ে বলল তোমার মা একটুখানি চলে আসবে একটু কাজ ছিল তো একটু বাইরে গিয়েছে তোমরা খাওয়া-দাওয়া করে ফেলো আর স্কুলে চলে যাও দেখবে তোমার মা ঠিকই বাড়িতে চলে এসেছে ।

এইসব কথা বলে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে দিলো বাদশা কিন্তু ওদের মা কি বাসায় আদৌ ফিরবে নাকি ফিরবে না কেউ জানে না । বাড়িটা কেমন নিস্তব্ধতা

বাদশাহ আবারো ফোন দেওয়ার চেষ্টা করল তার বউ এর নাম্বারে, তখন ঠিক ফোনে রিং হচ্ছে।

সে একটা লাফ দিয়ে উঠলো ভাবলো ফোনটা তুলেছে তাহলে যাক কোথায় গিয়েছে অন্তত সেটা তো জানা যাবে ।

একবার কল হলো কিন্তু ওপর পক্ষ থেকে কোন সাড়া শব্দ পাওয়া গেল না ।
দ্বিতীয় বার আবার ফোন দিল ভাবল প্রথম না ধরেছে তাতে কি হয়েছে দ্বিতীয় বার তো অবশ্যই ফোনটা ধরবে ।

হ্যাঁ ঠিকই তখন ওপাশ থেকে ফোনটা রিসিভ করল।

বাদশা : হ্যালো সেলেনা।
সেলিনা: হ্যাঁ বলো (একটু আস্তে আস্তে)
বাদশা: কি হয়েছে তোমার ?
কোথায় তুমি কাল থেকে তোমাকে খুঁজে পাচ্ছি না, বাচ্চাগুলো খুব কান্না করছে তোমার জন্য ।

সেলেনা : আমি আর আসবো না তোমাদের এখানে । আমি তোমাদের সাথে সকল ধরনের সম্পর্ক শেষ করে দিতে চাই। তোমাদের এখানে আর আমার থাকতে একদম ভালো লাগছে না, যেন আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে ।
আর আমি এখন থেকে চাই তুমি যেন আমাকে একবারও আর ফোন না দাও । আমি এখন চলে এসেছি আমার রাস্তায়।

বাদশা : মানে কি কোথায় তুমি?
সেলিনা : আমি যেখানেই আছি না কেন আমি খুব সুখে আছি । তোমাদের ওখান থেকে চলে এসেছি আমি নিজেকে খুব প্রাউড ফিল মনে করছি । আমার যে দমবন্ধ হয়ে এসেছিল এতদিন এখন আমি খোলা বাতাস নিতে পারছি । এখন আমি আমার উন্মুক্ত জীবন যাপন করতে পারব।

বাদশা: তুমি কি বলছো এসব মাথা ঠিক আছে তোমার ?
সেলেনা: আমার মাথা পুরাটাই ঠিক আছে বরং তোমাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। তোমরা আমার সাথে রাত দিন এত পরিমাণে ঝগড়া করো আমার যে এখানে থাকতে একদম অসহ্য হয়ে গেছে । বরং আমাকে পাগল করে দিয়েছো তোমরা আমি চাই না তোমাদের কাছে আর ফিরে যেতে । আমাকে আর কখনো ফোন দেবে না বাই ভালো থেকো।

বাদশা: এই ফোন কাটো না কথা আছে আরো অনেক । হ্যালো, হ্যালো ..

সেলিনা অবশেষে ফোন কেটে দিল বাদশা দ্বিতীয়বার চেষ্টা করল কিন্তু ফোনটা বন্ধ পেল । সে বুঝে গেছে শেলিনা চলে গিয়েছে আর মনে হয় ফিরে আসবে না ।

কিন্তু ব্যাপারটা সে এখনো ভালো করে বুঝতেছে না আসলে বিষয়টা কি হয়েছে। কেন এভাবে বাড়ি থেকে চলে যাবে তাকে না বলে ।

খুবই চিন্তায় পড়ে গেল আর বাচ্চাগুলো এখন স্কুলে গেছে কিছুক্ষণ পরে ফিরে আসবে ওদেরকে সে কি দিয়ে সান্ত্বনা দেবে।

তবে এরই মধ্যে আরেকটা ঘটনা ঘটে গেলো বাদশার এক বোনের বিয়ে হয়েছিল তার শ্বশুরবাড়ির সাথেই তার নাম অবন্তিকা ।

অদ্ভুত ব্যাপার পরের দিনই ওই বোন বাদশাদের বাড়িতে এসে হাজির। ওকে যেন কেউ মারধর করেছে কেমন যেন কান্না ভাব ওর চোখে দেখা যাচ্ছে ।কি ব্যাপার কি হয়েছে ও এমন করছে কেন এভাবে তো কখনো আসেনি।

অবন্তিকা কান্না করতে-করতে বলতে লাগলো:

ও ভাইয়েরা তোমরা কোথায় আছো, আমার জীবনটা তোমরা শেষ করে দিয়েছো কিছু বাকি রাখোনি নাই ।

তখনই সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো, বেরিয়ে এসে সবাই বললো কি হয়েছে তোর? এরকম ভাবে কান্নাকাটি করছিস কেন আমাদের সব খুলে বল কি হয়েছে তোর?

অবন্তিকা: খুলে বললেই কি আর হবে । যা হবার তা তো হয়েই গেছে এখন আমারই কপাল খারাপ হয়ে গেল হায়রে কপাল ।

বাদশা: কি হয়েছে তোর সব কিছু আমাদের খুলে বল। না হলে আমরা বুঝবো কি করে আর কান্নাকাটি বন্ধ কর। এমনিতেই আমাদেরও মন মেজাজ খুবই খারাপ ।

অবন্তিকা: সেটাও তো আমি জানি। কেন তোমাদের মন খারাপ তোমাদের কি হয়েছে সব আমি জানি ।

বাদশা: কি হয়েছে তোর আমাদেরকে খুলে বল।

অবন্তিকা: শোনো তোমার বউ কত বড় শয়তান মহিলা তুমি তা জানো না।
এত বড় ফাজিল মহিলা কি করে তুমি বিয়ে করতে পারলা ভাইয়া।

আমার যে আজ ভাবতে অবাক লাগতেছে এই শয়তান মহিলা তো আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে । আমার এতো সুখের সংসার ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে সে তো তোমাদের এখান থেকে ওখানে গিয়ে জুড়ে বসেছে ।

বাদশা: মানে তুই কি বলতে চাচ্ছিস সেলিনা তোদের ওখানে কি করছে?

অবন্তিকা: শুধু আমাদের এখানে না আমার স্বামীর ঘরে এসে জুড়ে বসেছে।

বাদশা: কি করেছে একটু খুলে বল আমি কিছুই বুঝতেছি না।

অবন্তিকা: শোনো তাহলে তোমার সেলিনা আমার স্বামীর সঙ্গে সেই ছোটবেলা থেকেই সম্পর্ক ছিল প্রেম ভালোবাসার ।

আজ হয়তো সেই প্রেম উতলে পড়েছে তার জন্য তোমার এই সেলিনা ছুটে গিয়েছে ওর কাছে।

আর আমার স্বামী আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমি এটা সহ্য করতে পারেনি যে আমারি এতো সুখের সংসারে আগুন লাগিয়ে দেবে। বলো ভাইয়া এটা কি ঠিক হয়েছে আমার সাথে।

আমার তো আজ মরে যেতে মন চাচ্ছে এই পৃথিবীতে আমার বেচে থাকার কোনো লাভ নেই । আমার চারটা সন্তান গুলো খুবই কান্নাকাটি করছে আমার জন্য আমাকে প্রচণ্ড মারধর করেছে ।

আমিতো বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলাম না তারপরেও আমাকে দূর- দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে । আমাকে তিন বেলা খাবার দেয় নাই, ভেবেছিলাম না খেয়ে আমি সেখানে থাকবো কিন্তু সেটা হলো না ।

বাদশা: এইসব কি বলছিস তুই? তোর কথা কি সত্যি ? আমার যে বিশ্বাস হচ্ছে না।

বাদশার আরেক ভাই বললো, বিশ্বাস হবে কি করে এরকম একটা বজ্জাত মহিলা বিয়ে করেছ, যে যেখানেই যায় সেখানেই সম্পর্ক করে বসে থাকে এত পরিমাণে ছ্যাচরা মহিলা আমি আমার জীবনেও দেখি নাই। ছি আজ আমাদের সম্মান তো ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।

আমরা সমাজে মুখ দেখাবো কি করে নিজের ভাইয়ের বউ বেগে গিয়েছে তারই বোনের স্বামীর সঙ্গে মানে দুলাভাই এর সঙ্গে ছি।

সমাজে আমরা কি করে মুখ দেখাবো আমাদের তো মাথা কাটা গিয়েছে এই কথা যদি সমাজে বের হয়ে যায় তাহলে আমাদেরকে মানুষ ছি, ছি করবে ।

বাদশা কিছু বলছে না নিচের দিকে তাকিয়ে আছে কেননা তার এই সেলিনা একটা খারাপ মহিলা। এতটাই চরিত্র খারাপ যে এই বাড়িতেও এসে পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে আড্ডা মাস্তি করে বেড়ায় অথচ তার বাপের বাড়িতে থাকার সময়ও তাহলে সেখানেও এই ধরনের কাজ করেছে ।এই তো খুবই খারাপ মহিলা।

চলবে

গল্প: স্বামী যখন পরিস্থিতি শিকার
পর্ব : ২য় পর্ব
লেখক: S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here