গল্প: ভাবি যখন বউ _ ১০ম পর্ব (সমাজ থেকে নেওয়া)

757

অনেকদিন পর সুমন রেখার দিকে মুখ ফিরে তাকালো । এখন সুমন তাকে তার ভালোবাসা ফিরিয়ে দিল এখন তার আর কোন কিছুর কমতি নেই ।

অনেকদিন ধরে সে চেয়েছিল সুমন তাকে একদিন না একদিন ভালবাসবে সেটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছিল, কিন্তু হ্যাঁ এখন সময় এসে গেছে এখন থেকে ঠিকই সুমন তাকে ভালোবাসবে, তার পাশে এসে বসবে, তার মনের ইচ্ছা গুলো পূরণ করবে, কি যে আনন্দ লাগছে তার কাছে বলে বোঝানো যাবে না ।

তার ভিতরে নতুন একটা আমি কাজ করছে । সে যেন জীবনে প্রকৃত সুখ খুঁজে পেয়েছে , পেয়েছে স্বামীর ভালবাসা ।

এ ভালোবাসার জন্য সে এতদিন ধরে বঞ্চিত ছিল এই ভালোবাসা তাকে নিয়ে গিয়েছিল অনেক দূরে, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর সে ফিরে পেল তার ভালোবাসা ।

তবে যাই হোক, এই সুখ অল্পদিনের কেননা এখন রেখার পেটে বাচ্চা কিছুদিন পরেই ওর প্রসব হবে ।

খুব বেশি দেরি নেই, দিন ঘনিয়ে আসছে । সবাই রেখা কে খুব আদর যত্ন করছে, ভালো-ভালো খাবার দাবার খাওয়াচ্ছে । এমন কি রেখা ডাক্তারের কাছে গিয়ে চেকআপ করিয়েছে তার ছেলে সন্তান হবে ।

আর এটা শুনে তো বাড়ির সবাই আরো খুশি, বাড়িতে একটা মেহমান আসছে বাড়িটার শুন্যতা পূরণ করার জন্য সবাই খুশিতে আত্মহারা ।

আর ঐদিকে সুজন আর রুপার সম্পর্ক দিন-দিন আরো মজবুত হতে থাকে, তারা এতটা কাছে পেয়ে নিজেদেরকে খুব গর্বিত মনে করছে এবং তারা গোপনে-গোপনে একসাথে ঘোরাফেরা করা, একসাথে আড্ডা দেওয়া অনেক কিছুই তাদের মধ্যে চলছে । তবে এটা বিষয়টা এখনো কেউ জানেন না ।

কিন্তু একদিন রুপাকে সুজন বলতে লাগলো :

সুজন : সোনা এভাবে আর কতদিন চলবে চলো না এবার আমরা বিয়েটা করে ফেলি।

রুপা: পাগল হয়েছো! তোমার বিয়ে করার সময় এখন হয়েছে নাকি? বিয়ে করে বউকে খাওয়াবে কি ?

সুজন: সেটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে তুমি চিন্তা করো না, আগে বিয়েটা করে ফেলি তারপরে সব ঠিক হয়ে যাবে তুমি দেখো ।

রুপা: এত অস্থিরতা কেন বিয়ে করতে হ্যাঁ ? আমি কি চলে গেছি নাকি আমার অন্য কারো সাথে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে !

সুজন : আর যে আমার ভাল লাগছে না, এখন তো তোমাকে খুব কাছে পেতে মন চাচ্ছে, দূরে-দূরে আর একদম ভালো লাগছে না ।

রুপা : কি যে বলো তুমি, আমার তো খুব ভালো লাগছে । এই যে হাসি খুশি ভাবে দিনগুলো কাটাচ্ছি তারপরে পালিয়ে-পালিয়ে যাচ্ছি সিনেমা দেখতে কতই না ভাল লাগছে । শোনো এগুলো কি আর কখনো করতে পাবো বিয়ে হয়ে গেলে, তারপরে তো বাচ্চাকাচ্চা আরো অনেক টেনশন সামনে এসে দাঁড়াবে ।

তাই আমরা এভাবেই আরো অনেক সময় কাটাবো তারপরে না হয় বিয়ের চিন্তা করবো ।

সুজন : অনেক তো হলো এবার আর ভালো লাগছে না । আমি ভাইয়া ভাবিকে ও মাকে বলে ফেলি তারা নিশ্চয়ই রাজি হয়ে যাবে আমাদের এই সম্পর্কে রুপা তুমি আর অমত করো না প্লিজ ।

তোমাকে ছাড়া আমার এক মুহূর্ত ভালো লাগছে না । আমি যেন তোমার মাঝে একদম হারিয়ে গিয়েছি । তোমার স্পর্শ পাওয়ার জন্য আমি ব্যাকুল হয়ে পড়েছি আর এখন আর এই ছলনা ভালো লাগছে না । প্লিজ তুমি রাজি হয়ে যাও না !
তারপরে আমি তোমাকে তোমার এই স্বাধীনতা দিয়ে দেবো আমরা আবারও একসঙ্গে ঘোরাফেরা করব একসঙ্গে মুভি দেখতে যাবো, তোমার যতদিন না ইচ্ছা হয় ততদিন আমরা ঘোরাফেরা করব তোমার মনের আশা পূরণ করব ।

রুপা: তা ঠিক মানলাম কিন্তু তোমাকে তো আগে কিছু একটা করতে হবে, তা না হলে তো বিয়ে করা যাবে না । আমি বেকার ছেলেদের একদম পছন্দ করি না।
তুমি আগে একটা আকারে আসো তারপরে বিয়ের চিন্তা ভাবনা করবো ।

সুজন: আচছা ঠিক আছে । আমি দেখছি কি করা যায় খুব শীঘ্রই একটা চাকরির ব্যবস্থা করে ফেলবো তার পরেই আমরা চান্দের দেশে চইলা যামু ।

রুপা : হ্যাঁ আমরা চান্দের দেশে যাবো, যেখানে শুধু আমি আর তুমি থাকবো, আমরা দুটি রিদয় ভালবাসে একাকার হয়ে যাবো । শোনো আমরা চান্দে দেশে গিয়া ছোট্ট করে একটা কুড়েঘরে বাধবো।

আমাদের অনেক গুলা গেন্দা পোলাপান হবে, ওরা ছুটোছুটি করবে । অহ কি যে ভালো লাগবে শুধুই অপেক্ষায় রয়ে গেল দিনগুলোর ।

সুজন: সত্যি আমিও দিনগুলোকে কল্পনা করে যাচ্ছি কবে যে আসবে ।

রুপা তখন তার হাতে আকাশের ঐ চাঁদটা দেখাচ্ছে আর বলছে আমরা অইখানে ঘর বাধবো । ওই যে তুমি দেখতে পাচ্ছো চাঁদের মা বুড়ি বসে আছে, সুতা কাটছে আমরা উনার সাথেই থাকব ।

জানো উনার কেউ নেই, উনিও কিন্তু আমাদের পরিবারের একজন হবে ।
আমরাও সেখানে রাজত্ব করবো, তুমি কি বলো সুজন ।

সুজন: হ্যাঁ গো । তুমি ঠিক বলেছ ।

এভাবে তাদের কিছু রোমান্টিক সময় কাটছে । একে অপরের পাশে বসে খুব ভালো লাগার সময় ছিল ।

একে অপরের জীবনটাকে কিভাবে গুছিয়ে নেবে সেটার একটা পরিকল্পনা করে নিয়েছিল তারা ।

তারা একে অপরকে খুবই ভালোবাসে । তাদের ভালবাসায় কোন অপবিত্রতা নেই।

আর ঐদিকে সুমন সে হঠাৎ করে কেমন অন্যরকম হয়ে গেল, রেখার প্রতি দুর্বল হয়ে গেল, রেখাকে কেন জানি হঠাৎ করে এসে এতো ভালোবাসা দিচ্ছে আর এত যত্ন নিচ্ছে কেনইবা ।

রেখার সঙ্গে সে সারাক্ষণ সময় দিচ্ছে ।
তো হঠাৎ একদিন প্রসাবের চাপ বেড়ে যায়, রেখার খুব কষ্ট হচ্ছিল ।

এ বিষয়টা দেখে রেখার শাশুড়ি তাড়াতাড়ি বললেন সুমনকে, রেখাকে যেন হসপিটালে নেয়া হয় ।

দ্রুত করে রেখাকে তারা হসপিটালে নিয়ে আসে । ডক্টর জানালো অবস্থা তেমন ভালো না । উনারা কিছু বলতে পারছেন না, শুধুই বলছে আল্লাহকে ডাকতে ।

সবাই আল্লাহকে ডাকছে কি জানি হয় হসপিটালে সবাই উপস্থিত রুপা, সুজন, সুমন ও তাদের মা ।

কিছুক্ষণ পরে অপারেশন থিয়েটার রুম থেকে রেখার চিৎকার শোনা যাচ্ছে মনে হচ্ছে খুব কষ্ট হচ্ছে রেখার ।

হঠাৎ করেই শোনা গেল বাচ্চার কান্না । এখন তো বাইরে যারা ছিল সবাই খুশিতে হেসে ফেললো ।

তো অপারেশন থিয়েটার রুম থেকে ডাক্তার এসে জানালো ছেলে সন্তান হয়েছে তবে একটা দুঃসংবাদ আছে ।

সুমন: কি হয়েছে ডাক্তার সাহেব কি সমস্যা ?

ডক্টর : সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে রোগী মারা যায় she is death.

এই কথা শুনা মাত্রই সবাই কেমন নিস্তব্ধ হয়ে গেল । কি হল এটা আজব কান্ড,
সুমন হঠাৎ করে ধপাস করে ফ্লোরে পড়ে যাচ্ছে তখনই সুজন সুমনকে ধরার চেষ্টা করল ।

ঐ অবস্থায় সুমন বলতে লাগলো:

সুমন: কী বলছেন কি, এসব ?
ডাক্তার আমি বিশ্বাস করি না । আমার রেখার কিছু হতে পারে না আপনি ভুল বলতেছেন ।

একে-একে সবাই কান্নাকাটি শুরু করে দিল । কি সুন্দর একটা সুখের সংসার হঠাৎ করে দুঃখের বন্যা বয়ে গেলো ।

তখন ডাক্তার সাহেব আর কিছু বলছে না। চুপ করে আছেন আর বলছে, আমার সাথে আসুন..

ডাক্তার সবাইকে নিয়ে যাচ্ছে অপারেশন থিয়েটার রুমে ..

রেখা সবাইকে ছেড়ে চলে যাবে কেউই সেটা ভাবতে পারেনি অথচ রেখা নিজেও জানেনা যে তার মৃত্যু হয়ে যাবে ।

সবাই কেমন ভেঙে পড়ল তবে সব থেকে বেশি ভেঙে পড়ল সুমন । যে কিনা রেখাকে সব সময় অপমান করেছে, তুচ্ছ ভেবেছে, কখনো ভালোবাসা দেয়নি আর আজ যখন ভালোবাসা দেওয়ার সময় হয়ে এসেছে তখনই সে তাদেরকে ছেড়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে । আজ খুবই কষ্ট হচ্ছে তার অন্যদিকে সুজনও তার ভাবিকে খুবই মিস করছে । তারও খুব প্রিয় মানুষ ছিল ।

চলবে _

পরবর্তী পর্বে জানা যাবে

গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)
পর্ব: ১০ম পর্ব
লেখক: S M Rony Chowdhury

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here