গল্প : স্বামী যখন পরিস্থিতির শিকার (পর্ব :প্রথম পর্ব)

515

অফিস শেষ করে “বাসায় গিয়ে দেখি বউ বাসায় নেই “
‘কি আজব’ এই সময়ে তো বাসায় থাকার কথা ছিল ।

কোথায় গেলো কিছু তো বলে যায় নি । বাচ্চারা খুব কান্নাকাটি করতেছে কিন্তু কেন ?

এই সময়ে তো সেলিনা আমার জন্য রান্নাবান্না করে রেডি করে রাখে, আর কখন আমি আসবো, প্রতিদিনই আমাকে বারবার ফোন দিয়ে থাকে যে তুমি কোথায় এখনোও আসছো না কেন, বাসায় খাবার তো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে । কিন্তু আজ কোনো ফোন দিল না আর আজ আমি বাড়িতে এসে তাকে খুঁজেই পাচ্ছি না । কোথায় গেল সেলিনা ?

আমি হিমশিম খেয়ে যাই বাচ্চা গুলো এত চেঁচামেচি করতেছে মার জন্য আর বাড়িটা এমন নিস্তব্ধতা আমার কাছে বিষয়টা তেমন ভালো লাগছে না। আমি একটু শিহরিত হয়ে মোবাইলটা বের করে তাড়াতাড়ি ফোন দিতে লাগলাম আমার স্ত্রীকে ।

কিন্তু কি আজব ফোন নাম্বার বন্ধ দেখাচ্ছে কেন ? আমি আবার ফোন দিলাম আবারো বন্ধ দেখালো । কি ব্যাপার এরকম তো হবার কথা নয় । কি হয়েছে ওর সাথে যার জন্য সে বাড়ি থেকে কোথায় চলে গেছে বিষয়টা আমার কাছে একদম ভালো লাগছে না । পেটে প্রচন্ড খিদা কিন্তু এই অবস্থায় খাবারের কথাটা একদম ভুলে গিয়েছি মাথায় শুধু একটা বিষয়ই কাজ করছে, সে কোথায় গেল আর কিছু না বলে সে তো কোথায় যাওয়ার কথা না ।

আমি দেরী না করে তাড়াতাড়ি ওর বাপের বাড়িতে ফোন দিলাম ফোন দিয়ে বললাম আপনাদের ওখানে কি সেলিনা গিয়েছে ?

ওরা তখন বলল, না আমাদের এখানে তো আসেনি ।
আমি বললাম, ওকে ঠিক আছে তাহলে। ওরা বললো কোন সমস্যা হয়েছে নাকি?

আসলে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কোথায় গিয়েছে কিছু বলে যায়নি, ফোন নাম্বারটাও বন্ধ দেখাচ্ছে ।তাই একটু ঘাবড়ে গেলাম আর কি ।

ওপাশ থেকে বললো: ওকে আমরাও দেখছি কোথায় গিয়েছে খবর নিচ্ছি আপনাকে জানাচ্ছি পরে ।

মাথাটা প্রচন্ড ঘুরে যাচ্ছে কোথায় গিয়েছে আর ওর যাওয়ার জায়গাটাই আর কোথায় আছে, কিছু ভালো লাগছে না । বাড়িতে কেমন নিস্তব্ধতা আমি বুঝতেছি না কি হয়েছে বাড়িতে ।

আমার বাচ্চাদের আমি জিজ্ঞেস করলাম কি ব্যাপার তোমরা ভেবে কান্নাকাটি করছো কেন ? তোমাদের আম্মু কোথায় গিয়েছে ?

ওরা কিছু বলছে না শুধুই কান্নাকাটি করছে এমন ভাবে কান্নাকাটি করতেছে যেন মনে হচ্ছে ওরা খুবই অসহায় হয়ে পড়েছে ।

আমি বললাম আরে বাবা কি হয়েছে তোমরা এ ভাবে কান্নাকাটি করছ কেন ? তোমাদের মা কোথায় যায় নাই, এখুনি চলে আসবে এত কান্নাকাটি করার কি আছে ।

তখন আমার বড় মেয়েটা বলল: বাবা মা আমাদের খুব মেরেছে এবং আমাদেরকে মেরে চলে গিয়েছে ।

আমি বললাম: কোথায় গিয়েছে ?

:জানি না বাবা কোথায় গিয়েছে তবে মাও খুব কান্নাকাটি করেছে বাড়িতে খুব ঝগড়া হয়েছিল সেজন্য মা মনে হয় রাগ করে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছে

আমি: কার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে মা ?

:আমার কাকা এবং কাকি সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে, বাবা তারা খুব অকথ্য ভাষায় আমার মাকে গালি দিয়েছে । মা হয়তো সেটা সহ্য না করতে পেরে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছে । তুমি একটা কিছু করা বাবা, মাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করো ।

আমি: আমি দেখছি কি করা যায় । তোমরা কান্নাকাটি বন্ধ করে দাও খাওয়া-দাওয়া করো আমি তোমাদের মাকে এখনি নিয়ে আসছি, কিচ্ছু হবে না তোমার মায়ের, আমার লক্ষ্মী মেয়েরা চলো উঠো খাবার দাবার করে ফেলি ।

এইসব কথা বলে মেয়ে গুলোকে একটু শান্ত করার চেষ্টা করলাম কিন্তু কোন ভাবেই শান্ত হচ্ছিল না ওরা কান্নাকাটি করে যাচ্ছে, বিষয়টা আমার কাছে আরো খুব খারাপ লাগছে মনে হচ্ছে জটিল কিছু হয়েছে ওর সাথে তা না হলে সে বাড়ি থেকে এভাবে চলে যাবে কেন, এর আগে তো অনেক ঝগড়া করেছে কিন্তু বাড়ি থেকে কখনো এভাবে পালিয়ে যায় নাই ।

আমি এখন কি করব বুঝতেছি না ওর সাথে যোগাযোগ করার জন্য সব রাস্তায় বন্ধ তাহলে আমি ওকে কোথায় খুঁজব । আমি ওর সজনদের কাছে খোঁজ নিয়ে দেখলাম কোথাও সে যায়নি তাহলে গিয়েছে টা কোথায় !

এখন আমিও দেখতেছি অসহায় হয়ে পড়েছি কোথায় খুঁজি আর কোন রাস্তা পাচ্ছে না ।

আমি তখন রেগে মেগে গিয়ে আমার ভাইকে বললাম: কিরে তোদের সঙ্গে কি হয়েছিল?; তারা কেন আমার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করেছিস ?

ছোট ভাই: আরে ভাই শোনো তোমার বউকে আমরা তেমন কিছু বলিনি আমরা শুধু বলেছিলাম ভালো হয়ে যেতে ।

আমি : কেন কি করেছে সে তোদের ?
যার জন্য তোরা তাকে অপমান করবি ।

ছোট ভাই : এই যে তুমি প্রতিদিন অফিসে যাও, তুমি তো কোন কিছু খেয়াল রাখো নাই তোমার স্ত্রীর কোথায় থাকে কি করে সারাদিন ।কিচ্ছু খেয়াল রাখো নাই ।

আমরাও তো এতদিন লক্ষ করিনি কিন্তু আজ যখন দেখতে পেলাম বিষয়টা খুবই খারাপ লেগেছে তাই একটু উল্টাপাল্টা বলেছিলাম ।

আমি : কি হয়েছিল আমাকে একটু খুলে বল আর আমাকে না জেনেই তোরা তাকে এত বকাঝকা করেছিস কেন?

ছোট ভাই : আসলে ওই মুহূর্তে খুবই খারাপ লাগছিল তখন মাথায় কিছু আসছিল না কি করবো সেজন্য আমরা বকাঝকা করেছি ।

আমি : এখন বল কি হয়েছে বাড়িতে ।
ওমন কি হয়েছিল যার জন্য তোরা এত বকাঝকা করেছিস ;

ছোট ভাই : শোনা ভাই, তুমি প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় তুমি খেয়াল রেখো না তোমার বউ কি করে, কোথায় যায়।
শোনো তোমার বউ প্রতিদিন বাচ্চা গুলোকে ঘুম পাড়িয়ে সে ওই আলামিনের সাথে আড্ডা মাস্তি করে থাকে ।

আর যখনই ওই আলামিন আজ আমাদের বাড়িতে এসেছিল তখন আমরা আমাদের ঘরে শুয়ে ছিলাম হঠাৎ একটা শব্দ পাচ্ছিলাম ।

আমারা ভাবছি হয়তো কোনো কিছুর একটা শব্দ কিন্তু না একটা পুরুষ লোকের শব্দ পাচ্ছি । আমরা ভাবলাম কে আসতে পারে এই সময়ে ভাইয়া তো অফিসে তাহলে কে কথা বলছে ওদের রুমে ।

তখন আমি ব্যাপারটা তেমন ভাবে নেয়নি কিন্তু বিষয়টা খুব খারাপ লাগতেছে । আমি আস্তে-আস্তে এগিয়ে গেলাম, গিয়ে দেখি রুমের লাইট বন্ধ কিন্তু হাসাহাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে ।

আমি বললাম: ভাবি কি হয়েছে কে এখানে ?

তখনই ওই ছেলেটা অন্ধকারের মধ্যে দৌড়ে গিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যায় । আমি ধরার চেষ্টা করলাম কিন্তু ধরতে পারেনি কিন্তু বুঝে গিয়েছি ছেলেটা কে হতে পারে ।

তারপরে আমি ভাবিকে একটু উল্টোপাল্টা বলেছি তার জন্য যদি খারাপ হয়ে থাকে তাহলে তুমি আমাকে শাস্তি দাও ।

ছোট ভাইয়ের কথা শুনে আমি তখন লজ্জায় পড়ে গেলাম কিছু বলছি না । কোনো কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি যদি কথাটা সত্যি হয়ে থাকে তাহলে তো খুবই লজ্জার কথা ।

আমি নিচের দিকে চেয়ে রয়ে ঘরে ফিরে এলাম কিছু বলার তো ভাষা পেলাম না । নিজের স্ত্রী আজ এরকম একটা কাজ করতে পারবে কল্পনার বাহিরে ।

আমি তোকে তো খুব ভালবাসা দিতাম তাহলে সে অন্যের ভালোবাসার জন্য এতটা পাগলামি কেন করছে ।

আমি তো ওর মনের সকল ইচ্ছা পূরণ করতাম তাহলে সে কেন অন্যের কাছে হাত পেতেছে ।আমিতো ওর কোনো কিছুর কমতি রাখেনি তাহলে সে কেন এই কাজটা করে আমাকে সমাজের চোখে ছোট করে দিচ্ছে ।

এসব কথা চিন্তা করে আমি রুমে চলে আসলাম ।আমার তিনটা মেয়ে ওরা খুব কান্নাকাটি করছে ওদের মায়ের জন্য ।

ওরা ওদের মাকে খুব ভালোবাসে কিন্তু একটা দুঃখের কথা হল ওদের মা ওদেরকে খুবই অবহেলা করে কেন জানি আমার কাছে মনে হয় ।

তবে আমি তাদের আমার ভালোবাসার চাদরে আগলে রাখার চেষ্টা করি
মায়ের অপরিপূর্ণ ভালোবাসাটা আমি ওদেরকে বুঝতে দিতাম না ।

কিন্তু আজ কি হলো এটা …

এবার মূল গল্পে আসি :

গল্পটিতে আমি চরিত্রটির নাম হল বাদশা।
সে একটি স্বনামধন্য পরিবারের ছেলে তারা চার ভাই ও তিন বোন ।

ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা কোনো কমতি নেই ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে বড় হওয়া একে অপরকে কাজে সাহায্য করা, এমনকি সবাই একই ফ্যামিলির মতো সবার অন্তরে-অন্তরে থাকার মত অবস্থা তাদের মধ্যে আছে ।

প্রথমে সংসার টা ছিল খুবই সুখী । ওদের চার ভাইয়ের বাবা ছিল এলাকার খুবই গণ্যমান্য লোক ।

কিন্তু ওদের জন্ম দেওয়ার পরপরই মরণব্যাধি রোগে মারা যায় ওদের মা ।পরিবার টা কেমন অসহায় হয়ে পড়ে ।

এই চার ভাই ও তিন মেয়েকে উনি একাই দেখাশুনা করে এবং মেয়েদেরকে বিয়ে দেন এবং ছেলেদেরকে বিয়ে করান ।

তবে ওই সংসারটি ওদের বাবা খুব সুন্দর ভাবে চালিয়ে নিতেন ওদের মায়ের অপরিপূর্ণতা ওদেরকে একদমই বুঝতে দেয়নি । একদমই ওদেরকে রিয়েলাইজ করতে দেয় নাই ।

তবে যাই হোক একে একে সকল সন্তানদের তিনি বিয়ে করিয়ে দেন এবং তিনি এখন বৃদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন ।

উনাই মেজ ছেলের নাম ছিল বাদশা ।
মানে একটু আগে আপনারা যে কাহিনীটি শুনলেন সেটা তার সাথে ঘটেছে আমরা ওর জীবনের ঘটে যাওয়া অংশগুলি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতেছি .. ।

চলবে

গল্প : স্বামী যখন পরিস্থিতির শিকার
পর্ব : প্রথম পর্ব
লেখক: SM Rony Chowdhury

গল্পটি শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইল । গল্পটি সমাজ থেকে নেওয়া হয়েছে ।

সমাজ জীবনের একটি পরিবার থেকে গল্পটি তুলে ধরা হয়েছে । গল্পটি পুরোপুরি বাস্তব সুতরাং গল্পটি সম্পূর্ণ পড়ার অনুরোধ রইল ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here