গল্প: ভাবি যখন বউ _ ৫ম পর্ব

1134

রেখা সারারাত ঘুমাইনি, সারারাত শুধু কান্না করেছে সকাল হতে না হতে বাড়িতে মেহমান এসে হাজির ..

পাঁচ কেজি রসগোল্লা এবং হরেক রকমের ফল ফ্রুট নিয়ে হাজির হল রেখার বাবা এবং রেখার ছোট বোন ।

সকালে বাড়িতে হইহল্লা শুরু হয়ে গেল সবাই খুশিতে আত্মহারা হয়ে গিয়েছে কারণ ওরা অনেকদিন পরে এখানে বেড়াতে এসেছে তবে সবথেকে বেশি খুশি হয়েছে এবাড়ির বউ রেখা ।

রেখা এখানে থাকতে – থাকতে একবারে বোরিং হয়ে পড়েছে । মনে হয় গত 3-4 মাস ধরে সূর্যের আলো দেখতে পারে না । সারাদিন তাকে ঘরেই থাকতে হয় তাকে ঘর থেকে কেউই বের করে নিয়ে যায় না । একটু ঘোরার জন্য , একটু প্রকৃতি দেখার জন্য , একটু আলো বাতাস খাওয়ার জন্য তার ও তো মন চায় ।

তাকে তার আগের জীবনের মত আর সময় দিচ্ছে না প্রথমত তার জামাই তাকে সময় দিচ্ছে না ।

আর মেয়েদের বিয়ের পরে তো একজনের আশায় থাকে সে হলো তার প্রানের প্রিয় স্বামী । স্বামী যদি সকল চাহিদা পূরণ না করে তাহলে তো এসব থেকে বঞ্চিত হবেই ।

যাই হোক রেখা তার বাবা ও বোনকে অনেকদিন পরে দেখতে পেল । তবে খুব বিনয় প্রকাশ করছে তার মাকে দেখার জন্য । তার মার জন্য সে অস্থিরতা ভাব করছে ।রেখা তার বাবাকে বলছে _

রেখা: বাবা তুমি এসেছ আমি খুব খুশি হয়েছি । কিন্তু মাকে নিয়ে আসো না কেন ?

বাবা : আসলে বাড়িতে তো কেউ নেই তাই আসে নাই ।

রেখা : কি বলো বাড়িতে ভাইয়া ভাবি আছে না !! ওরা বাড়িঘর দেখাশোনা করবে তুমি মাকে নিয়ে আসতে ।

বাবা : আসলে ওরা বেড়াতে গিয়েছে তাই বাড়িটা ফাঁকা সে জন্যই তোর মা আসেনি।

রেখা: ও আচ্ছা তবে মাকে দেখার খুব ইচ্ছা হচ্ছে অনেকদিন দেখি না মাকে । মা কেমন আছে ?

বাবা : হ্যাঁ তোর মা ভালো আছে ।

রেখা : কিরে পাগলী রুপা তুই কিছু বলিস না কেন ? চুপচাপ হয়ে গিয়েছিস ব্যাপারটা কি পাগলামী কি ভাল হয়ে গেছে ?

রেখার বোনের নাম হচ্ছে রুপা । সে খুবই চঞ্চল একটি মেয়ে কথা বলে কেউ তাকে হারাতে পারে না । আর রেখার থেকে দেখতে দ্বিগুণ সুন্দরী ও লম্বা ও বটে ।

হাসলে যেন দুই গালে টোল পড়ে যায় রুপা সব সময় মুখে হাসি রাখতে ভালবাসে এবং সবার সঙ্গে হেসে কথা বলে তবে ওর একটি বদ অভ্যাস আছে সেটা হলো সবার সঙ্গেই মজা করতে পছন্দ করে ।

বয়স অল্প ক্লাস সেভেনে পড়ে কিন্তু এই বয়সেই পাকনামি টা একটু বেশি করে তবে আজ কেন এত চুপচাপ !

রেখা : কিরে পাগলী কথা বলছিস না কেন? রাস্তায় কি কোন সমস্যা হয়েছিল আসতে ?

(মনটা একটু ভালো করে)
রুপা: আরে না আপু কিছু হয়নি । তুমি ভালো আছো তো !

রেখা: আছি ভালোই তোর কি হয়েছে এত নার্ভাস লাগতেছে কেন তোকে?

রুপা: আরে কিছু হয় নাই ।
বাবা : আরে শোন আমি বলি কি হয়েছে রাস্তায় আসার সময় একটা ছেলে আমাদের খুব ডিস্টার্ব করছিল এবং আমি অনেক কিছু বলেছি কিন্তু ছেলেটা আমাদের পিছু ছাড়ছে না তখন তোর বোন রুপা রেগেমেগে ওই ছেলেটার গালে থাপ্পড় মারে তখনই ওই ছেলেটা সেখান থেকে চলে যায় এবং আর আমাদের পিছু আসে নাই ।

রেখা: বাহ ! ভালো কাজ তো এতে তো তোর খুশি হওয়ার কথা ভালো একটা কাজ করেছিস তাহলে মনটা বেজার কেন ?

আচ্ছা চল আগে রুমে এসো খাওয়া-দাওয়া কর তারপরে না হয় আমাদের কথা শুনবো আর অনেক গল্প করব ।

বাড়িতে সবাই খুশি ওরা খাওয়া-দাওয়া করে গল্পগুজব শুরু করে দিল কিন্তু শুধুমাত্র একজনই ঠিকঠাক নেই সে হলো সুমন ।

ঘরে সুমন তাদের দেখতে পারছে না তাদের সাথে কথা বলে চাচ্ছে না । তাদেরকে সুন্দরভাবে আপ্যায়ন করছে না সে তাদের থেকে একটু দূরে-দূরে থাকে ।

তখন এই জিনিসটা রুপা খেয়াল করল সে ভাবলো দুলাভাইয়ের কি হয়েছে আগে তো এমন ছিল না ।

অন্যদিকে সুজন খুবই খুশি কেননা রেখা ভাবির বোন রুপাকে তার খুব পছন্দ ।

রুপার মুখে কথা শুনতে তার খুব ভালো লাগে , রুপার সাথে সময় কাটাতে তার খুব ভালো লাগে , রুপার হাসি রুপার স্টাইল সবকিছুই ওর কাছে ভালো লাগে ।

এর আগে একবার যখন এসেছিল তখন তো সুজনকে রীতিমত পাগল করে গিয়েছিল ।

কি অপলক দৃষ্টিতে সুজনের দিকে তাকায় আর একটু পরে-পরে সুজনকে চোখ টিপ মারে ।

এটা দেখে সুজন তো ভয় পেয়ে যায় কি করছে এই ছোট পাগলী মেয়েটা ।
সুজন কে বিভিন্নভাবে বোকা বানানোর চেষ্টা করে মেয়েটা এবং সবার সামনে হাসির পাত্র করে তোলে ।

সেজন্য সে ভয়ে পেয়ে ওই মেয়েটার কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে তখন তো সে এত কিছু বুঝতো না বলতে গেলে অবুঝ বালক ছিল ।

এখন সে পুরোপুরি জ্ঞান অভিজ্ঞতা অর্জন করে ফেলেছে সেজন্য সে এখন আর বোকা নয়

একদিন দুপুরবেলা সবাই ঘুমাচ্ছে তখন রুপা এদিক-সেদিক হাঁটাচলা করছে । এমন সময় পিছন থেকে ওর হাত ধরে কে যেন টেনে নিয়ে যাচ্ছে ।

রুপা খুব একটা জোরে চিৎকার দেওয়া মাত্রই ওই লোকটা মুখে হাত চেপে ধরে ।

রুপা যখনই পিছন ফিরে তাকাল দেখতে পেল সুজন ।

রুপা : কি ব্যাপার বিয়াই আপনি আমাকে এভাবে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন কেন ?

সুজন : বিয়াইন আপনার সাথে কিছু কথা আছে । সেইজন্য আমারে কি দুইটা মিনিট সময় দেওয়া যাইবো ।

রুপা : আমার হাতে তো এই মুহুর্তে সময় নাই । আচ্ছা একটু সময় করে পরে আসি।
সুজন: আরে বিয়াইন এত ভাব করেন কেন ? অত ভাব কিন্তু ভালো না এত অহংকার ভালো না একদিন কিন্তু অহংকারের পতন হইবো ।

রুপা: আচ্ছা বলেন , তবে যাই বলেন না কেন একটু তাড়াতাড়ি বলেন আমার কিন্তু আবার একটু কাজ আছে ।

চলবে _

গল্প: ভাবি যখন বউ
পর্ব: ৫ম পর্ব
লেখক: S M Rony Chowdhury

গল্পটি পুরোপুরি সামাজিক থেকে নেয়া হয়েছে এই গল্পটি লেখক হিসেবে আমার অনুরোধ পুরো গল্পটি আপনাদের পড়ার অনুরোধ রইল এই গল্প দাঁড়া আমি কিছু শিখাতে চাই যদিও আমি একজন তুচ্ছ মানুষ । গল্পটি পুরোপুরি অন্য রকম ভাষায় লেখা গল্পটিতে মেইন চরিত্র হলো সুজন ।

আষা করি সব সময় এইভাবে আমাদের ওয়েবসাইটের পাশে থাকবেন এবং আপনারা কি রকমের গল্প পছন্দ করেন তা অবশ্যই আমাদের জানানোর চেষ্টা করবেন । আমরা সেই ধরনের গল্প আপনাদের কে দেওয়ার চেষ্টা করব । আপনাদের সর্বোচ্চ বিনোদন দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমাদের ।

তবে বর্তমানে আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য দুটি কথা ::

1 ) বর্তমান দেশের অবস্থা খুবই খারাপ সেটা তো আপনারা জানেনই । সবাই ঘরে থাকার চেষ্টা করবেন এখন আমাদের সতর্কই আমাদের জীবন বাঁচাতে পারে ।।

২) আমি বলতে চাই কেউই অপ্রয়োজনে বাহিরে বের হবেন না । নিজে বাঁচুন এবং দেশকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন

5 COMMENTS

  1. মাঝপথে ব্রেক হল কেন। অনুগ্রহ করে,( ভাবি যখন বউ-সিজন ৩ — ১৭ পর্ব থেকে দেওয়া হোক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here