গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)_৪র্থ পর্ব

1288

সুমন : জাহানামের চৌরাস্তায় যাচ্ছি তোমার কোনো সমস্যা ??

তখন মা আর কোন কিছু বলার সুযোগ পেল না কেননা হয়তো উনার জন্যই এই সংসারে এত ঝগড়াঝাটি । কেন না উনি উনার পছন্দ মতে তার ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন । সেটাই হয়তো উনি ভাবছেন যে এর একমাত্র কারণ উনি হয়তো এটার জন্য তিনি দোষী । সেজন্যই তিনি আর মুখ থেকে দ্বিতীয় বার কোন কথা বলার সুযোগ পান নাই ।

(তখন এই বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সুমন।)

এত রাতে কোথায় যাচ্ছে কে জানে কাউকে কিছু বলে যায় নাই । ঘরের ভিতর রেখা কান্নাকাটি করছে তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে এবং সে বঞ্চিত আজ ।

হয়তো অনেক মারধর করেছে রেখাকে এখনও কান্নাকাটি বন্ধ হয়নি কিন্তু শব্দ টা একটু কমে গিয়েছে গুনগুন করে কান্নাকাটি করছে আর ওদিকে সুজন রুমে খুবই উন্মাদ হয়ে যাচ্ছে কেননা ভাবির যদি কষ্ট হয় তাহলে সেটা সে সহ্য করতে পারে না ।

কিছুক্ষণ পরে রেখার রুমে যায় ওনার শাশুড়ি এবং শাশুড়ি কে দেখে রাখা হাউমাউ করে আবার কেঁদে দিলো আর বলতে লাগলো :

রেখা: মা আমি আর এখানে থাকতে চাই না । আমাকে আপনি যেতে দিন আমার যে এখানে অসহ্য লাগতেছে ।

  • শাশুড়ি: মা, কেঁদো না মা । আমি তোমার দুঃখটা বুঝতে পারছি । আসলে দেখো আমি বুঝতেই পারি নি যে এমন হবে । আমার ছেলেটা তো এমন ছিল না , কেন জানি এরকম করতেছে বিশ্বাস করো রেখা আমি তোমার সাথে এরকম করতে চাই নি ।

রেখা: দেখুন মা আপনার ছেলে যে রকমই হোক না কেন তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না কিন্তু আমি আর এই অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছি না । আমাকে আপনি দয়া করে বিদায় করে দিন প্রতিদিন একই রকম মারধর খাওয়া আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না । আমি জ্বলে পুড়ে মরে যাচ্ছি মা ।

  • শাশুড়ি: মা, কেঁদো না মা । তুমি আমার মেয়ের মতোই । আমি দেখতেছি তোমার জন্য কি করতে পারি কিছু একটা করব তোমার জন্য তুমি একটু শান্ত হও ।

এই বলে তিনি মাথা ভুলিয়ে দিতে থাকলেন । উনার শাশুড়ি মা কিছুক্ষণ পরে চলে যান ওনার রুমে বুড়ো মানুষ তো বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না ।

রেখা মেঝেতে পরে কান্না করতেছে তবে এখন কান্নার শব্দ টা আগের থেকে অনেকটাই কম আর এক দিকে তাকিয়ে সে যেন কিছু একটা ভাবছে।

এদিকে সুজন রুমে আর থাকতে পারছে না । সে তার ভাবিকে দেখতে অস্থিরতা ভাব করতেছে তখন সে দ্রুত যায় ভাবির রুমে গিয়ে দেখল রুমটা পুরো অগোছালো ।

কোন কিছুই ঠিকঠাক মতো নেই সব কিছুই এলোমেলো । একের পরে এক গ্লাস ,থালা ভাঙ্গা হয়েছে আলমারির কাচসহ সবকিছুই ভেঙে দেওয়া হয়েছে খুব বিশ্রী দেখাচ্ছিলো রুমটাকে ।

সুজন কিছু বলতেছো না শুধু তাকিয়ে আছেন আস্তে-আস্তে ভাবির কাছে এসে বসলো ।

সুজন : কেঁদোনা ভাবি ।
(সুজনের হাত দিয়ে ভাবীর চোখের পানি মুছে দিচ্ছে)সব ঠিক হয়ে যাবে ভাবি আর কেঁদো না ।

তার ভাবী ও তার দিখে তাকিয়ে আছে আর বলছে: কি আর ঠিক হবে সবই তো শেষ আমার জীবনটাই হয়তো এটাই লিখে রেখেছিলেন বিধাতা ।

সুজন: না ভাবি কারো জন্য বিধাতা দুঃখ লিখে রাখে না । হয়তো তোমার এখন দুঃখ আছে কিন্তু দুঃখের পরে সুখ অবশ্যই লিখে রেখেছেন বিধাতা ।

রেখা : সেটা আর কবে হবে রে ভাই । জীবনটা তো শেষ, জীবনে বিয়ে বলে তো একটাই হয় আর প্রথম বিয়েতে যদি মেয়েদের স্বামীর ঘরে সুখ না হয় তাহলে আর কোথাও সুখ হবেই না ।

সুজন: না ভাবি এমন কথা তুমি বলো না। দ্বিতীয় বিয়ের কথা কখনো তুমি মুখেই তোলো না । দেখো ভাইয়া কি ঠিক হয়ে যাবে আর তার ভুল সে বুঝতে পারবে । একদিন সে ঠিকই তোমার জন্য দেওয়ানা হবে তুমি শুধু সময়ের অপেক্ষা করো আর তুমি তোমার ভালোবাসা অর্জন করার জন্য চেষ্টা করো দেখবে ভাইয়া তোমার জন্য একদিন পাগল হবেই ।

এটা শুনে রেখা নিজ দিকে তাকিয়ে আছে কিছু বলছে না হয়তো মনে মনে ভাবছেন হতেও পারে তার জন্য ভালো কিন্তু তাকে অতিক্রান্ত চেষ্টা করে যেতে হবে ।

সুজন: যাও ভাবী এখন উঠে যাও । উঠে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে যাও আর এই সব ভুলে যাও ভাইয়ের সাথে কখনোই তুমি খারাপ ব্যবহার করো না , দেখবে তুমি খারাপ ব্যবহার না করতে করতেই সে তোমার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়বে তারপরে ঠিক তোমাকেই ভালবাসবে ।

সুজনের কথামতো রেখা উঠে গেল উঠে গিয়ে ফ্রেশ হওয়ার জন্য বাথরুমে যায় ।

আর এদিকে সুজন তার রুমে চলে আসলো সুজনের খুব মনটা খারাপ এই অবস্থা টা দেখে ।

সে মনে মনে ভাবছে মেয়েদের জন্মটাই হয়তো কষ্টের জন্যই হয় কেননা সারা দিন অতিক্রান্ত পরিশ্রম করেও ভালোবাসা পাওয়া যায় না ।

একটু ভালোবাসার জন্য দিনের পর দিন কাজ করে যায় কিন্তু একটু ভালোবাসা সে পায় না ।

সকলের মন রক্ষার জন্য কতই না কত কিছু করে থাকে কিন্তু সকলের মন সে রাখতে যে পারে না ।

হয়তো মেয়েদের স্বাধীন জীবনযাপন নেই সেজন্যেই তাদের এরকম কষ্টের পড়তে হয় ।

সুজন এটা নিয়ে খুব চিন্তা ভাবনা করে কিন্তু চিন্তা ভাবনা করে লাভ কি সে তো আর এটার উন্নতি করতে পারবে না ।

এখন পুরো ঘরটায় শান্তশিষ্ট , এখন সবাই সবার রুমে আছে এদিকে সুমন কোথায় বেরিয়ে গেল এত রাতে ? এগারোটা বাজে প্রায় বেচারা এত রাতে কোথায় বেরিয়ে গেল । ঝগড়া করেছে হয়তো ঘরেই থাকবে কিন্তু এত রাতে বাইরে যাওয়ার কোনো কথা না ।

যাই হোক তার জন্য কেউ চিন্তা করছে না যেখানে মন চায় সেখানে যাক পরিবারটাকে একদম তেজপাতা করে দিচ্ছে । আগে কি সুখে শান্তিতে ছিল পরিবারটা বিয়ের ছয় মাস তো সব ঠিকঠাক মতো ছিল কিন্তু এখন থেকে কি হয়ে গেল যে সারাদিন সারাক্ষণ ঝগড়াঝাঁটি বাড়িতে ।

এসব কিন্তু সবসময় ভালো লাগে না । সবার কাছে এখন জিনিসটা বিরক্তিকর ।

তবে যাই হোক এখন রাত একটা বাজে গেছে । বাসায় কলিংবেল বাজল এত রাতে আবার কে আসলো সবারই তো কান খাড়া ।

যেহেতু সুমন বাড়িতে নেই তাই তারা ভাবল হয়তো সুমনই বাড়িতে আসছে তাই দ্রুত করে সুমনের মা উঠে দরজা খুলে দিল ।

দরজা খুলে দেখতে পেল সুমন যেন একেঁবেঁকে পড়ে যাচ্ছে আর ওর শরীর থেকে প্রচন্ড দুর্গন্ধ বের হচ্ছে তাহলে নিশ্চয়ই সে কিছু উল্টাপাল্টা খেয়ে এসেছে ।

তখনি ছুটে গিয়ে সুমনের মা সুমনকে ধরতে গেল ঠিক তখনই সুমন বলতে লাগলো :

সুমন : আরে সর দূরে যা আমাকে স্পর্শ করবি না শয়তান মহিলা ।

মা : তুই এসব কি বলছিস বাবা ??

সুমন : তুই আমাকে বাবা বললি কেন ? শোন আমি তোর ছেলে নয় । আমি যদি ছেলে হতাম তাহলে আমার কপালে তুই এত কষ্ট দিতে না ।

(সুমন কথা গুলো আস্তে আস্তে বলতেছে এঁকেবেঁকে যেন পড়ে যাচ্ছে )

তখন তার মা সরে গেল সুমন আস্তে আস্তে করে তার রুমের দিকে যায় ।

তার রুমের কাছে গিয়ে দরজায় থাপ্পর দিতে থাকে ।

সুমন: কিরে ফকিন্নির বেটি দরজা খুলছিস না কেন ? দরজা খোল নাইতো দরজা ভেঙ্গে ফেলবো ।

সুমন এসব কথা বলতে থাকে আর জোরে জোরে দরজায় থাপ্পর দিতে থাকে ভিতর থেকে রেখা খুব বিরক্ত হয়ে দরজা খুলে দিল দরজা খুলে সে দেখতে পেল সুমন মাতাল অবস্থায় আছে ওর শরীর থেকে প্রচুর দুর্গন্ধ বের হচ্ছে ।

রেখা তাকে আর কিছু বললো না সে রুমে বিছানা ছেড়ে সোফায় বসে থাকলো । আর এদিকে সুমন এসে বিছানায় শুয়ে পরলো । আর বলতে লাগলো ..

সুমন : আমার জুতো খুলে দে ?

( রেখা কিছু বলছে না )

সুমন : কথা বলছিস না কেনো ফকিন্নির বেটি , চুলের মুঠি ধইরা বাইর করে দেবো।

(রেখা তাও কিছু বলছো না)

সুমন : কি হইলো কথা কানে যায় না ?

সুমন রেখার কাছে গিয়ে রেখাকে জোরে একটা থাপ্পর মারলো আর বলতে লাগল আমার ঘর থেকে বের হয়ে যা ফকিন্নির বেটি ।

রেখা ঐ রুম থেকে চলে আসে রেগেমেগে কিছুই না বলে এবং অন্য একটা রুমে এসে রাত্রিযাপন করে ।

সারারাত সে খুব কষ্টে কাটায় এবং একটুও ঘুমাই নি আর এদিকে তার মাতাল স্বামী বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে ।

এইভাবে ওই রাত্রি কেটে গেল সকাল হতে না হতেই বাড়িতে মেহমান এসে হাজির..

চলবে _

গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)
পর্ব: ৪র্থ পর্ব
লেখক: S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here