গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)_পর্ব: ৩য় পর্ব

1553
গল্প: ভাবি যখন বউ পর্ব: ৩য় পর্ব

রুমের ভিতর কান্নার শব্দ আরও বাড়তে থাকে যেন ঘরের মধ্যে কোনো কিছু বাংচুরের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে আর ভাইয়ার চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছে । ব্যাপারটা সুজনের কাছে অন্যরকম লাগছে । এরকম কান্নাকাটি প্রায় সহ সময় শুনে থাকে কিন্তু আজ একটু অন্যরকম কান্নার শব্দ টা __,,

অনেক জোরে জোরে হচ্ছে কান্নার আওয়াজ আর রুমে যেন অনেক কিছুই ভাঙচুর হচ্ছে । সুজনের কেমন যেন রেখা ভাবিকে অসহায় মনে হচ্ছে কান্নার আওয়াজ শুনে ।

আসলে সুমন একটু রাগচটা অল্পতেই রেগে যায় । তবে রাগের মাত্রা এতটাই বেশি হয়ে পরেছে যে দু’একদিন পর পরই শোনা যায় ঝগড়া আর মারধরের আওয়াজ । কিন্তু কে জানে কেন মারে, সেটা কেউই জানে না রুমের দরজা বন্ধ করে জালানা বন্ধ করে ভাবিকে কেন মারে ?

প্রতিদিন কেন ভাবির কান্না শুনে সুজনকে কাঁদতে হয় । কি হয়েছে সুমন ভাইয়ার কেন সে ভাবিকে এত জুলুম করছে কেন এত মারধুর করছে ।

মানে কি , সুজনের মনে প্রশ্ন জাগলো তার ভাইয়া তো এমন ছিল না । অনেক সহজ সরল ছিল এবং এক সময় ভাবিকে তো খুব পছন্দ করতো । তাহলে এমন কেন করছে আর ভাবিও তো দেখতে-শুনতে মাশাল্লাহ । কিন্তু তাদের মধ্যে প্রায়ই এরকম ঝগড়া হয় কেন বিষয়টা সুজনের মাথায় খুব ঘুরপাক খাচ্ছে ।

সে চিন্তা করল আজকে সে গিয়ে শুনবে ভাই এবং ভাবী কি নিয়ে ঝগড়া করে প্রতিদিন । সে আজ অতিষ্ঠ তাদের ঝগড়া শুনতে-শুনতে ।

এইসব চিন্তা করে সুজন এগিয়ে গেল ভাইয়ার রুমের পাশে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো এবং জালানায় কান লাগিয়ে শুনতে লাগল তাদের ঝগড়া ।

রেখা ভাবি : আমার কি আমার নেই ?
যার জন্য তুমি আমাকে দেখতে পারো না। আমাকে রেখে তুমি পাড়ার মেয়েদের সঙ্গে মজা করো কেন ?
বলো সুমন কিসের অভাব আছে আমার ?

সুমন : দেখো রেখা এত কথা আমার বলা ভাল লাগে না আর প্রতিদিন ঝগড়াঝাঁটি আমার কাছে খুব বিরক্তিকর লাগে ।শোনো আমার যেটা ভালো লাগে সেটাই আমি করি । এতে তুমি কে নাক গলানোর ?
বাড়িতে বউ হয়ে এসেছে বলে সব ব্যাপারে কি তুমি একাই রাজত্ব করবে ।

রেখা ভাবি : হ্যাঁ এখন সব দায়িত্ব আর রাজত্ব আমার । আমার উপরে পড়েছে এই গোটা পরিবারটা চালানোর আদেশ ।

সুমন : না না এটা কখনোই হতে পারে না । তোমাকে এত বড় সাহস এখনো দেওয়া হয় নাই । নিজেকে কি মনে করো হ্যাঁ ??

( সুমন এই বলে রেগেমেগে একটা গ্লাস ছুরে ফেলে দিল মেঝেতে )

রেখা: আমি নিজেকে কিছুই মনে করি না । আমি চাই আমার স্বামী যেন আমার কাছে থাকে এবং আমাকে শুধু ভালোবাসে । আমি চাই না আমার স্বামী অন্য কারো দুয়ারে দাঁড়িয়ে সুখ নিতে ।

সুমন : আরে হয়েছে হয়েছে অনেক হয়েছে এবার একটু বন্ধ করো তো ।।

না হয় কিন্তু আমার রাগের মাত্রা আরো বেড়ে যাবে । আমি তোমাকে কি কোন কিছুর অভাবে রেখেছি ? খাবার-দাবার, ভরণ-পোষণ, সাজসজ্জা সবকিছুই তো আমি তোমাকে দিয়েছি তাহলে আমাকে এত অশান্তি কেন দিচ্ছো রেখা ??

এই ঘরে থাকার জন্য তোমাকে তো কেউ কখনো অপমান করি নাই, আর তোমাকে তো আমি ভালোবাসি , আমি তো তোমাকে ফেলে দিইনি ডাস্টবিনে, তাহলে কেন-কেন শুধু-শুধু এমন করতেছো আমার সঙ্গে আর কথা বাড়িয়ে এত ঝগড়া বাড়াচ্ছ কেন ??

রেখা ভাবি : নিকুচি মারি তোমার ও সবেব , দরকার নেই আমার ও সবের ।
আমি শুধু চেয়েছিলাম একজন ভালো মানুষ কিন্তু সেটা আমি পেলাম না । আমি শুধু চেয়েছিলাম যে আমার হাতটি ধরে সারাটি জীবন আমারি পাশে থাকবে , যে আমার জন্য তার পুরো জীবন টি দিতে বাধ্য থাকবে , যে আমাকে ভালোবেসে তার বুকে আগলে রাখবে ।

আমার ভালো লাগা গুলো যেন তার কাছে হবে স্বর্গের দেওয়া ঠিকানা । যে আমার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য হাজারো চেষ্টা করে যাবে ।যার বুকে শুধুমাত্র আমার জন্য স্থান থাকবে , যার বুকটি চিরে শুধুু পাওয়া যাবে আমারই নাম কিন্তু আমিতো ওই সবের মধ্যে থেকে কিছু পায় নাই ।

সুমন:বাহ-বাহ __ অনেক হয়েছে ছিনেমা । শোনো ব্রাহ্মণ হয়ে আকাশের চাঁদ ধরার চেষ্টা করো না । রেখা তোমার কাছে এখন যেটা আছে সেটা কিন্তু তোমার কাছে অনেক বড় পাওয়া ।

  • রেখা ভাবি : আমার কাছে কিছু নেই আর আমি চাইনি ওসব, আমি চাইনি ঔ সব ..

সুমন: আরে বন্ধ করো তো এসব ন্যাকামি । ও এখন বেশি পেয়েছ তো তাই আরো বেশি চাচ্ছ । সুখে থাকলে ভুতে কিলায় যদি তোমার বাবার মতো দিতাম তাহলেই ভালো ছিল এখন তো বেশি খাচ্ছো লুটেপুটে আর দিন- দিন বেশি পাকনা গজাচ্ছে ।

রেখা ভাবি : কি বলতে চাচ্ছো তুমি ?

  • আমার বাবার ধন সম্পদ ছিল না বলে কি আমার বাবার সুখ ছিল না ?
  • আমার বাবার ধন সম্পদ ছিল না বলে কি আমার বাবার ভালোবাসা ছিল না ?
  • সুখ ছিল না ঘরে শান্তি ছিল না ?

শোনো সবকিছুই ছিল তোমাদের থেকে হাজার গুন বেশি ভালোবাসা ছিল আমাদের ছোট্ট কুড়ের ঘরে । তোমাদের থেকে হাজারগুন বেশি মায়া , মহাব্বত আছে আমাদের এই ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে প্রতিটা মানুষের প্রতি মানুষের ।

আর তোমাদের এখানে আছে শুধু টাকার পাহাড়, দামি গাড়ি, দামি গয়নাগাটি, দামি দামি খাবার কিন্তু শুধু একটা জিনিসের অভাব সেটা হচ্ছে সুখ-শান্তি আর ভালোবাসা ।

এইসব কথা শুনে সুমনের মাথাটা আরো গরম হয়ে গেল সে তার সামনে যাই পাচ্ছে তাই মাটিতে ফেলে ভাঙচুর করছে । একে একে অনেকগুলো গ্লাস ভেঙে ফেললো ।

এসব কথা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে সুজন শুনছে । সে ভাবির কষ্টটা বুঝতে পারল

আসলে ভাবির পরিবারটা ছিল অনেক গরিব । দিন এনে দিন খেতে ওনার বাবা । ওনার বাবা ছিলেন সাধারণ একজন লন্ডির দোকানদার । আমরা কেউই সেখানে বিয়ে করাতে রাজি ছিলাম না ।

কিন্তু ভাবি ছিলেন প্রচুর সুন্দর ও গুনবতী যার জন্য সুজনের মায়ের খুব পছন্দ হয়েছে সেজন্যই মায়ের মতে এই বিয়েটা হয়েছে ।

কিন্তু ভাইয়া এত গরিব ঘরের মেয়ে বলে খুব অপছন্দ করে । ওদেরকে ঘৃনার চোখে দেখে । গরীবদেরকে মানুষ বলেই মনে করে না ।

হয়তো এই কারণেই ভাবিকে দেখতে পারছে না ভাইয়া । এতোটুকু কথা শুনেই সুজন সেখান থেকে কেটে পড়লো ।

আর রুম থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে হয়তো এখন রেখা কে মারধর করছে তার ভাইয়া ।

খুব কষ্ট হচ্ছে সুজনের সে অনুভব করতে পারছে যে ভাবির ভিতরে যন্ত্রণাটা ।

আপনারা ভাবছেন এসব ঝগড়া ঝাটি সুজনের মা কেন থামাচ্ছে না ? আসলে মার কথা এখন আর সুমন রাখতে চায় না । মাকে একনজর দেখতে চায় না সে … মা যেন দু-চোখের বিশ হয়ে গেছে ।

তখন সুজন রুম থেকে দেখতে পাই ওর ভাইয়া প্রচণ্ড রেগেমেগে বাসা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে । পিছন থেকে সুজনের মা বলতে লাগলো কোথায় যাচ্ছিস এই এত রাতে ?

সুমন : জাহানামে যাচ্ছি তোমার কোনো সমস্যা ??
এই বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সুমন ।।

চলবে _

গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)
পর্ব: ৩য় পর্ব
লেখক: S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here