গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)_পর্ব: ২য় পর্ব

3018

ওদিকে সুজন স্কুলে ক্লাস শেষ করেই বাসায় চলে আসলো ।

বাসায় চলে এসে আবার এরকম ঠিক ঠান্ডা, শান্তশিষ্ট, ভদ্র ছেলের মত আছে । রুম থেকে বের হচ্ছে না ।

তখন সুজন বাসায় বসে চিন্তা করছে আজ তো বাড়িতে মনে হয় একটা কিছু হবে । ভাবি তো এই কথাটা মনে হয় সবার সাথে শেয়ার করেছে হয়তো আমার খবর করে ছাড়বে ।

তবে তার সব থেকে বড় চিন্তা় হলো এ বিষয়টা নিয়ে সেটা হল, রাতের বেলায় কিভাবে ভাবির কাছে কিভাবে পড়তে যাবে।

ওহে আগে তো বলাই হয়নি সুজন প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে তার ভাবির কাছে অংক করতে যায় । ভাবি সাইন্সের স্টুডেন্ট ইন্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিবে এবার । খুব ভালো অংক বোঝাতে পারেন তিনি , বলতে গেলে সুজন উনার কাছ থেকেই অঙ্ক করে থাকেন । উনি পড়াশোনায় একদম পাকা পুরো বইটি যেন উনার মুখস্থ এবং খুব সুন্দর করে পড়াতেও পারেন ।

যেটা সুজনের কাছে খুব ভালো লাগে এবং সে যেন উনার কাছে অংক করে নিজেকে খুব লাকি মনে করে বন্ধুদের কাছে সে নিজেকে লিজেন্ড ভাবতে পারে।

বন্ধুরা তাকে হারাতে পারে না এবং তার সব বন্ধুরাই জানতে চাই সে কোথায় প্রাইভেট পড়ে কিন্তু সে কাউকে বলে না । এটা সে গোপন রাখে সে সবাইকে বলে সে প্রাইভেট পড়ে না নিজে নিজেই চেষ্টা করে।কিন্তু তার বন্ধুরা সন্দেহ করেই থাকে আর এত পরিমাণে অংক করতে পারে এটা দেখে তো সবাই অবাক স্যার পর্যন্ত ।।

কিন্তু সুজন এখন কি করবে এখন কি ভাবির কাছে পড়তে যাবে ??

আর ভাবি কি থাকে এখনও পড়াবে ? সে কিছুই বুঝতেছে না । কি করবে এখন সন্ধ্যা হয়ে আসছে একটুপরই সময় হয়ে আসছে ।

সুজন মনে মনে ভাবলো যাক আজ পড়তে যাব না , ভাবীর মনটা একটু ভালো হোক তারপরে পড়তে যাব । আর সে তার চোখ বন্ধ করলেই ঐ দৃশ্যগুলি চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাই সে ঐ সমস্ত ভুলার জন্যই ভাবি থেকে একটু দূরে থাকার চেষ্টা করবে বলে মনস্থির করেছেন ।

কিন্তু কে শোনে কার কথা কিছুক্ষণ পরেই দরজার ওপাশ থেকে শোনা যাচ্ছে ভাবির কণ্ঠ ।

মধুর সুরে বলছে:

রেখা ভাবি: এই সুজন দরজা খোলো । আজ কি পড়ার কথা মনে নেই ?

কথাটা শুনে সুজন চমকে গেলো সে ভাবলো কোনো দিন তো ভাবি আমাকে পড়ার জন্য চাপ দেয় নাই । আমিই তো এতদিন চাপ দিয়ে এসেছিলাম । কতই না উনার পিছনে ঘুরেছি যে আমাকে এই অংকটা করিয়ে দাও, ঔ অংকটা করিয়ে দাও , আমাকে একটু সময় দাও ইত্যাদি আরো অনেক কিছু আমি সময় নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেছিলাম ।

কিন্তু ঠিক আজ তার উল্টো ভাবি আমারই রুমের সামনে এসে আমাকে বলছে পড়ার কথা যাক আমি কিছু বুঝতেছি না । সবকিছু আমার সাথে উল্টাপাল্টা হচ্ছে ।

আমি কিছুক্ষণ পরে বললাম : ঠিক আছে আমি আসছি এখুনি ।

তখন ওপাশ থেকে ভাবি বলল : আজ তোমার ভাইয়ার শরীরটা খারাপ তোমাকে তোমার রুমেই পড়াবো ।

সুজন: আমিতো আরও অবাক হয়ে গেলাম ভাবলাম তাহলে তো আজ আমার খবর হয়ে গেছে একা একা তো আমাকে মেরে ফেলবে । না জানি আমার উপর কতটা রাগ রেখেছে । সব রাগ তো আজ রাতেই হয়তো আমার ওপর ছেড়ে দিতে পারে । কিন্তু আমি তো এই রকম ছেলে নয় ভাবি হয়তো যেমনটা ভাবছে ।
আমিতো রীতিমতো ভয় পেয়ে যাচ্ছি কি জানি কি হয় আমার সাথে ।।

ওপাশ থেকে আবার কন্ঠ শুনতে পেলাম:
কি হলো এখনও দরজা খুলছে না কেন ?

আমি তাড়াতাড়ি হুড়মুড় করে ওঠে চেয়ার টেবিল গোছালাম আর একটা গেঞ্জি পড়লাম ।পরক্ষনেই দরজা খুলতে গেলাম আর দরজাটা খুলেই দেখি ভাবি মুখ ভর্তি হাসি দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।

((সুজন ভাবছে খুব রহস্যজনক হাসি ।))

আর ভাবি বলতে লাগলেন কি ব্যাপার এতক্ষণ লাগে দরজা খুলতে ?
কি করো রুমে হ্যা ??
গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলতেছ নাকি ?
আমি কি এসে বিরক্ত করলাম নাকি ??

সুজন : আমি একটু মুচকি হেসে বললাম আরে ওমন কিছুই নয় ভাবি আসলে শুয়ে ছিলাম তো তাই উঠতে একটু দেরি হয়েছে।তুমি ভিতরে এসে বসো আমি রেডি হয়ে যাচ্ছি ।

সুজন এই কথা বলেই হুড়মুড় করে রেডি হয়ে তার অংক খাতাটা বের করে আনল ।

ঠিক তখনই রেখা ভাবি বলতে লাগলেন : হোম ওয়ার্ক করেছ ?

সুজন মনে মনে ভাবছে ও মাই গড , আমি তো ভুলেই গিয়েছি হোম ওয়ার্ক এর কথা । কাল থেকে এই পর্যন্ত আমি একটা চিন্তা নিয়েই ব্যস্ত আছি আমার কখনোই সেটা মনে হয় নাই তো , একবারেই ভুলেই গিয়েছিলাম কিন্তু এই কথা তো ভাবিকে বলা যাবে না ।

সেজন্য সুজন বলল : শরীরটা খারাপ ছিল তো তাই হোমওয়ার্ক করতে পারে নাই ।

ভাবি: হ্যাঁ বুঝেছি কি হয়েছিল !! আর নেকামি করতে হবে না বই বের করো ।

সুজন বই বের করল এবং ভাবি কিছু অংক করতে বলল ।সুজন সেগুলো করতে থাকলো ।

অংক করতে করতে সুজন মনে মনে ভাবতেছে সেকি ভাবির কাছে ক্ষমা চাইবে ঔ বিষয়টার জন্য নাকি ক্ষমা চাইবে না ।

আর সে কি করে বলবে এই কথাটা মুখে । না পারবে না সে খুব ভয় পাচ্ছে । তখন কিছু না বলেই নিজ দিকে তাকিয়ে একের পর এক অঙ্ক করতে থাকলো । সুজন একটু উপর দিকে তাকিয়ে দেখলো ভাবি কি করছে ?

যতবারই সে অপর দিকে তাকায় ততোবারই সে দেখতে পায় ভাবি তার দিকে ফ্যাল-ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে যেন তাকে জেন্ত গিলে ফেলবে , মুখে কোন হাসি নেই , কোন শব্দ নেই শুধু এভাবে তাকিয়ে আছে কেন ওর দিকে ।

সে উনাকে দেখে খুব ভয় পায় । সে আর ওপরের দিকে তাকায় না একবারে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে কি করবে বেচারা পড়ে গেল মহাবিপদে ।

একে একে পাঁচটা অংক করার পর খাতাটা ভাবীর হাতে তুলে দিলো দেখার জন্য ।

ভাবি একের পর একটা করে অংক দেখতেছে আর সবগুলোতেই যেন ভুল রয়েছে । ভাবি রেগে মেগে আগুন হয়ে আছে সুজন এর ওপর ।

ভাবি : এইসব কি করেছো হ্যাঁ ?
মাথা কি পুরোটা গেছে ?
এত সুন্দর করে অংক গুলো বুঝিয়ে ছিলাম কিন্তু তুমি তার ঠিক উল্টোটা করেছো !!
কি করেছে এটা ? আমার তো ভাবতেই অবাক লাগতেছে ।

সুজন নিচের দিকে তাকিয়ে আছে কিছুই বলার মত ভাষা খুজে পাচ্ছি না কেননা সে এখন অপরাধী কিন্তু কি করবে বেচারা সে তো কাল থেকে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে । একটা চিন্তায় তাকে ঠিকমত ঘুমাতেই দিচ্ছে না ।

সে মনে মনে ভাবছে আচ্ছা আমার সাথে এটা হয়েছে তাই বলে আমি ঠিকমত ঘুমাতে পারছি না কিন্তু ভাবির সাথে ও তো এমন হয়েছে তাহলে তিনি কিভাবে ঠিকঠাক মতো আছেন । সুজন এসব কিছু ভাবছে ।

ভাবি : কি হয়েছে উত্তর দিচ্ছ না কেন ? কথা কি কানে ঢুকছে না ?

সুজন ভাবছে ভাবি তো কোনদিনই আমার সাথে এরকম করে কথা বলে নাই । আমি যদি অংক না পারতাম তাহলে তো তিনি আমাকে খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিতেন এরকম বকাঝকা তো একদিনে করতেন না , তাহলে আজ কেন আমার উপরে এত কঠিন হয়ে পড়েছে একটু চিন্তা করে স্বজন বলতে লাগলো :

হ্যাঁ আসলে শরীরটা খারাপ তো আর অনেকদিন ধরেই অংক গুলা করা হয় না সেজন্য ভুলে গিয়েছি তুমি কিছু মনে করো না আমি কালকের মধ্যে আবার করে নেব ।

ভাবি : সেটাই যেন হয় আমি কালকের মধ্যে যেন অংক গুলো খাতায় পাই । যাতে কোন ভুল থাকে না ।

সুজন : ঠিক আছে ভাবী তাই হবে ।

এ বলে রেখা রেগেমেগে সেখান থেকে উঠে যায় এবং ওনার ঘরে যায় ছুটে ।

সুজন ওর রুমে অংক করতে ব্যাস্ত হয়ে পরে কেননা তাকে কালকের মধ্যে সব আবার রিভিশন দিতে হবে , না হয়তো ভাবি আবার বকা দিতে পারে সেজন্য সে অংক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে অন্য সব চিন্তা বাদ দিয়ে ।

এদিক থেকে ভাবির ঘর থেকে কেমন একটা কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে ।

সুজন : ভাইয়া তো বাসায় তাহলে ভাবির কান্না করছে কেন ? কি হয়েছে ভাবির ? তো এরকম ভাবে কখনো কান্না করে নাই । তাহলে কি আমি একটু গিয়ে দেখবো, না ঠিক হবে না ভাইয়া যখন বাসায় তাহলে আমার যাওয়া ঠিক হবে না ।

কিন্তু কান্নার শব্দ আরও বাড়তে থাকে যেন ঘরের ভিতরে কোনো কিছু বাংচুরের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে আর ভাইয়ার চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছে _

চলবে _

ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)
পর্ব: ২য় পর্ব লেখক: S M Rony Chowdhury

আগের পর্বের পড়তে এখানে কিল্ক করুন ১ম পর্ব

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here