গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)__প্রথম পর্ব

1801
গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)

বাথরুমে দরজা খুলেই দেখি ভাবী গোসল করছে । এই অবস্থা টা দেখে হঠাৎ করে শরীরের সব তাপমাত্রা মাথায় উঠে গেল ।

মানে ভাবতে অবাক লাগতেছে কখনো এই অবস্থায় দেখতে পাবো ভাবিকে চিন্তাও করতে পারতেছি না । কি আজব গোসল করছে ভালো কথা অন্তত দরজাটা লাগিয়ে তো গোসল করবে ! কিন্তু না এটা কি রকম কথা দরজাটা খোলা রেখেই কি গোসল করতে হবে ??

ব্যাপারটা আমি কিছুই বুঝলাম না । আমাকে দেখে তখন ভাবি তাড়াতাড়ি টাওয়েল দিয়ে তার শরীর ঢাকতে লাগল । এমন ভাবে তার শরীর ডাকতেছে দেখে মনে হচ্ছিল তাকে কেউ লোট করে নিচ্ছে । কিন্তু আমি তো এইসব উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে আসে নি । আমি তো এসেছিলাম আমার কাজে কিন্তু হয়ে গেল তার উল্টো ।

তখন আমি কিছুই না বলে একদৃষ্টিতে 5 সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে চলে আসি আমার আমার রুমে , রুমে এসে আমি ঠিক স্বাভাবিক ভাবে আমার কাজকর্ম করে যাচ্ছি । আমি এটা কখনো মনে করতে চেষ্টাও করতেছি না কারণ যেটা হয়েছে সেটা একটা দুর্ঘটনা । এটা মনে না রাখাই উত্তম কাজ হবে আমার কাছে মনে হলো ।

কিছুক্ষণ পরেই ভাবি বাথরুম থেকে বের হয়ে তার রুমের দিকে গেল আমি এই সুযোগে বাথরুমে গিয়ে আমার কাজটা সেরে নিলাম । আমি খুব স্বাভাবিকভাবে চলাচল করার চেষ্টা করলাম এ বিষয়টা আমি কারো সাথে শেয়ার করলাম না । আর আমি কিন্তু ওই ধরনের ছেলে মোটেই নয় ।

তবে মনে মনে ভাবলাম যদি ভাবি ভাইয়ার কাছে কিংবা মার কাছে বিচার দেয় তাহলে তো খুব বাজে ভাবে আমি ফেঁসে যাবো । তখন তো আমি খুব বড় চিন্তায় পড়ে গেলাম । কি করা যায় ভাবি যদি ভাবে যে আমি ইচ্ছে করেই বাথরুমে ঢোকার চেষ্টা করেছিলাম তাহলে তো বিষয়টা খুবই খারাপ দেখায় । হ্যাঁ খুবই চিন্তার বিষয় , আমিতো পড়ে গেলাম মহাবিপদে , কি করা যায় এখন খুবই চিন্তা করছি ।

এদিকে ভাবী গোসল শেষ করে সবার জন্য খাবার রেডি করছে ডাইনিং টেবিলে । খাবার রেডি করা শেষ এখন সবাইকে ডাকছে খাবার খেতে আমি আমার রুমে বসে আছি এদিক থেকে ভাইয়াকে ডাকলো তারপরে মা কে ডাকলো আমাকে কিন্তু ডাকলো না ।

আমি মনে মনে ভাবলাম কাজ সেরেছে তাহলে হয়তো হবে একটা কিছু আমার উপরে । আমিতো রীতিমতো ভয় পেয়ে যাচ্ছি কি জানি কি হয় । তবে যাই হোক আমি কিন্তু ইচ্ছা করে করেনি কাকে বোঝাবো এ বিষয়টা !!

একে একে সবাই খেতে চলে আসলো সবাই খাওয়া-দাওয়া শুরু করবে তখনই দেখে আমি নাই । ভাই আমাকে ডাকতেছে কিরে সুজন তুই আসছিস না কেন ? এতক্ষণ ডাকাডাকির পরেও কেন আসছিস না ?

  • আমি বললাম : ভাইয়া এইতো আসতেছি একটু ওয়েট ।

তারপর আমি তারাতাড়ি করে চেয়ারে গিয়ে বসে পড়লাম এবং মুখটা নিচের দিকে দিয়ে খেতে শুরু করলাম কোন কথা বললাম না কারো সঙ্গে একবারে স্তব্ধ নীরব পরিবেশের যেন ।

আমি মনে মনে ভাবলাম কি ব্যাপার এত শান্ত কেন পরিবেশটা । এর আগে তো কোনদিন এভাবে আমরা খাইনি । কোন না কোন একটা বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করি সবসময়ই তাহলে আজ কেন সবাই চুপচাপ । মনে মনে ভাবলাম তাহলে কি আমার উপর দিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে এখনই !

না এরকম কিছু হবে না আমার ভাবি তো অনেক ভালো । আমাকে মনে হয় কষ্ট দেবে না সে মনে হয় বুঝতে পেরেছে আমি তার সঙ্গে ইচ্ছা করে এটা করিনি ।

খাওয়ার অর্ধেক মুহূর্তেই আমি মাথা অপরদিকে তুললাম । একটু তুলেই দেখি ভাবির চেহারা ভাবি আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে । কেন এমন ভাবে তাকিয়ে আছে, আমি যেন খুব ভয় পাচ্ছি এই অবুঝ একটা বাচ্চা ছেলে দিকে এভাবে কেউ তাকিয়ে থাকে । কিন্তু কিছু বলছে না এভাবে কেন আমার দিকে তাকিয়ে আছে আমি তো রীতিমত খুব ভয় পাচ্ছি । আমি তাড়াতাড়ি নাকে-মুখে ভাত দিয়ে খেয়ে শেষ করি আর রুমে চলে আসি । কি জানি আমার সাথে কি হতে চলছে আল্লাহ তুমি যেন সহায় থাকো আমার উপর । যাক স্কুলের সময় হয়ে গেছে আমাকে এখনই স্কুলে যেতে হবে ।

প্রতিদিনই মা আমাকে টিফিন রেডি করে দেয় কিন্তু আজ দিচ্ছে আমার ভাবি আমি প্রতিদিন টিফিনের জন্য চেঁচামেচি করতাম কিন্তু আজ দেখলাম এই কাজটা ভাবি করছে আমি একদম চুপচাপ । আজ আমি কোন চেঁচামেচি করছি না ।

এদিকে একপাশে দাঁড়িয়ে ভাবি আমার জন্য টিফিনে খাবার সাজাচ্ছে অন্যদিকে মা বসে আছে সোফার ওপর । এদিকে আমার স্কুলের সময় হয়ে গেছে আমি এসে দাড়ালাম মার পাশে একদম চুপচাপ যেন একদম বাচ্চা ছেলে ।

মা তখন বলল কি ব্যাপার বাবুরাম আজ কেন এত চুপচাপ ? টিফিনের জন্য চেঁচামেচি করছ না কেন ? হ্যাঁ আজ এত বাচ্চা ছেলের মত ন্যাকামি করছ কেন ।


আজ তোমার মুখটাকে বন্ধ করে দিল কে বলো শুনি বাবুরাম ।

কি সব বলতেছে এ সব শুনে আমার মাথা তো পুরোটাই ঘুরে যাচ্ছে । তাহলে কি বলে দিয়েছে মার কাছে মাথাটা তো পুরোটাই গরম হয়ে গেল কথাটা শুনে ।
আমার সাথে এরকম করে চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কথা বলছে কেন মা , তাহলে আজ কেন হঠাৎ করে মা আমাকে শাসন করছে আমি তো এতদিন মাকে শাসন করে এসেছি । আল্লাহই জানে তাহলে কি ভাবি সবকিছু বলেই দিল ।

মার কথাগুলো শুনে আমি কিছু বললাম না । আমি শুধু বললাম স্কুলে সময় হয়ে গিয়েছে তাড়াতাড়ি যেতে হবে আমাকে ।

তখন ওপাশ থেকে ভাবী এসে টিফিন বক্স টা আমার কাঁধে ঝুলিয়ে দিলা আর ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে আর কিছু বলছে না । আমাকে বিদায় জানানোর জন্য আমার মুখে একটা আস্তে করে থাপ্পড় দিয়ে বলতে লাগলো যাও স্কুলে যাও ভালো করে পড়াশোনা করো ।

আমি কিছু বললাম না মনে মনে ভাবলাম যত তাড়াতাড়ি হোক এখান থেকে কাটতে হবে । নয়তো পড়ে যাব বিপদে সেজন্য আমি ওখানে কোন কথা না বলেই তাড়াতাড়ি চলে আসি স্কুলে দিকে ।

প্রিয় দর্শক শ্রোতা এতক্ষণ আপনারা একটি পরিবারের আংশিক কিছু কাহিনী পড়লেন । গল্পটিতে আপনারা যে বাচ্চা ছেলেটির কথাগুলো শুনেছেন তার নাম হচ্ছে সুজন । আর তার মা আছে কিন্তু বাবা নেই । মায়ের বয়স প্রায় সত্রর এর কাছাকাছি তবে এখনো যেন মনে হয় জোয়ান মহিলা , কোথায় যেন টস-টস করে আর সুজনের একজন বড় ভাই ও বোন আছে । সুজনের বড় ভাই বিয়ে করেছেন । উনার নাম হচ্ছে সুমন আর ওনার বউ এর নাম হচ্ছে রেখা ।। নতুন বিয়ে করেছে তারা সবে মাত্র এক বছর হলো । পরিবারটা খুবই ছোট, খুবই সুন্দর ভাবে চলছে তাদের জীবনযাপন ।

সুমন একটা চাকরি করে যা বেতন পায় তা দিয়েই পরিবারটা খুব স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারে । প্রতিমাসের যাবতীয় খরচ সে পূরণ করতে পারে এদিকে যেহেতু তাদের বাবা নেই সেজন্য পুরো পরিবারটা সুমনকে চালাতে হয় । সুজনের পড়া-লেখার খরচ খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি যাবতীয় খরচ একলাই বহন করে যেহেতু বাবা নেই তাহলে ভাইয়ের খরচ তো ভাইয়ের উপরে পড়বে সেটাই তো নিয়ম ।

তবে যাই হোক তাদের পরিবারে কোনো ঝগড়া-বিবাদ নেই আছে শুধু শান্তি আর সহমর্মিতা । রেখা খুবই ভালো বধূ , সুমন তাকে বিয়ে করে নিজেকে খুব গর্বিত মনে করে কেননা এমন বউ নাকি সাত জনমেও পাওয়া যায় না অথচ সে পেয়ে গেছে এক জনমেই ।

বাড়ির সকল কাজকর্ম এখন থেকে রেখাই করে থাকে এবং বুড়ো মাকে খাওয়া-দাওয়া করানো কিংবা গোসল করানো সবকিছুই উনি করে থাকেন । সুমনের যাবতীয় আনুষাঙ্গিক কাজ গুলো এবং সুজনের যাবতীয় আনুষঙ্গিক কাজ গুলো উনি একাই করে থাকেন । এতে মনে হয় উনার খুব কষ্ট হয় কিন্তু না তিনি মুখে প্রকাশ করেন তার উল্টো তিনি বলেন এটা তার সৌভাগ্য ।

এটা করে সে নিজেকে ধন্য মনে করে । সে বলে এটা নাকি তার কর্তব্য এবং এটা সে সারা জীবনই করে যেতে চায় । এজন্যেই সুমনের কাছে মনে হয় এরকম ঘরের লক্ষী সাত জনমেও কারো কপালে জুটে না সেজন্যই নিজেকে খুব গর্বিত মনে করে সুমন ।

আর অন্যদিকে রেখা যেমন নিজের চারপাশটা গুছিয়ে রাখতে পছন্দ করে তেমনিই সবার মনে ভালোবাসা অর্জন করেছে । সবাইও তাকে ভালোবাসে প্রচন্ড রকমের সে খুব মায়াবতী সবার সাথেই ভালো ব্যবহার করে । কারো দিকে হাতের আঙ্গুল নাড়িয়ে কথা বলা তার একদম পছন্দ নয় সব সময় হাসিমুখে কথা বলা তার একটা স্বভাব অভ্যাসে পরিণত হয়েছে ।

  • রেখার ছিল মেঘ কালো কেশ, ডাগর ডাগর দুটি হরিণী দুটি চোখ । অপলক দৃষ্টিতে যে দিকে তাকায় সেদিকটা যেন আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে । ওই আলোকিত চোখে যদি রেখা কাজল লাগায় তাহলে আরো অনেক সুন্দর দেখায় ওকে । সুমন রেখাকে কাজল লাগানো চোখে দেখতে খুবই ভালোবাসে ।

তবে সত্যি কথা বলতে সুমনকে রেখার খুব পছন্দ যদিও তারা বিয়ের আগে থেকে কখনো কোনদিনও দেখা করে নাই । তারপরও তারা বিয়ের পরেই এত মহাব্বতে জড়িয়ে গিয়েছে সেটা হয়তো জনম জনমের ।

  • তবে যাই হোক তাদের ফ্যামিলি খুব সুন্দর ভাবেই চলছে । এখন মূল গল্পে আসি.

ওদিকে সুজন স্কুলে ক্লাস শেষ করেই বাসায় চলে আসলো । বাসায় চলে এসে আবার এরকম ঠিক ঠান্ডা শান্তশিষ্ট ভদ্র ছেলের মত আছে । রুম থেকে বের হচ্ছে না ।

চলবে_

গল্প: ভাবি যখন বউ (সিজন ৩)
পর্ব: প্রথম পর্ব
লেখক: S M Rony Chowdhury

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here