গল্প : সৎ মা (৫ম তথা শেষ পর্ব )

পুলিশ জঙ্গলে অনেক খুজার পরে রনির লাশ পেল । লাশটাকে খুবই জঘন্য ভাবে মারা হয়েছে । লাশের চোখ দুটি উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং পেটে অনেকগুলো ছুরির আঘাত রয়েছে ।

এই ক্ষত বিখ্যাত লাশটি পুলিশ তাড়াতাড়ি সংগ্রহ করে কেননা গন্ধ বের হয়ে যাচ্ছে । পুলিশ খবর দিল রনির পরিবারকে যে লাশ পাওয়া গিয়েছে একটি জঙ্গলের মধ্যে খানে ।

তখন ওদের পরিবারের সবাই আসলো এবং এসে অনেক কান্নাকাটি করল আর এটার প্রতিশোধ নিতে চাইল কে করলো ? এটা সবারই একই কথা কিন্তু কেউ স্বীকার আসতেছে না ?

পুলিশ তাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে একের পর এক সূত্র বের করার চেষ্টা করছে পরক্ষনেই পলিশ আরেকটা সূত্র পেল__

আর অন্যদিকে জনি তার বড় ভাইয়ের চাকরিটা দখল করে নিয়েছে এবং সে চাকরিতে জয়েন করে ফেলেছে আর এখন তার রাস্তা় ক্লিয়ার কেননা ওর হাতে এখন একটা চাকরি আছে যেটা দেখিয়ে সে বিয়ে করতে পারবে ।

এখন তার কোন বাধাই নেই সে নির্দ্বিধায় বিয়ে করতে পারবে রুপাকে । তবে কিছুদিনের মধ্যেই সে রুপার বাবা-মাকে বিয়ের প্রস্তাব জানালো এবং তার বাবা-মা দেখতে পেলো যে ছেলে ভালো মানের একটা চাকরি করে তখন তারাও রাজি হয়ে যাচ্ছে প্রায় ।

এদিকে জনি যে কাজটা করেছে সেই কাজটা খুবই জঘন্য কাজ করেছে তার বড় ভাইকে মেরে ফেলেছে ভাড়া করা লোক দিয়ে এবং সেই দুশটি দিয়েছে তার সৎ মাকে ।

নিরুপায় একটি মহিলা যে কোন পাপ করেনি পরিবারটাকে সুন্দর করে গুছিয়ে নিয়েছে ও সবার মাঝে সুন্দরভাবে হাসিখুশি ভাবে পরিবারটা নিজের মতো করে নিয়েছিলো সেই মহিলাটি কিভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে । যে আপন বড় ভাই সেই ছোট ভাইয়ের জন্য তো কতই না কিছু করেছে । সেই ভাইটাকেই রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছে ।

কেমন জঘন্য কাজ করেছে সেটা হয়তো কেউই জানে না তবে সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটি তার এখনো লোকানো রয়েছে পুলিশ একের পর এক তদন্ত করেই যাচ্ছে ।

আর এদিকে ওই সৎ মার ওপর প্রচন্ড জুলুম করা হচ্ছে একটানা অনেক দিন রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে তবুও তিনি স্বীকার আসতেছেন না । একবারেই মুখ খুলতেছে না, এতবার বলার পরেও একটু মুখ খুলছে না ঐ মহিলাটি ।

পুলিশ উনার উপর বেজায় ক্ষেপে আছেন কেননা এতবার জোর জুলুম করার পরেও উনি মুখ খুলতেছে না ।

অবশেষে পুলিশ আসল অপরাধীকে ধরতে পারল ।

পুলিশ ওই লোকটির ফোন কল আবার চেক করলো এবং চেক করে আরেকটি নাম্বার পেল ওই নাম্বারে দুদিন আগে ধরে কথা হয়েছিল ওই নাম্বারটা ছিল একটি নকল নাম্বার ।

এবং এটা ছিল জনির নম্বর সে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য এই সিমটি একটি দোকান থেকে কিনেছে অন্য কারো নাম দিয়ে ।

কিন্তু পুলিশ ঠিকই ধরে ফেলেছে যে এই কাজটা কে করতে পারে তখন ঠিকই পুলিশ ওই খুন করা লোকটিকে ধরে ফেলেছে গ্রেপ্তার করে ফেলেছে আর ওই লোকটি ও স্বিকার এসে গিয়েছে । স্বিকার এসে গেছে যে কে খুন করেছে ।

পুলিশ দ্রুত চলে আসলো জনির বাসায় এবং জনকে গ্রেপ্তার করে নিতে ।

  • পরে জনি বলল কি ব্যাপার আপনারা আমাকে কেন গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছেন।
  • তখন পুলিশ বলল : সবই বুঝবি আগে থানায় চল । মনে করিস পুলিশ কিছুই বোঝে না, পুলিশ বোকা, কিছুই পারে না , যা আগে যা থানায় তারপরে নয় তোকে বোঝাবো ।

জনি: আরে কি যাতা বলছেন আমি তো কিছুই বুঝতেছি না । আপনারা আমাকে ছাড়েন আপনাদের হয়তো কোথায় ভুল হচ্ছে ।

  • পলিশ : আরে বেটা চল থানায় যা দেখে সব তর মনে পড়ে যাবে
  • পুলিশ টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল থানায় এবং একটি লকআপে ভরে রাখল ।

পুলিশ এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সাথে নিয়ে এসেছে ওই লোকটাকে যে রনি কে খুন করেছে ।

তখন পুলিশ বলল কিরে ভয় পাচ্ছিস ? ভয় পাওয়ার কিছু নাই ! যে সময় এই কাজটা করেছিলে তখন ভয় পাইছি এখন আর ভয় পাইলে কোনো লাভ নেই ।

জনি এবং ওই লোকটি নিচের দিকে তাকিয়ে আছে আর কিছুই বলছে না । তারা ধরা খেয়ে গেছে ।

পুলিশ: কিরে মুখ খুলবি নাকি আমাদের কাজ চালাতে হবে ?

  • তখন পুলিশ জনির গালে দুইটা থাপ্পড় মারল আর বলল কিরে এখনো বলছিস না কেন ? সত্যি কথাটা ।

তখন জনি বলল স্যার আসলেই কাজটা আমরাই করেছি সবকিছু প্ল্যান ছিল আমারই । আমি আমার ভাইকে মেরে ফেলেছি । আমাকে আপনি শাস্তি দেন আমাকে আপনি যা মন চায় তাই শাস্তি দেন । আমি অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছি এ অন্যায়ের কোন ক্ষমা নেই ।

জনি এই বলে কাঁদতে লাগলো তার চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু এই পানিটা তো বের হওয়া দরকার ছিল আরো আগে নিজের আপন ভাই টাকে এভাবে মেরে ফেলা কি মানুষের কাজ ।

  • তখন পুলিশ বলল : সব কিছুই তো বুঝলাম তাহলে তুই এই কাজটা কেন করেছিস তোর লাভ কি ছিল এটাতে ?

জনি: স্যার আমার জীবনটা বরবাদ করে দিয়েছে । আমার ভাই আমাকে একবারে শেষ করে দিয়েছে । এদিকে প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে , না পাচ্ছি কোন চাকরি, না পাচ্ছি কোন ব্যবসা সবকিছুই আমার তছনছ হয়ে যাচ্ছে ।

আমি কি করবো ঠিক বুঝতে ছিলাম না । আমি গেলাম আমার প্রেমিকার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে কিন্তু ওরা আমাকে খুব অপমান করেছে যে অপমান আমি সহ্য না করতে পেরে আমি বাসায় চলে আসলাম । বাসায় চলে এসে একটা পরিকল্পনা করলাম কিভাবে একটি চাকরি জোগাড় করা যায় ।

আমি অনেক জায়গায় গিয়েছি কিন্তু কোথাও আমার চাকরি মিললো না । তারপর আমি আমার এ বন্ধুকে নিয়ে চিন্তা করলাম কি করা যায় , কি করলে আমি আমার প্রেমিকাকে আমার বউ হিসেবে পাবো ।

তখন আমার মাথায় এই বুদ্ধিটা এলো যে বাবার চাকরিটা তো আমার পাওয়ার ছিল তাহলে শুধু কেন আমার ভাইয়া পেল । এটাতো আমিও অংশীদার ছিলাম ।

ওই সমস্ত চিন্তা করে আমি আমার ভাইয়াকে মেরে ফেলেছি আমি আমার ভাইয়াকে নিজের হাতে মেরে ফেলেছি । স্যার আমাকে শাস্তি দিন ।

  • পুলিশ : সব কিছুই বুঝলাম তবে আরেকটা জিনিস পরিষ্কার হলো না । তাহলে এই কাজে করতে গিয়ে তোরা তোদের মাকে কেন ফাঁসিয়েছিস ।

জনি : আসলে এটাও আমার একটা প্ল্যান ছিল । যাতে করে আমার ভাইয়াকে মারার অভিযোগটা উনার উপরে পড়ে । সেজন্য আমি আমার এই বন্ধুকে দ্বারা দুইবার ফোন করিয়ে ছিলাম ।

যাতে করে উনি ফেঁসে যেতে পারে সেজন্য আমি এই কাজটা করে ছিলাম । আসলে ওনার কোন দোষ নেই উনি খুবই ভালো মানুষ ।

  • পুলিশ: কি করে করতে পারলি এটা ?? নিজের আপন ভাইটাকে মেরে ফেলতে পারলি , কি করে একটুও কি মায়া হলো না, তুই একটা স্বার্থপর নিজের ভালোবাসার কারণে নিজের ভাইকে মেরে ফেললি । কি ভেবেছিলে তোরা আমরা তাদেরকে ধরতে পারবো না ? আরে অপরাধ যে করে তাকে তো কোনো না কোনো এক সময়ে সাজা পেতে হবে ।
  • হয়তো একটু পরে কিংবা হয়তো একটু আগে কিন্তু ঠিকই সাজা কিন্তু পেতেই হয় ।

জনি মনে মনে বুঝতে পারল সে খুবই খারাপ কাজ করেছে । নিজের ভালোবাসার কারণে নিজের ভাইটাকে মেরে ফেলে দিয়েছে । কি না করেছে তার ভাই তার জন্য ছোটবেলা থেকে এই পর্যন্ত বড় করেছে । একটুও খারাপ নজরে তাকে দেখেনি । জান ছিল তার জন্য । কিন্তু সে আজ তার ভালোবাসার কারণে তার ভাই টাকে মেরে ফেলেছে ।

একটি মেয়ের জীবন থেকে ভালোবাসা পাওয়ার জন্যই আজ নিজের ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছে । কি জঘন্য অপরাধ আর সৎ মাকে ফাসিয়ে দেয়া হয়েছে এই অপরাধে ।

আজ রক্তের বাঁধন এর কাছে মনের বাঁধন হেরে গেল । রক্তের বাঁধন হয়ে যদি খুন করতে পারে তাহলে মনের বাঁধন কেন পারে না ? কিন্তু মনের বাঁধন আসলেই পারে না ।

সমাপ্ত

গল্প : সৎ মা
৫ম তথা শেষ পর্ব ।
লেখক:SM Rony Chowdhury

গল্পটি পড়ার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ । পুরো গল্পটি সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। গল্পটির কোন পার্ট আপনি বাদ দিয়ে থাকেন তাহলে দ্রুত করে পড়ে নিন গল্পটি দ্বারা রক্তের বাঁধন থেকে যে মনের বাঁধন সবচেয়ে বড় সেটা বোঝানো হয়েছে ।

কখনো কখনো এমনটা হয় রক্তের বাঁধন হয়ে যায় স্বার্থপর , চোখের কাঁটা আর মনের বাঁধনে হয়ে যায় সবকিছু ।

Leave a Comment