গল্প : সৎ মা (৪র্থ পর্ব)

জনির মনে বাবরার দোলা দিচ্ছে এখন ওটা নিয়ে কি করা যায় । কি করে চাকরিটা তার করা য়ায় । এ ব্যাপারটা তার এক বন্ধুর সাথে শেয়ার করলো । তার বন্ধু তাকে একটা বুদ্ধি দিলো ।

বুদ্ধিটা ছিল এরকম যে তার ভাইকে সারা জীবনের জন্য এই দুনিয়া থেকে শেষ করে দেবে এবং পরে যেন ওই চাকরিটা সে পেয়ে যায় । জনি কনফার্ম করে রেখেছে যদি তার ভাই না থাকত তাহলে চাকরিটা সেই পেত আর এখানে তার ভাইয়ের কোন অধিকার ছিল না । এখন ওই চাকরিটা তার ভাই কেড়ে নিয়েছে ।

সেজন্য সে তার বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করে তার ভাইকে একবারে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করলো ।

যে ভাই এত কষ্ট করে তাকে লালন পালন করতেছে । যে ভাইয়ের মনে একটুও কোন অহংকার নেই সে ভাইকে সে মেরে ফেলতে যাচ্ছে শুধুমাত্র ভালোবাসার কারণে ।

জনি তার বন্ধুকে নিয়ে একটি প্ল্যান করল কিভাবে তার ভাইকে এই রাস্তা থেকে সরানো যায় । কিভাবে কেউ যেন না জানে এ বিষয়টা , সম্পূর্ণ গোপন রেখে কাজটা করা যায় , ওই বিষয়টা তারা পরিকল্পনা করছিল ।

একটা উপায় পেয়ে গেল জনি বাসায় দেখতে পেল তার ভাইয়া মোটরসাইকেল বিক্রি করে দেওয়ার জন্য একটা কাস্টমার খুজতেছে । তখন এই বিষয়টা মাথায় প্যাচ খেলো । খেলাটা এখান থেকে খেলা যাবে ।

সে তার বন্ধুকে দিয়ে ফোন করালো তার ভাইয়াকে বলল যে মোটরসাইকেল কিনতে চাই এবং যে দাম তার ভাইয়া বলছে সেই দামেই নাকি কিনবে ।

মোটরসাইকেলের দর দাম সব ঠিক করে ফেলল তারা মোবাইল ফোনে কথা বলে । রনি বলল ওই লোকটা কে আজ সন্ধ্যার পরে দেখা করতে ।

এবং ওই লোকটা বলে দিল যে ওকে ঠিক আছে তাহলে রাতে ফোনে কথা হবে আমি সব টাকা নিয়ে আসবো ।

এইসব কথা বলে তাদের কথোপকথন শেষ হয়ে যায় এবং রনি অফিস শেষ করে বাসায় একটা ফোন দিল এবং ফোন দিয়ে বললো আজ তাকে বাসায় আসতে একটু দেরি হবে ।

এদিক থেকে রনি ও জনির সৎ মার ফোনে দুইটা কল আসলো অপরিচিত নাম্বার থেকে । মা কল রিসিভ করে কিন্তু অপর দিক থেকে কেউ কথা বলে না , খুব বিরক্ত হয়েছে ।

ওইদিকে রাত ঘনিয়ে আসলো রনি ওই লোকটা কে ফোন দিল যে তার মোটর বাইক টা ক্রয় করবে এবং ফোন দিয়ে কথা বলল ওই লোকটা বলল একটা জায়গার নাম সেই জায়গায় চলে আসতে বলছে ।

রনি সেটাই করলো তার মোটর বাইক নিয়ে ওই জায়গাতে চলে গেল এবং ওই লোকের সাথে দেখা করল লোকটা বলল মোটরসাইকেল আমার খুব পছন্দ হয়েছে । চলুন একটু সামনে আমরা একটু বসে আলাপ করি ।

তখন গাড়িতে ড্রাইভিং করছে ওই লোকটা আর পিছনে রনিকে বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ।

তখন রনি বলল আরে ভাই কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আপনি গাড়ি কিনবেন ভালো কথা তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলেন আর ওখানে যাওয়ার কি দরকার ।

তখন লোকটা বলল: আরে ভাই একটু বসে কথা বলি । চা বিস্কিট খাই তারপরে না হয় কথাটা ফাইনাল করি ।

লোকটা গাড়ি ড্রাইভিং করে রনিকে নিয়ে যাচ্ছে একটা জঙ্গলের ভিতর ।

  • রনি : কি ব্যাপার ভাই আপনি আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন কেন?
  • লোকটা : কেন ,কি হয়েছে ? আপনার গাড়ি দেখতে এখানে নিয়ে এসেছে ।
  • রনি : গাড়ি দেখবেন ভালো কথা তাহলে এই ঝোপঝারের ভিতরে নিয়ে আসছেন কেন ?
  • তখন ঐ লোকটা বলল : কেন নিয়ে আসছি এখনই দেখবি । গাড়ির সাথে তকেও দেখবো ।

এই বলে ওই লোকটার পিছন থেকে একটা ছুরি বের করে রনিকে আঘাত করতে লাগলো ।

একের পর এক আঘাত করতে করতে রনিকে মেরে ফেললো । রনি খুব চিৎকার চেঁচামেচি করছে কিন্তু কেউ শুনছে না কারণ ওটা ছিল বিশাল বড় জঙ্গল । ওখানে মানুষের আনাগোনা খুব কম হয়
সেজন্যেই ওর চিৎকার-চেঁচামেচি কেউ শুনতে পেল না তিলে তিলে তাকে মরতে হলো এই অপরিচিত লোকের হাতে ।

রনির দম না যাওয়া পর্যন্ত ওই লোকটি ওখানে দাঁড়িয়ে থাকে । যে মাত্র রনি একেবারে মারা গেল তখন ওই লোকটা একটা গর্ত করে রনিকে পুঁতে রাখে এবং সেখান থেকে চলে আসে ।

এদিকে রাত প্রায় এগারোটা বাজতে চলছে রনি এখনো বাসায় ফিরে নাই । বাসায় মা এবং রনির বউ খুব অস্বাভাবিক ফিল করতেছে এত দেরী করার তো কথা নয় । সে তো একদিন ও এত দেরি করে না তাহলে আজ কেন দেরী করতেছে বাসায় আসতে । এই বিষয়টা তাদের কাছে কেমন যেন অস্বাভাবিক লাগতেছে ।

রনির বউ বিষয়টা জনির সাথে শেয়ার করলো তখন জনি বলল আরে ভাইয়া চলে আসবে তোমরা টেনশন করো না । আমি দেখছি কি করা যায় তখন রনির নাম্বারে ফোন দিলো । ফোন বন্ধ পেল এবং রনি যেখানে চাকরি করত সেখানে ও যোগাযোগ করল সেখানও নেই । সন্ধ্যার আগেই ওখান থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল একথা বলল ওখানকার কর্মকর্তা ।

তখন তো খুবই চিন্তার বিষয় এত রাত হয়ে গেছে এখনো ছেলেটা বাসায় আসলো না রনির বউ তো রীতিমতো কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে ।

রনির রনির বউ এটা সহ্য না করতে পেরে বাপের বাড়িতে ফোন দিলো বাপের বাড়ি থেকে ওর ভাই এল এবং ওরা এই বিষয়টা পুলিশকে জানানো ।

এ অবস্থায় পুলিশ কি করবে কিছুই তো করার নেই তবে পুলিশ সবকিছু জিজ্ঞাসাবাদ করছে সবাইকে । সবকিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে পুলিশ কেইসটি হাতে নিল মিসিং কেইস হিসাবে ।

তখন ওই রাত পেরিয়ে গেল কিন্তু রনি বাসায় ফিরে এল না সবাই খুবই চিন্তা করছে কোথায় যেতে পারে । সব আত্মীয়-স্বজনের বাসায় খোঁজখবর নিল কোথাও যায়নি সবাই পড়ে গেলাম মহা চিন্তায় । এদিকে বাড়িতে রনির বউ জোরে কান্না করতেছে ।

আর অন্যদিকে পুলিশ তদন্ত করা শুরু করে দিয়েছে । পুলিশ প্রথমে শুরু করেছে সম্পত্তির দিক দিয়ে রনি মারা যাওয়াতে সম্পত্তি কার হতে পারে । তখন পুলিশ বাহিনী চিন্তা করে পেলো এই সম্পত্তির অধিকার হতে পারে রনির ভাই জনি কিংবা তাদের সৎ মা ।

হয়তো তাদের দুজনের মধ্যে থেকেই কেউ এই কাজটা করতে পারে পুলিশ তাদের ওপরে শক্ত নজর দিয়ে রেখেছে ।

পুলিশ বিভিন্ন সূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে কিন্তু কিছু খুঁজে পাচ্ছিল না পরে যখন পুলিশ রনির ফোন কল চেক করলো তখন দেখতে পেল রনি একটা অপরিচিত নাম্বার কথা বলেছে । দুইবার কথা হয়েছে এই নম্বার থাকে । যেটা সন্ধ্যার পরে কথা হয়েছে এবং রাত 9 টার দিকে আবার কথা হয়েছে ওই নাম্বার থেকেই ।

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হল ওই অপরিচিত নাম্বার থেকে রনি এবং ওর মায়ের ফোনেও কল এসেছে দুবার কল এসেছে একবার সন্ধ্যার পরে আরেকবার রাত দশটায় ।

এটা দেখে পুলিশ নিঃসন্দেহে সন্দেহ করে ফেলেছে তাদের ওই সৎ মাকে কেননা ঐ লোকটাকে হয়তো সে ভাড়া করে নিয়েছিল রনিকে মারার জন্য এবং মারার আগ মুহূর্তকে ফোন করে জানিয়েছে এবং কাজ শেষ করে ফোন করে জানিয়েছে ওই মহিলাকে ওই লোকটায় ।

পুলিশ এটা ভেবে কোন মহিলাকে তুলে আনলো এবং শক্তপোক্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেন । কিন্তু ওই মহিলা কোনভাবেই সত্য কথা বলছে না । পুলিশ ওই মহিলার উপর জুলুম করছে এতবার জিজ্ঞাসা করার পরেও ওই মহিলা কোনভাবেই মুখ খুলছে না ।

পলিশ মনে করেছে হয়তো সম্পত্তির লোভে এটা করেছে ওই সৎ মা । হয়তো দু ভাইকেই মেরে ফেলার জন্য এই প্ল্যানটা করেছে । হয়তো এরপরে জনিকে মেরে ফেলার প্ল্যান এটা মনে করেছে পুলিশ ।

কিন্তু ওই মহিলা কোনভাবেই স্বীকার আসতেছে না এতবার জিজ্ঞাসা করার পরেও ।

কিন্তু বাড়ি থেকে সবাই এটাই ভেবে নিয়েছে যে এই মহিলা এই কাজটা করেছে । কিন্তু লাশটা কোথায় রেখেছে কিছু বলছে না কেন ?

পুলিশ রনির বডি খোঁজার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে । পুলিশ রনির লাস্ট ফোন লোকেশন চেক করলো চেক করে দেখতে পেল একটা জঙ্গলে অবস্থান করছিল ।

এবং সেই জঙ্গলে পুলিশ গিয়ে অনেক খুজার পরে রনির লাশ পেল ।

বাকি টুকু জানা যাবে আগামী পর্বে ততক্ষণে আমাদের সাথে থাকুন ধন্যবাদ ।

চলবে

গল্প : সৎ মা
৪র্থ পর্ব
লেখক:SM Rony Chowdhury

Leave a Comment