গল্প : সৎ মা (৩য় পর্ব)

জনি বারবার যাচ্ছে কথাটা বলতে কিন্তু পারছে না অপরদিকে ওর প্রেমিকা রুপাও খুব শুনতে চাচ্ছে কিন্তু সেও পাচ্ছে না । তারা খুব লজ্জা বোধ করছিল একে অপরকে এই কথাটা বলতে তখন খুব ঝগড়া করে যখন দুজন দুদিকে চলে যাচ্ছে এমন সময়ে জনি বলে উঠলো পিছন দিকে তাকিয়ে আই লাভ ইউ রুপা । আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি , আমি তোমাকে ছাড়া আর কিছুই যে দেখতে পারছি না , আমি তোমার মাঝে পুরোপুরি মিশে গিয়েছি রুপা ।

এই কথাগুলো রুপা শুনে থমকে দাড়ালো এবং হয়তো এই কথাগুলো শোনার জন্যই সে এতদিন অপেক্ষা করেছিল । সেও দাঁড়িয়ে মুখে হাসি নিয়ে বলতে লাগলো আই লাভ ইউ টু । আমিও তোমাকে খুব ভালবেসে ফেলেছি । তখন তাদের দুজনের মনেই খুশি ফুটে উঠল । আর এদিকে তাদের ভালোবাসা দিন-দিন আরও গভীর হতে থাকে ।

এমন একটা পর্যায় আসে যখন তারা একে অপরকে ভুলতে পারছে না । তারা একাঅপরে মিশে গিয়েছে । একদিন ও পারে না একে অপরের সাথে কথা না বলে থাকতে এমনকি হয়তো কোনদিনোও পারবে না একে অপরকে ছাড়া থাকতে ।

হয়তো তারা মিশে গিয়েছে দুটি মন একাকার হয়ে গিয়েছে । এভাবে চলছে তাদের গভীর সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে । ওরা প্রায়ই দেখা করে আর ওদের ভালোবাসা ও মজবুত হতে থাকে । একটা সময় এসেছিল ওরা খুব ঝগড়া করেছিল এবং ওরা চেয়েছিল দুজন খুব দূরে থাকতে কিন্তু একটি রাতে না যেতেই পরেরদিন সকালেই কথা বলা শুরু করলো । ওরা এই প্রতিজ্ঞা টি পালন করতে পারেনি কেননা তারা একদম যে দুজন দুজনকে না দেখে থাকতেই পারে না ।

তবে যাই হোক ওদের ভালোবাসা পবিত্র এই পবিত্র ভালোবাসা যেন সত্যি হয় । এই ভালোবাসা যেন চিরকাল বেঁচে থাকে এই ভালোবাসাতে যেন থাকে না কোন অপবিত্রতা সবসময় ভালোবাসা থাকুক ওদের মাঝে ।

তাদের ভালোবাসা এত মাত্রায় বেড়ে গিয়েছে এখন তারা একে অপরকে ছাড়া একদম বাচতে পারবে না । তবে একটু সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে রুপার বাড়ি থেকে তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক চাপ দিচ্ছে এবং রুপা বলে দিয়েছে সে এখন বিয়ে করবে না । আগে জীবন স্যাটেল করবে তারপরে বিয়ে করবে ।

কিন্তু না তার বয়স এদিকে বাড়তেছে তাই বাবা-মার প্রেসার টাও বাড়তেছে


আসলে সন্তান সন্তানাদির বড় হলে সমাজের মানুষের চোখে ভাসে বিষয়টা আর সমাজে এমন কিছু লোক থাকে যারা সব সময় বিয়ে দেওয়া কিংবা বিয়ে করানো নিয়ে ব্যস্ত থাকে ।

ঠিক ঐরকম ভাবে রুপার সমাজের কিছু লোকেরা চাপ দিচ্ছে যে মেয়ে তো এখন বড় হয়ে গিয়েছে বিয়ে দিতে হবে ইত্যাদি আরো অনেক কিছুই বলে । তখন এটা বাবার চোখে বাঁজলো এবং চিন্তাভাবনা করতেছে । এদিকে রুপা কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি নয় কেননা যে প্রেমিকা আছে ।

রুপাকে তার মা জিজ্ঞেস করেছে যে ওর কোনো পছন্দের ছেলে আছে কিনা রুপা কোন আনসার দিল না । কেননা এখন যদি সে জনির কথা বলে তাহলে তার বাবা-মা মেনে নেবে না । কেননা জনি এখনও বেকার , সে কিছু করে না , ভাইয়ের টাকায় চলাফেরা করে । বিয়ে করে বউকে খাওয়াবে কি ইত্যাদি আরো অনেক চিন্তা করে সে জনির কথা তার মাকে বলে নি ।

কিন্তু কি করবে বেচারা রুপার ফ্যামিলি থেকে রুপাকে খুব চাপ দিচ্ছে । এসে এ কথা জনিকে জানালো এবং এটা শুনে জনি অস্থিরতা শুরু করলো কেননা তাকে কিছু একটা করতে হবে এখন যদি সে কিছু একটা করতে না পারে তাহলে তার নিজের চোখের সামনে তার প্রেমিকা রুপাকে অন্য ঘরে যেতে হবে ।

এটা সে বেঁচে থেকে হয়তো সামলাতে পারবে না । তাই সে কিছু একটা করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে কিন্তু কোথাও কোন কিছু খুঁজে পাচ্ছে না । সব জায়গাতেই সে ব্যর্থ হচ্ছে কোথাও কোনো চাকরি হচ্ছে না তার কেননা সে এখনো পড়াশোনা শেষ করে নি । এখনও তার পড়াশোনা শেষ করতে দু-তিন বছর বাকি তারপরে না হয় চাকরির পড়াশোনা করতে হবে এরপরে তো চাকরি হবে । কিন্তু এখন তো চাকরি হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই ।

তাকে এই অবস্থায় একটা চাকরি নেওয়া খুবই জরুরী দরকার কিন্তু সে পাচ্ছে না । অনেক খোঁজাখুঁজির পরও পাচ্ছে না বারবার ব্যর্থ হচ্ছে এবং রুপার সামনে এসে অপমানিত হচ্ছে আজ ভালোবাসার কাছে কি জনি হেরে যাবে কি ?

জনির এখন আর রাতে ঘুম হয় না সারা রাত একটার পর একটা সিগারেট খায় । আর রুপা আর তাকে দেখা দেয় না আগের মত দিনগুলো কাটে না সারাক্ষণ চিন্তা করে , যে রুপা তার হতে পারবে না । তাকে কিছু একটা করতে হবে কিছু একটা করে ওর বাবা-মার সামনে দাঁড়াতে হবে তো ।

এমন সময় জনি একটা চিন্তা করল খুবই খারাপ চিন্তা । চিন্তাটা ছিল এমন __

বাবা মারা গিয়েছে 6 মাস হয়েছে বাবার যে চাকরি টা ছিল সেটা তো পাওয়ার কথা ছিল আমাদের দুই ভাইয়ের । কিন্তু এই চাকরিটা পেয়েছে আমার বড় ভাই । বড় ভাই তো আমাকে বললো না যে তুই এই চাকরিটা কর কিংবা আমারও কি ইচ্ছা আছে কিনা সেটা একবারও জানতে চাইল না কেন !!

কিন্তু কেন জানতে চাইলো না সেই প্রশ্নটাই জনির মনে বারবার আলোড়ন সৃষ্টি করতেছে আর সে এখন কি করবে, কোথায় গেলে একটা চাকরি পাবে, কোথায় গেলে একটা ব্যবস্থা হবে, এইসব নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তা করতেছে আর তার খাওয়া-দাওয়া-ঘুম সবকিছুই দূর হয়ে যাচ্ছে ।

তবে তার মধ্যে একটা জিনিস লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে সে সরলতার সুযোগ নিতে চাচ্ছে এখন । যেহেতু রুপা বিয়ের জন্য খুব জ্বালাতন সৃষ্টি করেছে । সে এই বিয়ে না করেই থাকতে পারবে না আর রুপাকে সে তার নিজের থেকে বেশি ভালোবাসে । রুপার যদি অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে যায় তাহলে সে নিজেকে কখনোই বেঁচে থাকতে দেবে না সেও হয়তো মরে যাবে ।

রুপাকে বিয়ে করার সময় প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে । কিছু না করতে পেয়ে একটা জিনিস ভাবলো একবার যদি রুপার মা বাবার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা শেয়ার করা যায় তাহলে হয়তো মেনে নিতেও পারে ।

ঠিক সেটাই করলো রুপা ও জনি তারা রুপার মা-বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো

  • রুপা : মা দেখো কাকে নিয়ে এসেছি !!
  • জনি : আসসালামুয়ালাইকুম । আন্টি কেমন আছেন ?
  • মা : জ্বি ভালো আছি ।
  • রুপা: মা তোমাকে বলেছিলাম না আমি একজনকে ভালোবাসি সেই হলো জনি । কোনো রকম বিবরণ না দিয়ে একেবারে সোজা তোমার সামনে নিয়ে আসলাম ।
  • মা : ও আচ্ছা । তোমরা ভিতরে আসো ।

সবাই ভিতর এসে সোফায় বসল এবং নাস্তার ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত রুপা ।

মা এরই ফাঁকে অনেক প্রশ্নই করতেছে জনিকে । জনির ব্যাপারে সব খুটিনাটি বিষয় জানার চেষ্টা করলেন রুপার আম্মু । ছেলেটা দেখতে শুনতে, আদব কায়দা রুপার আম্মুর খুব পছন্দ হয়েছে ।

এবং এদিক থেকে রুপা নাস্তা নিয়ে আসলো সবাই মিলে নাস্তা খাবে এই মুহূর্তে বাসায় কলিং বেল বাজলো । রুপা দরজা খুলে দেখল তার বাবা এসেছে ।

রুপা তার বাবাকে জনির সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো । এরপর বাবা ওকে দেখে খুব ঘাবড়ে যায় এবং একদম পছন্দ হয়নি । উল্টাপাল্টা অনেক কিছুই বকাঝকা করে আর যখন শুনতে পেলো যে ছেলে বেকার কিছু করে না , ভাইয়ের টাকায় চলাফেরা করে তখন আরও চরম অপমান করে ।

তুমি ছোটলোক, তুমি দেখতে কুৎসিত, তোমাদের দ্বারা কিছু করা সম্ভব নয় তুমি মেয়েদের নিয়ে খেলা করতে ভালোবাসো এই সব অনেক ধরনের গালি দেয় জনকে । জনি একদম তা হজম করতে পারে নি আজ গরীব বলে তাকে এত অপমানিত হতে হচ্ছে এটা কখনোই মেনে নিতে পারছে না ।

অপমান গুলো সহ্য করে বাড়িতে আসলো । বাড়িতে এসে সবকিছু উল্টাপাল্টা করতেছে কাউকে কিছু বলছে না শুধু ভাঙচুর করছে । কাকে বলে কি লাভ যেটা তাদের আছে সেটা তো আর পরিবর্তন করা যাবে না । সেজন্য সে তার মনের কষ্টটা একাই ভোগ করতেছে ।

এত অপমান এত লাঞ্ছনা এত বঞ্চনা সে কখনো কারো কাছ থেকে পাইনি । এই প্রথম কারো কাছে সে অপমানিত হয়েছে এবং সেটা ভালোবাসার জন্য অপমানিত হয়েছে ।

সে আর কখনো রুপা সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারবে না এই অন্ধকার মুখ নিয়ে । রুপার বাবা একদম স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে যদি সে কিছু একটা করতে পারে তাহলে ভেবে দেখবে এছাড়া একদমই ভেবে দেখবে না ।

এই সব কথাগুলো একবারে জনির মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে এবং ওদের দেখা একদম বন্ধ করে দিয়েছে । যদি জনি জীবনে কিছুই না করতে পারে তাহলে তাকে চিরতরে ভুলে যেতে হবে এখন জনি পড়ে গেল মহাবিপদে ।

তার হাতে কোনো রাস্তা নেই কি করবে এখন বেচারা । এখনো তেমন বয়স হয়নি চাকরি করার , ভালো একটা চাকরি পেতে হলে অবশ্যই ভালো যোগ্যতা থাকতে হবে কিন্তু সেটাতো যারা এখনো অর্জন হয়নি ।

সে তার বাবার চাকরি দিকে নজর দিলো

যদি চাকরিটা সে পেত । কেননা এতে তো তারও অধিকার আছে । তার ভাই ইচ্ছা করলে তাকে চাকরিটা দিতে পারতো কিন্তু দালালের মত চাকরিটা নিজে নিয়ে গেছে । জনি বারবার বাবার চাকরিটার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে । বারবার তার মনে দোলা দিচ্ছে এখন ওটা নিয়ে কি করা যায় । কি করে চাকরিটা তার করা য়ায় ।এবং সে একটা খারাপ বুদ্ধি করলো __

যেটা জানা যাবে আগামী পর্বে ততক্ষণে আমাদের সাথে থাকুন ধন্যবাদ ।

চলবে

গল্প : সৎ মা
৩য় পর্ব
লেখক:SM Rony Chowdhury

Leave a Comment