গল্প : সৎ মা (২য় পর্ব )

রনি তার সৎমার হাতে একটি খাম দেওয়া মাত্রই তার মা চমকে যায় ভাবতে লাগলো ছেলে হয়তো আমাকে বিদায় করে দেবে এই খাম দিয়ে । তিনি একেবারে ঘাবড়ে গেলেন এই খামটা দেখে এবং ওদিক থেকে রনি ও কিছু বলছে না শুধু চুপ করে আছে । কিছুক্ষণ পরেই রনি বলতে লাগলো

রনি : শুনুন মা এ খামটাতে আমার প্রথম মাসের বেতন ।

শুনেছিলাম প্রথম মাসের বেতন নাকি মা বাবার হাতে তুলে দিতে হয় । এখন তো আমার বাবা নেই সেজন্য আমি আপনার কাছে তুলে দিলাম ।

এটা কি শুনলো আয়েশা বেগম, এটা শুনে সে সত্যি অবাক হয়ে গেল মানে এরকমটা হবে সে কখনোই কল্পনা করতে পারে নি । যত সব উল্টা পাল্টা এতদিন ভেবেছে !! তখন মনের সব দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে বলতে লাগলেন।

মা : এ কি বলো বাবা তুমি , এ টাকাটা আমি নেব কেন ? এটা তোমার চাকরির প্রথম বেতন এটা তুমি যেভাবে পারো সেভাবে খরচ করে নিও ।

রনি : না মা , এই টাকাটা প্রত্যেক ছেলেরাই তাদের বাবা মার কাছে দিয়ে থাকে এবং আমি সেটাই করছি । আপনি এটা রেখে দিন আর শুনুন এখন থেকে আমাদের পরিবারের কোন অভাব থাকবে না । আমি উপার্জন করবো আর আমার ভাই জনির এবং আমার বোন সুমির পড়াশোনার সব খরচ আমি বহন করব । ওদেরকে কোন কষ্টে পড়তে দেবো না আপনি শুধু ওদের খেয়াল রাখবেন ।

এই কথাটা শুনে আয়েশা বেগমের মনটা জুড়িয়ে গেল কেননা তিনি ছিলেন সৎমা । তাদের কাছ থেকে এরকম একটা ব্যবহার পাবে কখনই তিনি ভাবতে পারেন নি ।

ভেবেছিল হয়তো এ বাড়ি থেকে তাকে তাড়িয়ে দেবে এ বাড়ির সকল মায়া ত্যাগ করতে হবে তাকে কিন্তু না এখানে দেখা যাচ্ছে ঠিক তার উল্টো । সে তাদের প্রিয় হয়ে গিয়েছে আসলে ওই ছেলেগুলো সত্যিই খুব ভালো মানুষ ।

রনি বিয়ে করেছে এক বছর হল তার স্ত্রীর পেটে বাচ্চা তারও একটা আলাদা খরচ আছে কিন্তু কি করবে পরিবারে বাবা নেই । এখন পুরো পরিবারটা অসহায় হয়ে পড়েছে সুতরাং এই পরিবারটা তাকে দেখতে হবে কারণ সেই তো বড় ছেলে । এখন যদি সে হাল ছেড়ে দেয় তাহলে দেখা যাবে তার ভাইবোনগুলো একেবারে অন্ধকারে ঢেকে যাবে সেজন্য সে একাই পরিবারটা মেন্টেন করবে বলে জানিয়ে দিয়েছে তার মা এবং ভাইকে ।

তার ভাই জনি দেখতে অনেকটা সুন্দর ।

ঠিক হ্যান্ডসাম ও অনেক, মানে যে কোন মেয়ে তাকে দেখলেই তার ওপর খেয়ে যায় । পড়াশোনা তেমন পারে না তবে মোটামুটি আরকি ।

নিয়মিত কলেজে যায় না কিন্তু বাসা থেকে প্রতিদিনই টাকা নেয় । কলেজে যাওয়ার কথা বলে সে টাকা দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয় এবং এ ব্যাপারে বাসায় কেউ জানে না । বাসায় জানে সে একটা খুব সরল সহজ একটা ছেলে ।

  • এদিকে বাবা মারা গেল কিন্তু সে তার ওই রাস্তা থেকে সরে এলো না । তারপরও তাদের সঙ্গে আড্ডা মাস্তি করেই থাকে প্রায়ই ।

এবং এমন একটা পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে ওই সব বন্ধুকে ছাড়া সে এক মুহূর্তও চলতে পারে না । ওদের সাথে চলাফেরা করা একই সাথে ধূমপান করা, এগুলো তার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গিয়েছে ।

খুব ভালোভাবে চলছে তার আড্ডা মাস্তি এদিকে তার ভাই রনির খুব প্যারা হচ্ছে পরিবার সামলাতে , তবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যদিও বাবা মারা যাওয়াতে তারা সবাই কষ্ট পেয়েছে কিন্তু পরিবার টা উঠিয়ে নিচ্ছে রনি ।

রনির বউ ছিল মায়াবতী সেও ব্যাপারটা তেমন ভাবে নেয়নি । সে এই বিষয়টা উপলব্ধি করেছে যে একটা পরিবারে যদি বাবা না থাকে তাহলে পরিবারের বড় ছেলেরই পরিবারটা দেখতে হয় সেজন্য সে ও কিছু বলে না এ ব্যাপারে ।

তবে আদৌ কিভাবে থাকবে সে হয়তো একদিন কিছু না কিছু তো বলতে ওকে সেটা সময় বলে দেবে ।

সবকিছুই ঠিকঠাক চলতেছে তবে একটু গন্ডগোল হয়েছে । জনি নিয়মিত তার বন্ধু-বান্ধবের সাথে চলাফেরা করতে করতে একটা মেয়ের সঙ্গে সে গভীর রিলেশনশিপে জড়িয়ে যায় কিন্তু কখনো তারা একে অপরকে বলেনি যে তারা ভালোবেসে ফেলেছে ।

প্রেমটা ছিল আসলেই একটু অন্যরকম বেস্ট ফ্রেন্ডের মতো তারা ছিল । কখন যে তারা একে অপরকে ভালোবেসে ফেলেছে সেটা কখনোই তারা খেয়াল করেনি ।

কিছুদিন যাবত জানি খেয়াল করলো যে ওই মেয়েটাকে ছাড়া সে একদম দিশেহারা হয়ে গিয়েছে । স্বয়নে স্বপনে নয়নে সব জায়গাতেই ওই মেয়েটিকে সে দেখতে পায় । এমনকি চোখ বন্ধ করলেই সে ওই মেয়েটির ছবি তার সামনে চলে আসে ।

প্রতিটি ধাপেই ওই মেয়েটি দেখা দিচ্ছে । জনি কি করবে, সে জানে না একদিন হঠাৎ করে তার ভালোবাসার কথা সে বলতে যাবে তার প্রেমিকাকে।কেননা আর সহ্য করতে পারছে না ।

আর ঐদিকে তার প্রেমিকা ও ছটফট হয়ে গিয়েছিল যে সেও অস্থিরতা ভাব করতেছে জনিকে নিয়ে । সেও প্রতিরাত, প্রতি মুহূর্ত শুধু জনি আর জনি এবং জনিকে ছাড়া সে কোন কিছুই ভাবতেই পারছে না , এমন ভাবে জড়িয়ে আছে যে কখনো ভুলে যাওয়ার মতো নয় ।

তারা একদিন ঠিক করল এক পার্কে দেখা করবে এবং তাদের মনের কথাগুলো বলবে । তাদের দুজনের মনের ভিতর একটাই কথা যে তারা একে অপরকে ভালোবাসে ।

হ্যাঁ ঠিক ওই সময় আসলো তারা খুব কাছাকাছি । এখন বলবে, তখন জনি বলল

: ঠিক আছে রুপা তুমি কি যেন বলতে চাও ?

  • প্রেমিকা: না, তুমি কি বলতে চাও সেটা আগে বল তারপরে আমারটা বলবো ।
  • জনি : না আগে তোমার টা শুনব তার পরে আমারটা বলব লেডিস ফার্স্ট সব সময় জানো তো ।
  • প্রেমিকা : না এক্ষেত্রে হবে না । আগে তোমাকে বলতে হবে না হলে আমি আমারটা বলব না ।

এরকম করে একে অপরকে খুব ভয় পাচ্ছে , লজ্জা পাচ্ছে কিছু বলতে পারছে না । কেননা যদি তাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায় ।

শুধু আমি তুমি এরকম করতেছে । কেউ কোনো কথা সরাসরি বলার সুযোগই পাচ্ছে না ।

এভাবে প্রথম দিন কেটে যায় দুজনের মধ্যে কেউই ভালোবাসি কথাটি বলতে পারল না । পরের দিন যখন জনি আবার ঠিক করলো দেখা করার জন্য তখন ওই প্রেমিকা বলল : না তুমি শুধু বলো দেখা করতে তারপরে আমাকে ঘোরাও , আর কি বলতে চাও তুমি একটু ও বলো না ।

তখন ঠিক জনি একই কথা তাকেও বললো যে সেও নাকি তাকে ঘুরাচ্ছে । সেও কি বলবে তা একদম স্পষ্ট ভাষায় কেন বলছেন ।

পরে আরেকদিন তারা ঠিক করল যে তাদের মনে কথাটা বলবেই । ঠিক ওই দিন চলে আসলো , একে অপরের খুব কাছাকাছি আমতা আমতা করতে লাগলো দুজনই কিন্তু কেউই কিছুই বলতে পারতেছি না ।

জানি বারবার যাচ্ছে কথাটা বলতে কিন্তু পারছে না অপরদিকে ওর প্রেমিকা রুপাও খুব শুনতে চাচ্ছে কিন্তু সেও পাচ্ছে না ।

চলবে…

গল্প : সৎ মা
২য় পর্ব
লেখক:SM Rony Chowdhury

পুরো গল্পটি পড়ার অনুরোধ রইল গল্পটি দ্বারা আমাদের সবার অনেক শিক্ষা হবে । শুধু রক্তের বাঁধনই যে আপন হয় তা নয় কখনো কখনো রক্তের বাঁধন পথের কাটা হয়ে দাড়ায়।

Leave a Comment