গল্প : সৎ মা ( প্রথম পর্ব ) একটি শিক্ষনীয় গল্প

পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখি বাবার ফোন । কি ব্যাপার বাবা তো এরকম সময়ে এক দিন ও ফোন দেয় না । বাবা তো এই সময়ে অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকেন তাহলে হঠাৎ আজ কেন ফোন দিয়েছেন । আমি তাড়াতাড়ি ফোনটা রিসিভ করে বলতে লাগলাম :

হ্যালো বাবা কি হয়েছে ?


তখন বাবা বললেনঃ তুমি কোথায় রনি । তুমি একটু তাড়াতাড়ি চলে এসো আমার শরীরটা খুব খারাপ লাগতেছে আমি হসপিটালে চলে যাচ্ছি তুমি হসপিটালে চলে আসো ।

কথাটা শুনে রনির মাথাটা পুরো ঘুরে গেল । বাবার কি হয়েছে ? আর রনি তাড়াহুড়া করে তার বাবাকে বললো :
ওকে বাবা তুমি যাও আমি এখনই আসতেছি ।

রনি বাসায় ছিল তারাতারি তার মাকে জানালো যে বাবা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছেন । এবং তাকে দ্রুত হসপিটালে যেতে হবে । রনি মাকে বললো : তুমি বাড়িতে থাকো আমি দেখে আসছি বাবার কি হয়েছে আর পরে ফোনে তোমাকে জানাচ্ছি ।

এই বলে রনি দ্রুত ছুটে গেল হসপিটালে এবং হসপিটালে গিয়ে ডাক্তার কে বলতে লাগলেন :

রনি : ডক্টর আমার বাবার কি হয়েছে ? এখন কি অবস্থা তোর ডক্টর?

ডাক্তার : এখনো তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না তবে অবস্থা খুব খারাপ হার্ট অ্যাটাক হয়েছে ।

রনি: এখন কি অবস্থা ওনার
ডক্টর : বললাম তো এখন খুবই খারাপ অবস্থা আপনি শান্ত হোন চিন্তা করবেন না । আল্লাহকে ডাকুন ,আর আমরা দেখছি ।

কিছুক্ষণ পরে ডাক্তার থিয়েটার রুম থেকে বেরিয়ে আসলেন এবং বেরিয়ে এসে বললেন :
আপনার বাবা ডেট । এটা শুনে রনির মাথাটা পুরোটাই ঘুরে গেল । মনে হচ্ছিল এখানেই পড়ে যাবে মাথাটা ঘুরিয়ে । মন খারাপ করে বসিয়া পড়লো মেঝেতে ।

একের পর এক ফোন দিচ্ছে বাসা থেকে । কয়েকবার ফোন দেওয়ার পরে ফোনটা রিসিভ করলো রনি আর বললো তোমরা তাড়াতাড়ি হসপিটালে চলে আসো বাবার অবস্থা খুব খারাপ ।

রনির মা ও ভাই দ্রুত করে হসপিটালে আসলো এবং এসে দেখলো রনি ও জনি বাবা এ পৃথিবীতে আর নেই চলে গেছে তাদের ছেড়ে একেবারে না ফেরার দেশে সবাই খুব মোহিত অবস্থায় আছে । সবাই খুব কান্নাকাটি করছে ।

এই অল্প বয়সে ওদের বাবা মারা গিয়েছে ওরা এখনো ও খুব ছোট । রনি সবেমাত্র বিয়ে করেছে কিন্তু বেকার আর জনি অনার্সে পড়াশোনা করছে ।

আর তাদের একটা বোন আছে । ছোট বোনটি বোবা কথা বলতে পারে না । সারাদিন তাকে দেখাশোনা করতে হয় একা একা কোন কিছু করতে পারে না ।

এই ফ্যামিলি থেকে চলে গেলেন প্রধান কর্তা যিনি সম্পূণ পরিবারটি পরিচালনা করতেন । এখন পরিবারটি হয়ে যাবে খুব অসহায় ।

হসপিটাল থেকে তারা তাদের বাবার ডেট বডি বাসায় নিয়ে আসে । কবর দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায় । তারা তাদের বাবার মৃত্যুতে খুবই দুঃখে পড়ে যায় । তাদের ছেড়ে বাবা এভাবে চলে যাবে কখনো ভাবতেই পারে নি ।

কিন্তু কি করা যাবে ভাগ্যের যা লেখা আছে তাইতো হবে । সেটা তো কখনো ফেরানো যায় না ।

তাদের পরিবারের সব থেকে বেশি কষ্ট পেয়েছে পরিবারের বড় ছেলে রনি । এতটাই কষ্ট পেয়েছে যে সেদিন ৩ বার সেন্স হারিয়ে ফেলেছিল ।

ওদের পুরো দুনিয়াটা একাকীত্ব হয়ে যায়।
রনি ও জনির বাবা যেখানে চাকরি করত সেখানকার মালিক আঙ্কেল ওদের বাসায় আসলো এবং এসে বলল যে তাদের বাবা মারা যাওয়াতে সে খুব দুঃখ প্রকাশ করছে এবং তার বাবা নাকি খুব ভালো মানুষ ছিলেন ।

ইন্ডাস্ট্রিতে ওনার অনেক সুনাম রয়েছে । ইন্ডাস্ট্রিতে খুব ভালো কাজ করতেন । কারো সাথে কখনো কোন খারাপ আচরণ করেন নি । সব সময় কাজে মন দিতেন কাজ ছাড়া অন্য কিছুই তিনি বুঝতেন না । এই কথাগুলো শুনছিল জনি এবং রনি আর কান্নাকাটি করছিল ওদের বাবার জন্য । তখন ওই ইন্ডাস্ট্রির মালিক বললো তোমরা কান্না করো না আমি তোমাদের জন্য একটা কিছু ব্যবস্থা করব । তোমরা আমার অফিসে একদিন এসো । এইসব কথা বলে ওই আংকেল টি চলে যায় ।

  • এবং কিছুদিন পরে রনি যায় ওই আঙ্কেলের কাছে এবং আঙ্কেলটি বললো
  • : শোনো এই চাকরিটা তোমাকে একটা বংশের ধারা তোমার দাদা যখন ছিল তখন এখানে কাজ করতো তার পরে তোমার দাদা মারা গিয়েছে পরে তোমার বাবা কাজ করছে এখন তোমার বাবা নেই সে কাজটা তোমরা পাবে । তোমরা দুই ভাইয়ের মধ্যে থেকে কে করতে কাজটা ।

তখন রনি খুশি হয়ে বলল : জ্বী আঙ্কেল আমি করবো । আমার পরিবারে এখন আমিই বড় । তখন ঐ আঙ্কেল বলল ঠিক আছে তুমি জয়েন করো আগামী পরশুদিন থেকে ।

রনি খুশিতে বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে যায় । এবং বাড়িতে সবাইকে মিষ্টি খাওয়ায় তার চাকরির কথা শুনে সবাই খুব খুশি হলো ।

কিছুদিন পরেই সে চাকরিতে জয়েন করে ফেলে এবং পুরো পরিবারটা সে একাই মেইনটেইন করবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ।

তবে রনি এবং জনির যে মা এখন ঘরে আছে উনি কিন্তু তাদের আসল মা নয় ।
আসল মা বলতে বুঝানো হয়েছে রনি এবং জনির বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন ।

আগের বউ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলো । সেজন্য দুই বছর হলো বিয়ে করেছে । এই নতুন মায়ের একটি মেয়ে হয়েছে । তবে তাদের মধ্যে কখনো ঝগড়াঝাঁটি হয় নি । সন্তানদের সাথে এই মা খুব মিলে মিশেই থেকে ।

রনি এবং জনি হচ্ছে ওই আগের মায়ের সন্তান আর ওদের যে এখন একটি বোন আছে সেই বোনটি হচ্ছে এখনকার মায়ের সন্তান ।

তবে কিছুদিন যাবৎ রনি এবং জনির এই সত মা খুব অস্বাভাবিক হয়ে আছেন । তিনি ভাবছেন হয়তো রনি এবং জনি তাকে ছেড়ে যেতে পারে কেননা এখন সংসারটা চালানো ছেলেদের পক্ষে কঠিন হয়ে পরছে ।

তাই তিনি চিন্তায় পরে গেছেন । ওনার নাম আয়েশা বেগম । খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন যে তার স্বামী মারা যাওয়াতে যে ছেলেরা আছে তারা যদি তাদের মা মেয়েকে রাস্তায় নামিয়ে দেয় । মানে যদি বাড়ি থাকে যদি বের করে দেয় ।

আয়েশা বেগম রনির চরিত্রের মধ্যে একটা বিষয় লক্ষ্য করেছেন যে একটু অন্যরকম ভাবে থাকে । রনি কিছু যেন উনাকে বলতে চায় কিন্তু ভয় পাচ্ছে । এটা ফিল করছেন আয়েশা বেগম ।

আয়েশা বেগম ভেবে নিয়েছেন যে তার মেয়ে এবং তিনি এ বাড়ি থেকে মনে হয় বের হয়ে যেতে হবে ।

এদিকে রনির বউয়ের পেটে বাচ্চা । ও ছোট ভাই পড়াশোনা করছে । ওদের পরিবার সামলানো কঠিন হয়ে পরছে । অনেক টাকা পয়সা অনেক লাগে ।

এইসব চিন্তা করছেন আয়েশা বেগম যে তাকে যদি সত্যিই ছেড়ে দেয় । তাহলে সে কোথায় যাবে ! আগে যখন অন্য আরেক জায়গায় বিয়ে হয়েছিল ওখানে তাকে খুব মারধর করতো ।

এখানে বিয়ে হয়েছে কিছুটা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পেরেছিল কিন্তু এখন ওনার স্বামী মারা গিয়েছে সেই দুঃখ আবার দেখা দিল ।

আয়েশা বেগমের যে মেয়েটি আছে ওই মেয়েটা কথা বলতে পারে না । ওই মেয়েটিকে নিয়ে সে কোথায় যাবে । কার কাছে যাবে এইসব চিন্তা করে সে একদম ভেঙে যায় কোন উপায় না পেয়ে ।

কিছুদিন যাওয়ার পরে রনি একদিন একটা খাম নিয়ে এসে বাসায় পৌঁছিল এবং তার ওই সৎ মাকে ডাকলো আর বললেন :

:মা আপনি কোথায় একটু জলদি আসেন তো ।

আয়েশা বেগম : কি হয়েছে বাবা তোমার । কিছু বলবা কি আমাকে ?

রনি : হে মা আপনাকে কিছু বলার আছে । আপনি এখানে বসুন আপনার সাথে কথা আছে ।

  • আয়েশা বেগম : জি বলো বাবা আমি শুনতেছি ।

তখন রনি তার আম্মুর হাতে একটি খাম দাঁড়িয়ে দেয় আর কিছু বলল না চুপ করে আছে ।

তখন আয়েশা বেগম ভাবলেন হয়তো আমাকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্যই এই খামটা এনেছে । উনার মাথাটা ঘুরিয়ে গেছে তিনি ভাবছে মনে মনে হয়তো তাদের সংসারে আর মনে হয় আমাকে রাখবে না । আমাকে তাড়িয়ে দেবে উনার শরীরটা প্রচন্ড ঠান্ডা হয়ে যায় এবং চোখগুলো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রনির দিকে । রনি তখনই বলতে লাগলো

চলবে…

গল্প : সৎ মা
প্রথম পর্ব
লেখক:SM Rony Chowdhury

পুরো গল্পটি পড়ার অনুরোধ রইল গল্পটি দ্বারা আমাদের অনেক শিক্ষা হবে । শুধু রক্তের বাঁধনই যে আপন হয় তা নয় কখনো কখনো রক্তের বাঁধন পথের কাটা হয়ে দাড়ায়।

Leave a Comment