গল্প: ক্রাশ যখন অপরাধী (৫ম তথা শেষ পর্ব)

এদিকে লক্ষী অমিতের পিছু ছাড়ছে না ।

একের পর এক ব্ল্যাকমেইল করেই যাচ্ছে অমিতকে । আর অমিত প্রচন্ড ভয় পাচ্ছে যে তার লাইফে একটা বড় ধরণের সমস্যা হতে পারে এই বিষয়টা নিয়ে । সেজন্য অমিত তার বন্ধুর সাহায্যে নিতে চায় ।

তার বন্ধু স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে যে তাকে কোন চিন্তা করতে হবে না শুধু নাকে তেল দিয়ে ঘুমাতে বলছে । যেটা করবে সে একাই করে দেখাবে একেবারে চিরতরে ওই মেয়েটার মুখ বন্ধ করে দেবে । অমিত তার বন্ধুর কথা শুনে কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো তার মনে হচ্ছিল তার বন্ধু তাকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে । কিন্তু দেখা যাক এর পরে কি হয় ।

  • অমিত বারবার ফোন করে মেয়েটার কাছে ক্ষমা চাচ্ছে কিন্তু মেয়েটা কিছুতেই মানছে না এসব আর তার কাজ সে আরও গতিতে করে যাচ্ছে ।

আর এদিকে অমিত তার বন্ধুকে লাগিয়ে দিয়েছে মেয়েটার পিছনে । তার বন্ধুকে সে অর্ধেক টাকা দিয়ে দেয় মানে দুই লাখ টাকা কাজ শেষে বাকিটুকু দেবে ।

অমিতের বন্ধু একটা বুদ্ধিমানের কাজ করে । তার এক সহধর্মিনী একটি মেয়েকে এই কাজে লাগিয়ে দেয় যেন লক্ষী সাথে একটু সম্পর্ক হয় এবং ঠিক সেটাই হলো দুই দিনের ভিতরেই বন্ধুত্ব হয় তাদের । লক্ষ্মী ও আলাপ-আলোচনা করে রীতিমতো বন্ধুত্ব হয়ে যায় ওই মেয়েটির সাথে ।

এবং বন্ধুত্ব মোটামুটি খুব গভীরে হয়ে যায় এবং অমিতের বন্ধু ওই মেয়েটিকে শিখিয়ে দিয়েছে যে লক্ষীকে একটি জবের প্রস্তাব দিতে এবং লক্ষী জবের কথা শুনে দ্রুত রাজি হয়ে যায় কেননা তার হাতে এখন কোন টাকা নেই । এখন যদি সে এই মুহূর্তে কিছু টাকা পায় তাহলে অনেকটা উপকারে আসবে সেই কথা ভেবে লক্ষী জব করতে রাজি হয়ে যায় ।

এবং জবটি ছিল তাদের শহর থেকে অন্য একটি শহরে যেখানে যেতে হলে অনেক রাস্তা পেরোতে হবে এবং ওখানে থেকেই জবটি করতে হবে ।

তবে কোন ব্যাপার না এদিকে যেহেতু লক্ষ্মীর ব্যাপারে সমাজে খারাপ মন্দচারী হচ্ছে সেজন্য সে এটাই ভাবলো যে এই শহর ছেড়ে অন্য শহরে চলে যাবে আর এদিকে অমিতকে শাস্তি দিবে ।

সেই বুদ্ধি করে এগুতে থাকে যাতে করে অমিতকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারে কিন্তু সে কোথায় পারা দিচ্ছে সেটা সে জানে না ।

অবশেষে একটা দিন ঠিক করলো ওই শহরে যাওয়ার জন্য ।

লক্ষী তার ওই দুদিনের মেয়ে বন্ধুটিকে খবর দিল । ওই মেয়েটিকে গাড়ি নিয়ে আসে ওর জন্য ওকে নিতে সবকিছু ঠিকঠাক করে বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হলো ওই শহরের উদ্দেশ্যে যেখানে সে চাকরি করবে ।

এবং খুব হাসিখুশি মুখ নিয়ে বাড়ি থেকে রওনা হলো ওই শহরের দিকে ওরা দুজন লক্ষী ও তার দুদিনের বন্ধুটি ।

  • কিছুদুর যাওয়ার পথে লক্ষ্মী দেখতে পেল ওই শহরে যাওয়ার রাস্তা তো এটা না তাকে অন্য পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ।

এটা থেকে লক্ষী রীতিমতো হোঁচট খেয়ে যায় এবং বলতে লাগল কি ব্যাপার ড্রাইভার আমাদের আপনি কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ।

তখন ডাইভার বললেন এটা শর্টকাট রাস্তা ঐ শহরে যাবার । আপনি হয়তো এই রাস্তা দিয়ে যান নাই এই রাস্তা দিয়ে গেলে অর্ধেক সময়ে যাওয়া যাবে আপনি কোন চিন্তা করবেন না আমরা তাড়াতাড়ি চলে যাবো ।

তখন লক্ষী বলল ওই মেয়ে বন্ধুটিকে সব ঠিক আছে ! তখন এই বন্ধুটি বলল হ্যাঁ ঠিক আছে কোন সমস্যা নাই ড্রাইভারটি আমাদের খুব পরিচিত ।

এই বলে এই অপরিচিত রাস্তা দিয়ে যাওয়া হচ্ছে । যেতে যেতে খুব নির্জন এক জঙ্গলে নিয়ে যায় । ওদের চার পাশে কেউ নাই নিস্তব্ধ একটি পরিবেশ ।

মানুষের একদম আনাগোনা নেই তখন রাত বাজে সাড়ে এগারোটা এই জঙ্গলের মাঝখানে গাড়িটা বন্ধ করে ফেললো ড্রাইভার সাহেব ।

লক্ষী বলতে লাগল কি ব্যাপার ভাই আপনি এখানে গাড়ি বন্ধ করেছেন কেন ? কি সমস্যা আপনার নাকি গাড়ির কোন সমস্যা হয়েছে ?

এখন ওই মেয়েটি বলতে লাগল গাড়ি এই পর্যন্তই যাবে এর সামনে আর কোথাও যাবে না । আমরা ঐ শহরে যাচ্ছি না আর তোমার চাকরি ও হচ্ছে না ।আর হাঁ তোমার চাকরি হলে এই জঙ্গলেই হবে সারা জীবনের জন্য ।

লক্ষী : মানে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন ?

ওই মেয়েটি বললো : এখনোও তুমি কিছুই বুঝতে পারতেছ না । তুমাকে কেন এখানে নিয়ে আসা হল ? ওকে কিছু বুঝতে হবে না একটু ওয়েট ।

তখনই ওই জঙ্গল থেকে বের হয়ে আসলো অমিতের সেই বন্ধুটি যে বন্ধুটি প্ল্যান ছিল এ কাজটি করার জন্য ।

উনি এসেই লক্ষীকে ওড়না বেঁধে গলায় পেচে লক্ষীকে মারতে থাকে । এত পরিমাণে মারছে একবারে দম চলে গেছে ।

লক্ষ্মী কে মেরে জঙ্গলে ঠিক মাঝখানে ফেলে রেখে আসে । লতাপাতা দিয়ে ডেকে সবাই চলে আসে যার যার মত ।

এবং সবার ভাগের বাকি টাকাটা সবাইকে বুঝিয়ে দেয়া হয় এবং অমিতের বন্ধুটি অমিতকে ফোন দিয়ে বলে তুই এখন সম্পূর্ণ মুক্ত বন্ধু । তোর কোন চিন্তা নেই ওসব চিন্তা আমি থেকে তকে মুক্ত করে দিয়েছি এখন তুই শুধু বাকি টাকাটা দিয়ে দে তাহলেই হয়ে যাবে ।

আরোও বললো ওই মেয়েটির মুখ একেবারে সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছি । আর কোনদিনই তোর সামনে এসে দাঁড়াতে পারবে না কোন আবদার নিয়ে বুঝলি ।

তখন অমিত এই কথাটা শুনে খুব খুশি হলো এবং তার বন্ধুকে ধন্যবাদ জানালো
সকলেই খুশি কিন্তু ওইদিকে লক্ষীর বাড়িতে একটু গন্ডগোল হচ্ছে ।

অনেকক্ষণ হয়ে গেল মেয়েটি গিয়েছে কিন্তু এখনো ফোন করে জানাচ্ছে না বাসায় তাহলে গিয়েছে কোথায় ? লক্ষী তো এরকম মেয়ে নয় যে কোথাও গেলে অবশ্যই ফোন করে বাড়িতে জানায় কিন্তু আজকে কেন জানাচ্ছে না ।

বাড়ির সবাই খোজাখুজি করতেছে আর যোগাযোগ করার চেষ্টা করতেছে কিন্তু কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তারা অসহায় হয়ে পড়েছে একদম দ্রুত চলে আসে পুলিশের কাছে । পুলিশকে সবকিছুই খুলে বলেছিল ব্যাপারটা ।

পুলিশ ব্যাপারটা শুনে চমকে যায় বলতে লাগলো এটা নিশ্চয়ই ওই ছেলেটার কাজ । যে ছেলেটা ওই মেয়েটার সাথে সম্পর্ক করেছিল এবং সম্পর্ক ভাঙ্গানোর জন্যই হয়তো ওই মেয়েটাকে কোথাও লুকিয়ে রেখেছে তখন পুলিশ তাদের আশ্বাস দিল আপনার কোন চিন্তা করবেন না আমরা একটা খতিয়ে দেখব ।

পুলিশ অমিতকে থানায় ডাকে এবং এ ব্যাপারে অমিতকে প্রশ্ন করে অমিত বলল সে কিছুই জানে না এবং ওই মেয়েটির সাথে নাকি ওর রিলেশন অনেকদিন আগেই শেষ ।

কিন্তু পুলিশ এত সহজে ওর পিছু ছাড়ে নি পুলিশ ওর নাম্বার কালেক্ট করে এবং ওর নাম্বার থেকে ওর বন্ধুর নাম্বার টি সংগ্রহ করে এবং ওর বন্ধুর নাম্বার থেকে ওই মেয়েটির নাম্বার সংগ্রহ করে যে মেয়েটিকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ওই জঙ্গলে ।

পুলিশ এই লিঙ্কটি খুজে বের করে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।

অবশেষে সবাইকে ধরা শেষ । অমিতের বন্ধু আর ওই মেয়েটিকে পুলিশ ধরে ফেলেছে এবং গ্রেপ্তারও করেছে এখন শুধু বাকি আছে অমিত ।

আর পুলিশ ওই জঙ্গলে লাশ খোঁজাখুঁজির জন্য লোক পাঠিয়ে দেয় । অনেক খোঁজাখুঁজির পরে জঙ্গলের মাঝখানে মেয়েটির লাশ পাওয়া যায় ।
মেয়েটার মুখটা একবারে থুতলে দেওয়া হয়েছে ।

তবে পুলিশ বাহিনীর মনে হচ্ছে যে মেয়েটা এখনো মারা যায় নি । মেয়েটার নিঃশ্বাস এখনো পড়ছে দ্রুত করে তারা হসপিটালে নিয়ে যায় ।

আর এদিকে পুলিশ অমিত কে আবার পুলিশ স্টেশনে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে ।

অমিত এসে দেখতে পেল সবাই বন্দী এবং এটা দেখে সে চমকে যায় আর পুলিশ তাকে প্রশ্ন করতে থাকে । প্রশ্নের উত্তর না দিতে পেরে সেও ধরা খেয়ে যায় ।

তো তাকেও পুলিশ গ্রেফতার করে জেলখানায় বন্দি করে রাখে।।

আর ঐদিকে লক্ষী হসপিটালে আছে চিকিৎসা অধীনে । ডাক্তার জানালো যে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না । তবে চিকিৎসা চলছে খুব জঘন্য ভাবে মেয়েটিকে মারার চেষ্টা করেছিল ।

কয়েকদিন যাবার পর মেয়েটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেল এবং মেয়েটির কাছে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাবে ।

মেয়েটির সাথে যা ঘটেছে মেয়েটি তা খুলে বলল এবং কেন ঘটেছে সেটাও পরিষ্কার খুলে বলল ।

অবশেষে ধরা পড়ে গেল সবাই ।

সবাইকে হেফাজতে রাখা হয় এবং কঠোরতম শাস্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছে আদালত । এদিকে জানিয়েছে লক্ষীর খরচ বহন করবে সরকার ।

সমাপ্ত

আমাদের সমাজে এমন কিছু ব্যক্তি আছে যারা বাহিরের দিক থেকে ভালোবাসা দেখায় কিন্তু ভিতরের থাকে শুধুই নোংরামি । এইসব লোকের কাছ থেকে আমরা যদি দূরে না থাকি তাহলে এদের চক্করে আমরা পড়ে গিয়ে আমাদের জীবনটা ধ্বংস হয়ে যাবে ।

তাই ঐ সমস্ত লোক যাতে আমাদের নাগালে না আসতে পারে সেজন্য আমরা সতর্ক থাকবো কারো ভুল কথাই আমরা ভুলতে চেষ্টা করব না ।

এই গল্পে মেয়েটি ওই ছেলেটির ক্রাশ ছিল । মেয়েটি ছেলেটিকে ভালোবাসতো কিন্তু ছেলেটি তার সাথে ছলনা করেছে ।
মেয়েটিকে যদি আগেই বলে দিত ছেলেটি তাকে ভালবাসে না তাহলে মেয়েটি কিন্তু আগেই সরে যেত তার রাস্তা থেকে কিন্তু না মেয়েটিকে ব্যবহার করেছে ছেলেটি । মেয়েটিকে উপলব্ধি করেছে ।

এবং মেয়েটা কিছুই বুঝতে পারি নি যখন সবকিছু করার শেষ তখন মেয়েটি বুঝতে পেরে খুব কান্না করে আর ওই ছেলেটির পিছু ছাড়েনি ।

এটাই হচ্ছে আমাদের নারী জাতির একটা বোকামী । মেয়েটা এখানে যদি আগে থেকেই নিজের যত্ন রাখত নিজেকে দামি মনে করতো তাহলে হয়তো এই পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে দেয় ওই ছেলেটির কাছে ।

যার জন্য এমন হয়েছে ।

মেয়েদের কাছে আমার দুইটি কথা দেখো তোমাদের মা-বাবা তোমাদেরকে ছোট থেকে এখন পর্যন্ত বড় করেছে এবং তোমাদের জীবনের সকল চাহিদা পূরণ করেছে এমনকি তোমাদের বিয়ের চাহিদাটা ও তারাই পূরণ করবে । তোমরা যদি নিজেরাই তোমাদের নিজের বিয়েটা করতে চাও তাহলে অবশ্যই ভুল করবে ।

এখানে অবশ্যই তোমাদের মা বাবার অধিকার আছে তোমাদের পছন্দ আছে তো ভালো কথা কিন্তু তোমাদের ভালো লাগা অবশ্যই জানাতে হবে তোমাদের মা বাবাকে ।

না হয়তো আজকাল সমাজে তোমরাই পড়ে যাবে মহাবিপদে । যে বিপদে তোমাদেরকে একবারে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করবে ।

সমাপ্ত

গল্প: ক্রাশ যখন অপরাধী
৫ম তথা শেষ পর্ব
লেখক: SM Rony Chowdhury

Leave a Comment