গল্প:পাগলীর ভালবাসা পর্ব: ৩য় পর্ব ও শেষ পর্ব ।

228

সুজন বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়া আসে । এবং পুষ্পকে বললো সাইকেলে উঠতে।
পুষ্প সাইকেলে উঠতে পারতেছে না।সুজন: কি রে উঠস না কেন রে ?
পুষ্প: পারছি না তো। তুই একটু তুলে দে না!!
সুজন : আরে পাগলি তুই তো এখন দেখছি আমাকে তোমার কাজের লোক পাইছিস। আমি পারব না তারে চলতে না উঠলে আমি ভাগলাম।
পুষ্প: এই দাঁড়া দাঁড়া উঠতেছি একটু অপেক্ষা কর।

এভাবে পুষ্প সাইকেলে উঠে গেল । এখন বসে আছে সাইকেলের পিছনে আর সুজন সাইকেল চালাচ্ছে। পুষ্প এর আগে কখনো সাইকেলে উঠে নাই বলতে গেলে এই প্রথম। সুজন যখন এঁকেবেঁকে সাইকেল চালায় তখন পুষ্প খুব ভয় পায় আর বারবার বলতে থাকে যে তাকে নামিয়ে দিতে।। আর সুজন এতে প্রচণ্ড মজা পায়।।

পুষ্প সাইকেলে চড়ে খুব আনন্দ পেয়েছে। যে আনন্দ সে কখনই পাইনি আর সুজন কে ধন্যবাদ জানালো। সুজন বলল আমারও খুব ভালো লেগেছে তোকে সাইকেল চালাইতে আর একদিন আসিস আরো অনেকটা তরে ঘুরে দেখামু। ওদের সারাটি দিন এভাবে খুব আনন্দে কাটলো।।

এদিকে মন্ডলের মাইয়া কাজলের বিয়া আগাইতেছে। মন্ডলের মাইয়ার সাথে সুজনের একদিন দেখা। সুজন বলল কি ব্যাপার কেমন আছো কাজল। আমারে তো ভুইলা গেছো। শুনলাম তোমার নাকি বিয়ে ঠিক।

কাজল : সুজন ভাই শুনেন বড় যখন হয়েছি তাইলে তো বিয়া হবেই। তাতে আপনার সমস্যা কি ভাই।
সুজন: আমার তো কোন সমস্যা নাই বিয়া তো হবেই। তোমার বিয়ে তো হবেই। বিয়া তো আর কেউ ঠেকাতে পারবেনা।। কিন্তু আমার বিষয়টা একটু ভাবলে না যে আমি যে তোমাকে কি বলেছিলাম মনে নেই??

কাজল : ভাইয়া কি বলেছিলেন আমার তো মনে নেই একটু মনে করিয়ে দেন প্লিজ।
সুজন: থাক আর মনে করে লাভ নাই যাক কপালে যা আছে তাই হবে।।তুমি ভাল থাইক।

এই বলে সুজন সেখান থেকে চলে যায় আর মনটা একটু খারাপ করে। কেননা সে কাজলকে প্রেমের একটা প্রস্তাব দিয়েছিল কিন্তু সেই প্রেমের প্রস্তাবটা কাজল একেবারে গ্রহণ করে নি এবং সেটা সে কখনো প্রকাশ এ করে নি।

কাজল ছলনাময়ী সে ছেলেদেরকে ঘোরাতে পছন্দ করে। তার কোনো মন নেই। ছেলেদেরকে তার পেছনে ঘুরাবে এটাই তার সবচেয়ে আনন্দ।। আর এদিকে সুজন যেহেতু একটি কথা বলেছিল মানে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল সেটা সে আবার বলতে চায় না সে এখন বুঝে গেছে যে কাজল তাকে ভালবাসবে না কখনোই।।

সুজন কাজলের বাড়ি চারপাশ দিয়ে ঘোরাফেরা করত । এটা দেখে কাজলের মার কাছে অন্য রকম লাগলো ।কাজলের মা কাজলকে জিজ্ঞেস করল কিরে কি ব্যাপার পাশের বাড়ির সুজন ছেলেটা আমাদের বাড়ির চারপাশে এত ঘুরে কেন? তুই কি জানিস কিছু? বলতো আমাকে খুলে।

কাজল : না মা আমি কি জানবো ওই পোলা কি জন্য আমাদের বাড়ির চারপাশে ঘুরে। সেটা তো আমি জানি না। আর আমারও তো জানার বিষয় না ।তোমার একটা সুন্দরী মেয়ে আছে ঘরে এই মেয়ের পিছনে তো আট দশটা ছেলে বাড়ির পিছনে ঘোরাফেরা করবেই এটাই তো স্বাভাবিক।।

কাজলের মা মুচকি হাসি দিয়ে বলল তুই ঠিকই বলেছিস।।

পরেরদিন সুজন আবার পুষ্পের বাড়িতে যায় এবং পুষ্পের বাড়িতে গিয়ে সে যা দেখতে পেল সেটা সত্যিই অবাক করার মতো।।

পুষ্পের বাড়িতে গিয়ে সে দেখল পুষ্প খুব সুন্দর করে সেজেগুজে আছে এবং সে ঐরকম আর পাগলীর বেশে নেই। এতটাই সুন্দর করে সেজেগুজে আছে যে মন্ডলের মেয়ে কাজলের চাইতেও বেশি সুন্দর দেখা যাচ্ছে ।। চোখে কাজল লাগিয়ে আছে মাথার চুল গুলা সুন্দর করে চিরুনি দিয়ে আছরিয়েছে।সুন্দর একটা লাল শাড়ি পরেছে। মানে দেখতে অসাধারণ লাগছে ।।

এইটা দেখে সুজন বলল কি ব্যাপার আজ আমি কি দেখতেছি সব। আমি কি স্বপ্ন দেখতেছি নাকি বাস্তব। এই বলে সুজন তার শরীর একটি চিমটি কাটে এবং দেখে সে কি স্বপ্ন দেখছে নাকি বাস্তবে আছে। চিমটি কাটে সে তো দেখলো সেই বাস্তব জগতেই আছে।।

তখন সুজন বলতে লাগল কিরে কি ব্যাপার আজ এত সুন্দর করে সেজেগুজে আছিস কেন। ব্যাপারটা কি আমাকে একটু খুলে বল তো।

পুষ্প: কোন ব্যাপার না ।মন চাইলো তাই একটু সেজলাম আর কি ।
সুজন : না বিষয়টা আমার কাছে তেমন ভালো লাগতেছে না বল কি জন্য সেজেছিস?

পুষ্প :এমনিতেই সেজেছি আর তোকে কেন বলব আমি কি জন্য সেজেছি।
সুজন: এই শোন তোকে কিন্তু আজ অনেক সুন্দর লাগছে একেবারে বিউটিফুল লাগছে।। মানে তোকে যে এত সুন্দর দেখাবে সেটা আমি কখনো ভাবি নি আর তুই তো পাগলী মেয়ে সাজুগুজু করছিস কিভাবে।। কার কাছে শিখলি এটা।।

পুষ্প : এখানে বস আজকে তোকে আমি একটা গান শোনাবো আমার মনে আজ খুব আনন্দ।।
এই বলে পুষ্প একটা গান শুরু করল এবং গানটা ছিল খুবই মনোমুগ্ধকর।।
গানটা শুনে সুজনের মনটা নরম হয়ে গেল। ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিল পাগলী মেয়েটির প্রতি।।

সুজন: খুব বিনয়ের সাথে গানটা শুনলো। এবং গানটা শোনা মাত্রই সে চলে যায় ওই যে শহর থেকে আসা ভদ্রলোকটি উনার কাছে এবং উনার কাছে গিয়ে সে তার বাঁশি বাজানো শুরু করল এবং এত সুন্দর করে বাঁশি বাজালো সেটা শুনে ভদ্রলোকটি বললো কি ব্যাপার আজকে তোমার এত খুশি খুশি মনে হচ্ছে কেন??

তখন সুজন বলল আপনি ঠিকই বলেছিলেন জানাব। আসলে আমি এতোটাই বোকা যে আমাকে কে ভালবাসে সেটা আমি বুঝিনি। আমাকে যে এতটা পাগলের মত ভালবাসে একজন সেটা তো আমি কখনোই বুঝিনি। আমি যে মেয়ের জন্য ঘোরাফেরা করি তার থেকে হাজারগুন সুন্দরী মেয়ে আমাকে ভালোবাসে। সেটা আমি কখনই বুঝিলাম না।

ভদ্রলোক:গুড এখন তো বুঝতে পারছ। কিন্তু একটু পরে বুঝতে পারছ ।যাক বুঝতে তো পারছো। আমি তোমাকে আগেই বলতাম কিন্তু বলিনি জানো কেন? তুমি তো এতে একদমই রাজি না তুমি ভাবছো যে ওই মেয়েটা পাগলি। আমার কথা তুমি হয়তো ফেলে দিবে সেজন্য আমি কখনো এই ব্যাপারটা নিয়ে তোমার সাথে বলিনি।

ভাবলাম তুমি হয়তো এটা উপলব্ধি করবে সে জন্যই আমি অপেক্ষা করলাম হ্যাঁ ঠিক তাই হলো । তারপর তুমি এখনি ফল পেয়ে গেছো আর এত তাড়াতাড়ি যে ফল পাবে সেটা আমি ভাবিনি।।
যাক এতে আমি খুব খুশি হয়েছি।।

সুজন : দোয়া করবেন জনাব আমাদের জন্য আমরা একটা শুভদিন দেখে বিয়েটা করে নেব।। আর আমাদের বিয়েতে কিন্তু আপনাকে অবশ্যই থাকতে হবে।।

ভদ্রলোক: কিন্তু দুঃখের বিষয় আমিতো আজ বিকালে চলে যাচ্ছি। বাই দ্যা ওয়ে আমি তোমাদের জন্য দোয়া করবো। তোমরা বিয়ে করে সুখী হবে। আজ পুষ্পকে বলো আমার কথা। আরেকবার আসবো তোমাদের এই গ্রামে। গ্রাম টা আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।
তোমাদের এই গ্রামের মানুষের আমি প্রেমে পড়ে গিয়েছি। তোমাদের এই গ্রামের মানুষের সাথে আমি মিশে গিয়েছি। আমি আসবো আবার আসব তোমাদেরকে দেখতে। তোমরা সুখে শান্তিতে থাকো আমি এই দোয়াই করি সারাক্ষণ।

সুজন ওই ভদ্রলোকের পদধূলি মাথা নিল এবং শুভ একটা দিন দেখি তারা বিয়ে সম্পন্ন করে নিলো। পুষ্প ও সুজন সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো।

এভাবেই থাকুক ভালোবাসা ভালোবাসার কাছে সুজনের হাতটি ধরেই পুষ্পের সারাটি জীবন কাটুক । কাটুক সারাটি বছর।

সমাপ্ত

গল্প:পাগলীর ভালবাসা
পর্ব: ৩য় পর্ব ও শেষ পর্ব ।
লেখক: SM Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here