প্রতিটা বাবাদের সন্তানের জন্য হলেও এই কথাগুলো পড়া উচিত

300

প্রতিটা বাবা মার কত ইচ্ছা ছেলে বড় হয়ে বিশাল বড় চাকরি করবে , ছেলে নিজের পায়ে দাঁড়াবে , ছেলেকে হাজার মানুষ সম্মান করবে, ছেলে দিকে হাজার মানুষ তাকিয়ে থাকবে, ছেলেকে হাজারো মানুষ সালাম দেবে। ছেলের ফটো তুলে নেওয়ার জন্য হাজারো মানুষ অপেক্ষা করবে । ছেলেকে দেখার জন্য যে তৃষ্ণার্ত বুকগুলা হাহাকার করবে ।

ছেলের পদধুলী নেওয়ার জন্য হাজারো মানুষ অপেক্ষা করবে ।ছেলে বড় হয়ে পুরো দৃশ্যটা দেখাবে। ছেলে বড় হয়ে শিক্ষিত হবে মার্জিত হবে। ছেলে বড় হয়ে নিজের চাহিদা ও দেশের চাহিদা পূরণ করবে। ছেলের ভিতরে জ্ঞানের উন্মেষ জাগবে।। এক অন্যরকম সন্তান গড়ে তোলার লক্ষ্যে ছিল বাবা-মায়ের।।

সেই সব স্বপ্ন আশা ভরসা কেন ধ্বংস হয়ে যায় আপনি তা জানেন কি?? হয়তো জানেন না । তাহলে এই পুরো লেখাটি আপনারই জন্যে।জেনে নিন আপনার ছেলে কেন আপনার এই স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারে না । এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।

প্রথমত আমি বলতে চাই আপনার ছেলে আপনার হেফাজতের বাহিরে চলে গেলেই মনে করবেন আপনার ছেলের জীবনে আপনার যে স্বপ্ন ছিল সেই স্বপ্নটি ৫০ পার্সেন্ট শেষ হয়ে গেছে ধ্বংস হয়ে গেল। আর বাকি থাকে মাত্র 50 পার্সেন্ট।
খারাপ বন্ধুদের সাথে ঘোরাফেরা । কোথায় যাচ্ছে না যাচ্ছে ঐদিকে নজরদারি না করার ফলে এবং স্কুল কিংবা কলেজের ঠিকমতো যাওয়া-আসা করছে কিনা , কার সাথে মেলামেশা করছে ইত্যাদি বিষয়ের দিক দিয়ে যদি আপনি নজর না দেন তাহলে আপনার যে বাকি 50 পার্সেন্ট ছিল সেটাও ধ্বংস হয়ে যাবে ভাই।।

প্রথমত পৃথিবীতে সবাই আসে নিষ্পাপ হয়ে। পরে যখন পৃথিবীতে আসার পর সে যখন খারাপ লোকদের সাথে চলাফেরা করে এতে তার মন মানসিকতা পরিবর্তন হয় আস্তে আস্তে সে পাপ করতে শুরু হয়।। এত পরিমাণে খারাপ করে যে পাপের কখনো ক্ষমার যোগ্য থাকে না।।

আপনার নিষ্পাপ সন্তান কে আপনি কিভাবে পাপ মুক্ত রাখবেন সেটা কিন্তু আপনারই বিষয় দেখার।। কিভাবে আপনার সন্তানকে লালন-পালন করে বড় করবেন কিভাবে আপনার সন্তানকে আপনার মত কিংবা আপনার চেয়েও বড় কারো মত গড়ে তুলবেন সেটা জন্য কিন্তু আপনারই নজরদারি করতে হবে।। সেটা কিন্তু আপনারই আগে থেকে ঠিক করে রাখতে হবে।।

আপনি একজন বাবা আপনার উচিত আপনার সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা।সন্তান যদি কোন মাদকাসক্তদের কাছে থাকে কিংবা মাদক পান করা বন্ধু বান্ধবের সাথে চলাফেরা করে থাকে তাহলে আপনার ওই সন্তান নির্ঘাত অসৎ পথে চলে গিয়েছে।। তাই আমার মতে আপনাদের উচিত নিজের ছেলেকে একটু দেখাশোনার চোখে রাখা।। মানছি ছেলে বড় হয়েছে কিন্তু তাই বলে ছেলের হাতে নিজের চলাফেরার করার ক্ষমতা দেওয়া যাবে না।।

বিশেষ করে যৌবনের সময় টা এই সময়টায় ছেলেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় । এই সময়ে অনেক ছেলে হয়ে যায় খারাপ এই সময়ে অনেক ছেলে হয়ে যায় আদর্শ বাবার আদর্শ ছেলে।। সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে যে বাবা তার ছেলেকে একটু যন্ত করে রাখতে পারে সে জন্য তার ছেলেকে নিয়ে উনার যে স্বপ্ন তা পূরণ হবেই।। স্বপ্ন টা পূরণ করতে সবাই চায় কিন্তু করতে পারে কয়জনে?? যারা পারে তারা কিন্তু আগে থেকেই সবকিছু পরিকল্পনা করে রাখে।। ও তারাই সফল হয়।

বিশেষ করে আপনার ছেলে যৌবনের বয়সটা মানে 17 থেকে 21 বছর এই বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । এই বছর গুলোতে যদি আপনি আপনার ছেলেকে ঠিকমতো দেখাশোনা করতে পারেন তাহলে দেখবেন আপনার ছেলে সত্যি আপনার স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারবে। আপনাকে শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না স্বপ্ন পূরণ করার জন্য চেষ্টা করতে হবে ।।আর চেষ্টার যদি কোন কমতি না রাখেন তাহলে দেখবেন আপনার স্বপ্ন আপনার হাতে এসে পৌঁছে যাবে।।

এই যে আপনার ছেলের এই বয়সটা এটা খুবই সাধারণ বিষয় নয়। এটা একটা অসাধারণ বিষয় এই বয়সে আপনার ছেলে যদি কোন খারাপ বন্ধুর সাথে মেলামেশা করে তাহলে দেখবেন আপনার ছেলে মেয়ে খারাপ হয়ে যাচ্ছে।।

আপনি কি জানেন প্রতিটা বাবার ঘর থেকেই প্রতিটা সন্তান হয় নিষ্পাপ। কিন্তু পৃথিবীতে এসে ওরা পাপী হয়ে যায় আর প্রতিটা বাবায় চায় তার ছেলে অনেক বড় হতে কিন্তু সব ছেলেগুলাই পারে না বড় হতে। অনেকে হয় চাঁদাবাজ, ট্রেজার, সন্ত্রাস , ধোকাবাজ, ধর্ষক ইত্যাদি আরো অনেক জঘন্য রকমের পর্যায়ে হয়ে থাকে।

তাই আপনার ছেলেকে আপনার কন্ট্রোলে রাখা দরকার। আপনার নিয়ন্ত্রণের বাহিরে গেলে আপনি বুঝতে পারতেছেন কি হবে।বর্তমান এই সময়টা খুবই খারাপ এই সময়ে ঘটে যাচ্ছে অনেক ঘটনায় যেটা আপনি নিজের চোখে দেখতে পারছেন। বাবার হাতে ছেলে খুন, ছেলের হাতে বাবা খুন।। এসব কি আপনার নিজের চোখে দেখতে চান নাকি ছেলেকে আদর্শ করে গড়ে তুলতে চান।

আপনি কোনটা করবেন সেটা আপনার বিষয় তবে আপনার ভিতরে কথাগুলো ঢুকানোর জন্য আমি আপনাকে এই কথাগুলো শোনালাম।।

আপনি কখনো এটা করবেন না যখন আপনার ছেলে দেখা যাবে তার অন্য সব বন্ধুদের থেকে পড়াশোনা কম পাড়ছে। তখন আপনি হাল ছেড়ে দেবেন না। আপনি এটা ভাববেন না যে আপনার ছেলে পড়াশোনা কম পারে বলে আপনার ছেলে পড়াশোনা পারবে না বা তাকে দিয়ে হবে না । কিন্তু না আপনি এটা কখনো চিন্তা করবেন না । আপনাকে আপনার ছেলের পেছনে লেগে থাকলে হবে। ওকে একটু সময় দিতে হবে পড়াশোনা করছে কি করছে না ঠিকমত ওইটা দেখার জন্য একটু সময় দিতে হবে । আপনি ঠিক মতো তাকে যত্ন নিলে দেখবেন আপনার ছেলে ঠিকই ওই বন্ধুদের থেকে একটু বেশিই পারবে।

আপনি এটা কখনো ভাববেন না আপনার ছেলে কালো হয়েছে বলে বিধায় আপনার ছেলে কোন একটা মন্ত্রিসভায় উঠতে পারবে না। বা আপনার ছেলেকে আপনি অন্য কোনো একটা যোগ্য স্থানে নিয়ে যেতে পারবেন না। এটা আপনি কখনোই ভাববেন না । সন্তান দেওয়ার মালিক কে??

আল্লাহ।। তো কার কিরকম সন্তান দেবে সেটা তো একমাত্র আল্লাই জানে।।যেহেতু আল্লাহ ঠিক করে থাকে তাই সেটার উপর আপনার তো হাত নেই । তাই আপনার উচিত আপনার ছেলেকে যেখানে নিয়ে যাওয়া উচিত সেখানেই নিয়ে যাওয়া । এটাতে আপনার একটুও মানসম্মান কমে যাবে না বরং আপনার আরো আনন্দিত হওয়া দরকার।

আপনার ছেলেকে এইটা কখনো বলতে দিবেন না আপনি যতদিন আপনি বেঁচে থাকবেন যে বাবা আমার জন্য কিছুই করে নি । ছেলেকে বড় করার প্রতিটি স্তর আপনি সুন্দরভাবে অতিক্রম করবেন দেখবেন আপনার ছেলে একদিন সত্যি মানুষের মত মানুষ হয়ে উঠবে।

আপনার ছেলেকে বড়দের সম্মান করছে আর ছোটদের কি স্নেহ করছে?? এটা দিকে আপনি একটু যত্নশীল হবেন।কেননা এটাই হচ্ছে মূল মনুষ্যত্বের চাবিকাঠি । আসলে শিক্ষাটা হয়েছে মানুষকে কিভাবে ভদ্র সুন্দরভাবে কথা বলে মানুষের মন অর্জন করা যায় সেটাই।

এইখানে যদি পারেন তাহলে কোন এক মন্ত্রিসভায় দেখবেন আপনার ছেলে এই ধরনের ভাল ব্যবহার করায় হয়তো আপনার ছেলে বাবার নাম ধরে রাখবে।। আর কখনো ওরা তাকে গালি দেবে না।।

তাই যদি কেউ বকা দেয় সেটা কিন্তু আপনার উপরেই লেগে থাকবে । আর আপনি সন্তান জন্ম দিয়েছেন এসব কথা তো শোনার জন্য তো নয়।। যথারীতি ভাবে আপনার ছেলেকে এই সব দিক থেকে একটু লক্ষ্য রাখবেন।

জীবনটা খুব অল্প দিনের আর এই অল্প দিনের যদি সুখ শান্তি আশা-ভরসার আশা করা যায় তাহলে দেখবেন জীবনটা পরিপূর্ণ হয়ে যাবে যদি এগুলা জীবনে আসে।।

সবসময়ই ছেলেকে সৎ শিক্ষা দিবেন আর কখনোই আর সবসময় ওর দিকে লক্ষ রাখবেন। আপনার ছেলে মিথ্যা কথা বলছে কিন্তু আপনি তাকে মিথ্যা কথা বলা বারণ করছেন না ।। আপনার ছেলে একটা ছোটখাটো চুরি করেছে আপনি যদি এই ছেলেটাকে যদি না মানা করেন তাহলে একদিন দেখবেন আপনার ছেলে বড় একটা কিছু চুরি করে নিয়েছে।

আপনি ভেবেছিলেন ছোট চুরি বলে চুরি না । কিন্তু এখন দেখেন বড় চুরি করেছে সেটা কিন্তু চুরি । তাই তো?? আসলে আপনাকে লক্ষ করা দরকার সেখানেই যেখানে চুরি তো চুরি ছোট হোক কিংবা বড় চুরি হোক । আপনি প্রথমে তাকে শিক্ষা দেওয়া দরকার ছিল যে বাবা এটা ভালো না এটা করাকে চুরি বলে । আর চুরি করা মহাপাপ এর থেকে জঘন্য কাজ পৃথিবীতে আর নেই।।

আপনার সন্তানের মাথায় এই সমস্ত বিষয় গুলো ঢুকিয়ে দিন দেখবেন আপনার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে

                                 ইনশাল্লাহ।।

লেখক: SM Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here