গল্প:পাগলীর ভালবাসা (পর্ব: ২য় )

পরের দিন সুজন যায় পুষ্পের বাড়িতে। পুষ্পকে ডেকে বার করে সুজন। পুষ্প এসে বললো-কি হয়েছে তোর আমারে এত ডাকাডাকি করতেছোস কেন?
সুজন : এই পাগলী আমার একটা কাজ করে দিতে পারবি বিনিময় তোরে আমি 20 টাকা দিব।

পুষ্প : কি কাজ আগে বল যদি ভালো লাগে তাইলে করবো নাইলে করমু না।
সুজন : এই যে দেখতে পাইতাছোস এক গ্লাস শরবত। এইটা কোনো সাধারণ শরবত না। এটা হচ্ছে পীর আলি বাবার পরা শরবত। এখন তোর কাজ হচ্ছে তুই এই শরবতটা কাজলরে খাওয়াবি। তুই যেমনে পারোস ওই ওমনে খাওয়াবি।।

পুষ্প :তা না হয় খাওয়ালাম কিন্তু এই শরবতের কাজ টা কি??
সুজন : শোন এইটা এইটা যদি কাজলরে খাওয়াইয়া দিস তাহলে দেখবি কাজল আমার জন্য একদম পাগল হয়ে যাবে। কাজল আমার ভালোবাসার জন্য দিওয়ানা হয়ে যাবে। কাজল আমাকে ছাড়া আর অন্য কিছুই দেখবে না। আমি তো এটা এতদিন ধরে যে চেয়ে এসেছি। এখন আজই পূরণ হবে । যদি তুই ঠিকমতো এই শরবত টা কাজলরে খাওয়াতে পারিস।।

মাইয়াডা ফাজিল হইয়া গেছে একদম। আমার কথায় কোনো পাত্তাই দেয় না ।এত কিছু করি তার জন্য সে তো আমারে একটুও বোঝে না ।। এহন বুজবে আমার জন্য দেওয়ানা হইয়া যাইবো।। এই পাগলি বল আমার এই উপকারটা তুই কইরা দিবি না??

পুষ্প : আচ্ছা যা করে দিমু নে তুই যখন কইছিস তাহলে করে দিমু । এখন টাকা দে।।

সুজন: কিসের টাকা??
পুষ্প: ও মা তর কাজ করে দিতেছি টাকা দিবি না তুই তো বললি টাকা দিবি তো দে।
সুজন: এখনও তুই কাজটা করিস নি তাহলে তকে আগে কেন টাকা দেবো? আগে তুই কাজটা শেষ কর তারপরে তোকে আমি সম্পূর্ণ টাকাটাই দেবো।

পুষ্প: দিবি তো ? না দিলে কিন্তু খবর করে দিমু সুজন ।
সুজন: বললাম তো তোরে দিমু । তুই আগে কাজটা শেষ কর তারপরে আমার কাছে আয়।।

এই বলে পুষ্প সুজনের হাত থেকে শরবতের গ্লাস টা নিয়ে যায় মন্ডলের মাইয়া রে খাওয়াইতো। মন্ডলের মাইয়া দেখতে সুন্দর কিন্তু অনেক উচ্চ বংশের বদ মেজাজী।সুজন ওরে পছন্দ করে কিন্তু সুজনসরে ওই মাইয়া একদমই পাত্তা দেয় না। নানা রকমের পদ্ধতি করে থাকে কিন্তু কোনভাবেই ওই মেয়েটা পাত্তা দেয় না।।

শরবতের গ্লাস নিয়ে রওনা হলো মন্ডলের বাড়ি দিকে অর্ধেক রাস্তা যাওয়ার পরই সে বিসমিল্লাহ বলে পুরো শরবতটা সে নিজেই খেয়ে ফেলল।

এবং ফিরে এসে সুজন কে বলল যে সুন্দরভাবে সে মন্ডলের মাইয়া কাজলরে শরবতটা খাওয়াইয়া আসিছে।। বানিয়ে বানিয়ে অনেক কিছু বলতে লাগলো। এটা শুনে মুগ্ধ হয়ে যায় সুজন।আর বলতে লাগলো তুই একটা ভাল কাজ করেছিস এখন মন্ডলের মাইয়া আমার প্রেমে পড়বোই। কেউ ঠেকাইতে পারবে না তুই দেখিস।

পুষ্পা: এখন আমার টাকা টা দে ।
সুজন: কিসের টাকা আমার কাছে কোন টাকা পয়সা নাই রে।
পুষ্পা: ওরে বাটপার ।তোর কাজটা আমি শুধু শুধু করে দিলাম। আমি জানতাম তুই আমার টাকা দিবি না ঠিক আছে এরপর থেকে আর কোনো কাজই করে দেবো না।

এই বলে পুষ্প পাগলি মেয়েটি সেখান থেকে চলে যায়। সুজনের উপর বেজায় রেগে আছে ।।কেননা তাকে যেটা দিবে বলে কাজ করিয়েছে সেটা দেয়নি।।

সুজন মহা খুশীতে সেখান থেকে চলে আসে।। কিছুদিন বাদেই মন্ডলের মাইয়ারে দেখতে আসার কথা ।। এক পোলা ও পোলা পরিবার দেখতে আসবে।। তখনতো সুজনের মাথা পুরোটাই গরম হয়ে যায় কি করবে এখন এই বিয়ে ঠেকাতে হবে। সেজন্য সুজন উপায় খুঁজে বের করার জন্য চেষ্টা করতেছে।।

অনেক ঘাটাঘাটি করার পর একটা বুদ্ধি তার মাথায় আসলো। সে আবার ছুটে গেল সেই পাগলী মেয়েটি পুষ্পর কাছে ।। পুষ্পকে গিয়ে বলল সুজন এই পাগলী আর একটা কাজ করে দিতে পারবি??

তখন পুষ্প বললো: না আমি তোর কোনো কাজই করব না !! তুই এখান থেকে দূর হ।
সুজন: এই পাগলি মেয়ে আমাকে কিন্তু এই কাজটা করে দিতেই হবে । এই নে 10 টাকা।কাজ করে পরে বাকি টাকাটা নেবে।
পুষ্প: আচ্ছা বল তাহলে কি কাজ ?
সুজন: শোন তুই বটি দিয়া দৌরানি দিতে পারবি??
পুষ্প : কোপ দেওয়া লাগবে??
সুজন: মন চাইলে দিস তুই তো আবার পাগলি মেয়ে । মারলে কে কি করবে।
পুষ্প: আচ্ছা ঠিক আছে তো কাদের দিতে হবে কোপ।

সুজন: আসলে আজকে দুপুরে শহর থেকে কাজলকে দেখতে আসবে । ওরা যখন আমাদের গ্রামে ঢুকে তখন তুই শুধু ওদের কে বটি দিয়া দৌরানি দিবি।পারবিতো এ কাজটা?

পুষ্প : পারবো। কোন ব্যাপার না আমার জন্য।।
সুজনের মুখে হাসি ফুটে উঠল আর বলতে লাগল তাইলে এখন একটা গান শোনা পাগলি…
পুষ্প একটা গানে টান দিলো..
কি সুন্দর এক গানের পাখি মন নিয়া সে খেলা করে… পাখিটারে দিতে গিয়ে গানের বায়না বেচারা সে গান গেতে চায় না..

পুষ্প গান গাচ্ছে আর সুজন গানের তালে তালে তাল মিলাচ্ছে…।।
(সুজন গানটা শোনার পরেই হাঁটতে হাঁটতে চলে গেল ওই ভদ্রলোককে কাছে। ভদ্রলোকের কাছে গিয়ে বসে সে তার বাঁশি বাজানো শুরু করল এবং সুন্দর করে বাঁশি বাজালো।। বাঁশি বাজানো শুনে ভদ্র লোকটি বলল কি ব্যাপার আজকে এত সুন্দর করে বাঁশি বাজাচ্ছ এবং এত খুশি খুশি লাগছে তোমাকে।। ব্যাপারটা কি বলতো।

সুজন : জনাব আসলে তেমন কিছইু না। বললাম না আপনাকে যে ওই পাগলি মেয়েটা যদি গান ধরে তাহলে আমারও বাঁশির সুর ওঠে। আজকে এইমাত্র ওর গান শুনে আসলাম এসেই আপনাকে বাঁশি বাজানোর শোনাচ্ছি আর ওর কাছে গেলে আমার মনটা খুশিতে ভরে ওঠে।। আর ওর পাগলামি টা আমার কাছে খুবই ভালো লাগে।।

ভদ্রলোক তাই নাকি। পাগলিটার প্রেমে পড়ে গেছো নাকি । ডুবে ডুবে জল খাচ্ছ।।সুজন আরে না ও তো পাগলি মেয়ে ওর প্রেমে পড়া যায় কিভাবে।।
ভদ্রলোক: যদি বলি সে তোমার জন্যই পাগলি হয়েছে তাহলে..

সুজন: আরে না সে আমার জন্য পাগল হতে যাবে কেনো। ও তো আগে থেকেই পাগল।।
ভদ্রলোক: আমি তো দেখতেছি যে তোমার জন্য পাগল আর তুমি বুঝতেছ না।।

সুজন: কিলযাতা যে বলেন ।
ভদ্রলোক : আমি যা বলি না কেন কিন্তু ঠিক বলতেছি।

এই বলে সুজন সেখান থেকে চলে যায় ওনার কথায় কোনো পাত্তা না দিয়ে।।

আর ওদিকে মন্ডলের বিয়ে ভেঙ্গে গেল।।
বর যাএীরা যখন এসে ছিল তখনই ওই পাগলী মেয়েটি তাদের উপর আক্রমন করে।

বর যাএীরা চরম ভয় পেয়ে যায় । এই গ্রামে ডুকার আগেই তাদের কপালে শনি দেখা দিল।। সে জন্য ওরা আর এ বিয়ে নিয়ে আর সামনের দিকে এগুয়নি।

আর ওই দিকে সুজন বেজায় খুশি । কেননা সে বিয়েটা ভেঙ্গে দিল কাজলের ।।সে ওই পাগলীরে গিয়া ধন্যবাদ জানায়।
পাগলী বললো আমারে ধন্যবাদ দিলে কাজ হবে না । আমারে সাইকেলে চরাইতে হবে তোর।

সুজন: আচ্ছা চল তাহলে । তরে সাইকেলে নিয়া পুরা এলাকাটা ঘুরবো।
পুষ্প: হে চল চল।।

সুজন বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়া আসে । এবং পুষ্পকে বললো সাইকেলে উঠতে।
পুষ্প সাইকেলে উঠতে পারতেছে না।।

সুজন: কি রে উঠস না কেন রে ?
পুষ্প: পারছি না তো। তুই একটু তুলে দে না!!

চলবে..

গল্প:পাগলীর ভালবাসা
পর্ব: ২য় পর্ব
লেখক: SM Rony Chowdhury

Leave a Comment