গল্প : ভাবি যখন বউ পর্ব: ১৮তম ও শেষ পর্ব

1602

রাতুলের মা রাতুলকে কোনো উত্তর দিতে পারল না। কেননা পরিবারের একজন প্রধান কর্তা পরিবারের মুরুব্বী হিসাবে অথচ তিনি এই বিষয়টা লক্ষ্য করেন নি। নিজেকে তিনি অনেক ছোট মনে করতেছেন এবং সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারতেছেন না।।

দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে রাতুলের মা রাতুলকে বলল : বাবা তুই আর এগিয়ে যাস না ।। আমাদের মান সম্মানের বিষয়টা একটু দেখ। তুই যদি এরকম করিস না তাহলে সমাজের লোকজন আমাদেরকে কি বলবে আমরা তো এমনিতেই শেষ হয়ে গিয়েছি আরো তো শেষ হতে যাব । আমাদেরকে শেষ করিশ না বাবা ।। বাবা লোকজন তো আমাদেরকে খুব খারাপ বলে এসব কথা শুনলে। দুই ভাই খুব আপন ছিলি একসাথে ছোটবেলা থেকেই একে অপরের জানের টুকরা ছিলি কিন্তু আজ এই কাজল নামক মেয়েটি তাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুজন দুজনের চোখের বিষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।।

আমি কি বলব দেখ আমার তো কিছু বলার নেই এখন আমি বুডো় হয়ে গিয়েছি।

রাতুল : মা আমি ছোটবেলা থেকেই তোমার কথা শুনে আসছি বলেই আজ আমার এই অবস্থা হয়েছে। আমি এতোটাই বোকা ছিলাম যে তোমাদের কথায় চলেছি। আর ঘরে একটা দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পুষেছি। আমার দুধ কলা খেয়ে আজ আমার সাথে বেইমানি করেছে আমারই আপন ভাই এই জিনিসটা আমার যে ভাবতেই অবাক লাগতেছে।।

পৃথিবীটা আজ কোন পর্যায়ে গেল মা আমি সেটাই খুঁজে পাচ্ছি না । নিজের ভাই এত আদরের ভাই যাকে আমি পড়াশোনা করিয়েছি । নিজে না পড়ে নিজে না খেয়ে ওকে আমি খাইয়েছি। ভালো ভালো খাবার আর অথচ আজকে নিজের বড় ভাইয়ের বউকেই সে বিয়ে করে বসে আছে। আরোও বিয়ের আগেই গর্ভের সন্তান ধারন করিয়াছে বড় ভাইয়ের বউয়ের।

আমি যে এসব আর দেখতে পারছি না। আমার যে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে।। আমি পাগল ছিলাম এটাই তো ভালো ছিলাম কেন ভালো হতে গিয়েছিলাম । আর কেনইবা তোমরা আমাকে ভালো করে এনেছো।

দয়া করে তোমরা আমাকে আবার ওই পাগলের আস্থানায় রেখে রেখে আসো। আমি আর নতুন করে পাগল হতে চাই না।
রাতুল খুব কান্নাকাটি করতেছে আর তার মাকে বলতেছে এসব কথা । তার মার ও এখন উত্তর দেওয়ার মতো কোনো কথা নেই । কেননা রাকিব ও রাতুল দুজনেই তো আপন ছেলে।

তখন রাতুলের মা বলতে লাগলো :বাবা তুই কাজলকে ভুলে যা আর ওই সন্তানকেউ ভুলে যাহ্ ।ওইটা যে তোর না। তোকে আমি নতুন করে আবার বিয়ে করাবো।তুই নতুন করে সংসার করবি।

সবকিছুই ভুলে যা , ভুলে যা তোর জীবনে কাজাল নামে কোন মেয়ে এসেছিল ।।
ভুলে যা তোর জীবনে কোন কালোমেঘ চলে এসেছিল।।
ভুলে যা তোর জীবনে রাকিব নামে কোন ভাই আছে তুই সবকিছু ভুলে যা রে বাবা।।

রাতুল: না মা আমি যে পারবো না। আমি যে পারতেছি না আমাকে দ্বারা এটা সম্ভবই না।তুমি কথাগুলো অনেক সহজ ভাবে বলেছো কিন্তু কথাগুলো সহজভাবে মেনে নেওয়া এতটাই যে কঠিন সেটা তোমাকে বলে বোঝানো যাবে না মা।। এই বলে রাতুল চলে গেল দূরে কোথাও।।

যেখানে ওকে আর কেউ না দেখতে পারে চলে গেল অন্ধকার জগতে যেখান থেকে কখনো ফিরে আসা যাবে না..

চলে গেল লোকচক্ষুর আড়াল থেকে ।
মা ভাইকে পর করে চলে গেল আর কখনো ফিরে এল না। মা- ভাই ও নিজের স্ত্রীকে রেখে কোথায় যে গেল কাউকে বলে যায়নি শুধু যেদিকে চোখ গেছিল ওই দিকে চলে যায়। কেননা সে বুঝতে পেরেছে এই সমাজে তার কোন মূল্য নেই। এই সমাজে তার কোন স্থান নেই।। সে বুঝে গিয়েছিল এখানে থাকলে হয়তো সে আস্তে আস্তে কষ্টে বঞ্চিত হতে হতে এক পর্যায়ে মারা যাবে।।

এটা বুঝে গিয়েছিল যে তার জীবনে সুখ বলতে আর কিছু নেই ।সুখ বলতে কোন অধ্যায়ে তার জীবনে নেই। হয়তো এসব কথা চিন্তা করেই সে দূরে কোথাও চলে গেছে।।।

আর এদিকে কাজল রাকিব তাদের জীবনটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলেছে।
তাদের জীবন তাদের মতোই করে সাজিয়ে নিয়েছে তাদের জীবনে কোন কমতি রাখেনি মাঝখান থেকে শুধুমাত্র রাতুলকে তাড়িয়ে দিয়ে।।

গল্পটি এমন একটা পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে কত আদরের ছোট ভাই। ছোট ভাইয়ের জন্য জান ছিল বড় ভাইয়ের।। ছোট ভাই কি খাবে না খাবে কি করবে না করবে কোথায় পড়াশোনা করবে ইত্যাদি যাবতীয় সবকিছুই করতো বড় ভাই। আর তারই সাথে বেইমানি করেছে ছোট ভাই। বড় ভাই পছন্দ করে বিয়ে করেছে আর ছোট ভাই ওই বউ সাথে প্রেম করে বড় ভাইকে ধোকা দিয়ে বড় ভাইকে পাগল বানিয়ে দেয়।

এটাই হয়তো দুনিয়ার একটা খেলা যে খেলায় কেউ হেরে যায়।। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুনিয়াতে এই খেলায় সরল মানষই হেরে যায় ।সরল মানুষের সরলতার সুযোগ নেয় সবাই।। তেমনি এই গল্পে রাকিব নিয়েছে সরলতার সুযোগ।।

এই গল্পে যদি রাতুল চরিত্রটি একটু কঠিন হত। একটু নিজের প্রতি কেয়ার হতো একটু নিজের বউয়ের প্রতি কেয়ার হতো তাহলে হয়তো এই অবস্থায় পড়তে হতো না।।।

গল্পটির এখানেই সমাপ্তি।।

আমরা আমাদের সমাজে এরকম অনেক ঘটনা দেখে থাকি ।। তবে এই ঘটনা একটু ব্যতিক্রম। এরকম হতেও পারে আমাদের সমাজে তাই আপন ভাই কেউ একটু সন্দেহের চোখে রাখা দরকার। একটু কন্ট্রোলে রাখা দরকার এতটাই ফি হতে দেওয়া যাবে না।। সব সময় নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে নিজের কন্ট্রোলে রাখা উচিত এবং একটু দেখাশোনার চোখে রাখতে হবে।। কে কোথায় যাচ্ছেন কি করছে সবকিছুই খেয়াল রাখতে হবে।।

আমাদের সমাজে বদ লোকের অভাব নেই এরা সারাক্ষণই কূটনীতি করে থাকে।
ঐ সমস্ত লোকদের হাত থেকে আমাদেরকে বেঁচে থাকার জন্য আমাদেরকে একটু নিজেদের প্রতি কেয়ারিং হতে হবে।।এভাবে সবাই আমরা এই সমস্ত বিপদ আপদ থেকে রেহাই পেতে পারি।।

এরকম ভালো ভালো আরো গল্প পেতে হলে আমাদের এই অনুভূতি ছোঁয়া ওয়েবসাইটের দিকে নজর রাখবেন।। প্রতিদিনই অনেক অনেক গল্প পোস্ট করা হচ্ছে আমাদের এই ওয়েবসাইটে।।

সমাপ্তি

গল্প : ভাবি যখন বউ
পর্ব: ১৮তম পর্ব শেষ পর্ব
লেখক : S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here