গল্প:পাগলীর ভালবাসা (পর্ব: ১ম)

685

আরে জনাব শুনেন আমি একলা থাকি ,গ্রামে তো আর খারাপ মানুষের অভাব নাই। রাতের বেলা কত দুষ্ট লোকে কত যে শয়তানি করতে আসে। সে জন্যই আমি পাগলের বেশে থাকি।

ভদ্রলোক :তার মানে তুমি পাগল নয়?(একটু হেসে)
পাগলি মেয়েটি : এক্কেবারে ঠিক ধরছেন আমি পাগল নই আমি পাগলের ভাবে ভাব লইয়া থাকি।
ভদ্রলোক : বাহ তোমার তো দেখছি অনেক বুদ্ধি। সত্যি তোমার বুদ্ধির প্রশংসা করতে হয়।
পাগলি মেয়েটি : আর বইলেন না জনাব । রাইত বেড়াইতে ঘুমাইতে পারি না। আমি একা মানুষ , ভাই বোন নাই মা নাই বাপ ও নাই , আমার কেউ নাই দুই কূলে । তাই আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য আমি এই পাগলি বেশে থাকি। এই গ্রামের সবাই আমাকে পাগলী বলেই চিনে। দেখুন জনাব আমি আপনাকে সত্যি কথা বলে দিয়েছি আপনি আবার কাউরে বইলেন না কিন্তু।

ভদ্রলোক : না ঠিক আছে । আমি কেন বলতে যাবো। কিন্তু এটা খুব আজব রহস্য তুমি পাগল নয় কিন্তু পাগলের বেশে থাকো । এটা কেউ বুঝতে পারেন না এমনকি আমিও বুঝতে পারলাম না তুমি তো ভালই অ্যাক্টিং পারো।।
পাগলি মেয়েটি: বললাম না আমি খুব চালাক আমার অনেক বুদ্ধি। তবে আমার একটাই কষ্ট ..😢😢
ভদ্রলোক :কেন তোমার আবার কিসের কষ্ট ।তুমি একজন পাগল মানুষ সারাদিন ঘুরে বেড়াও সন্ধ্যেবেলা ফিরো । মানুষের বাড়িতে খাবার দাবার যা পাও তাই তো তুমি খেয়ে বেড়াও তাহলে তোমার এত কষ্ট কেন?

পাগলি মেভালবাসা আর বইলেন না জনাব যার জন্য পাগলামীটা করে বেড়ায়
শুধু সেই বুঝলো না । যার জন্য সারাজীবন পাগলামি করে আসতেছি অথচ সেই আমারে একটুও বুঝলো না। আমারে একটু কাছে আনতে চায় না। এত চেষ্টা করি বোঝানোর জন্য যে আমি পাগল শুধু তোর জন্য । হে তো আমারে বুঝেই না।

ভদ্রলোক: কে? কার কথা তুমি বলতেছ ?
পাগলি মেয়েটি: ওই যে আমাদের গ্রামের সুজনইনা।
ভদ্রলোক :ও এই ছেলেটি সেও তো আমার কাছে এসেছিল । ছেলেটার তো ভালোই প্রতিভা দেখলাম। কি সুন্দর বাঁশি বাজাতে পারে। সত্যিই মুগ্ধ হলাম ওর প্রতিভা দেখে আমি।

পাগল মেয়েটি: প্রতিভা না সাই। আমার দিকে নজর দেয় না ওর প্রতিভা লইয়া ও পরে থাক।
ভদ্রলোক:বাহ পাগলী হলেও কী.. ডুবে ডুবে জল খাচ্ছ..
আচ্ছা তো এখন একটা গান শোনাও তো তোমার কন্ঠে ঐদিন গান শুনে সত্যিই আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম ।আমি মনে হয় এর চেয়ে বড় প্রতিভা আর কখনই দেখিনি।
পাগল মেয়েটি একটা গান শুরু করলো।
উড়িয়া যায়রে সোনারপাখি রাইত নিশতীকালে,
পক্ষীর সনে আমার দেখা হবে আমার নিদান বেলা,
যা পাখি তুই … উড়িয়া ঘুরিয়া যা।
আমারে এক নজরে তুই একটু দেখিয়া যা।……

ভদ্রলোক: অসাধারণ গেয়েছো। সত্যি আজ যদি আমার কাছে নোবেল থাকতো তাহলে তোমাকে নোবেল দিতাম। জানি এটাও ওই গানের উপযুক্ত পুরস্কার নয়
পাগলী মেয়েটি আপনার হইছে এখন আমি যাই।
ভদ্রলোকঃ এই শোনো শোনো শোনো..
মেয়েটি আর দাঁড়ালো না চলে গেলো।

এতক্ষণ আপনারা একটি পাগলি মেয়ে ও একজন ভদ্রলোকের কথোপকথন শুনলেল। ভদ্রলোকটি শহর থেকে এসেছেন এই গ্রামে গ্রামের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য। অনেকদিন ধরে শহরে জীবনযাপন করতেছেন সেজন্য একটু আনন্দ করার জন্য একটু প্রকৃতিক দেখার জন্য এই গ্রামে আসা আর কি।
আর পাগলি মেয়ে টি এই গ্রামেরই একজন। ওর নাম হচ্ছে পুষ্প , পুষ্প রানী।

তার ছোট্ট একটা বাড়ি পাতা এবং সন দিয়ে সে বাড়িটি সে নিজেই তৈরি করেছে। একা মানুষ কেউ নেই। মেয়ে হয়ে জন্মেছে সেজন্য সে বুদ্ধি করেছে সে পাগলীর বেঁশে থাকে। কেননা সমাজে কত দুষ্টু লোক আছে তাদের চোখ থেকে বাঁচার জন্য সে পাগলী হয়ে থাকে । সে ভালো গান গাইতে পারে গান গেয়ে মানুষের মন উজার করে দিতে পারে।।
আর মানুষ মুগ্ধ হয়ে তাকে কিছু অর্থ দিয়ে থাকে।আর গ্রামে গ্রামে সে পাগলামি করে বেড়ায়।

তো যাই হোক যে ভদ্রলোকটি এসেছে ঢাকা থেকে এই বলাশপুর গামে। ভদ্রলোকটি একজন লেখক সে হয়তো কিছু লেখার জন্যই এই প্রকৃতির সাথে মিশতে এসেছে। তবে এখানে এসে পুরোটাই ভিন্ন হয়ে গিয়েছে এতটাই মুগ্ধ হয়েছে বলার বাহিরে।

যাক এবারে গল্পে আসা যাক ভদ্রলোকটি চেয়ারে বসেই ঘুমাচ্ছে। তারি কর্মচারী রহিম মিয়া এসে তাকে ডাকতেছে। ও স্যার ঘুমিয়ে গেলেন নাকি স্যার…
ভদ্রলোকটি: ও হ্যাঁ তুমি এসেছো। ভালোই হলো মনে মনে তোমাকে খুজতেছি। আচ্ছা এই গ্রামে ঐদিন যে ছেলেটা এসেছিল সুজন নামে ওরে আরেকবার ডাক দিয়া আনতে পারব।
রহিম মিয়া : অবশ্যই আনতে পারব। আপনি বসেন আমি যাচ্ছি এখনই।

একটু পরেই সুজন কে ডেকে আনা হলো স্যারের সামনে। সুজন ভদ্রলোককে সালাম করল এবং বলল তাতে কি জন্য ডাকা হল।
ভদ্রলোক :আসলে তোমার বাঁশির সুর শোনার জন্য মনটা অস্থিরতা করতেছে। একটু শোনা বা কি?
সুজন :স্যার অবশ্যই শোনাবো।
ভদ্রলোক :তুমি সুন্দর করে বাঁশি বাজাও আমি তোমার বাঁশি বাজানো টা পুরোটাই রেকর্ডিং করব। নাও শুরু করো এবার।
এই বলে সুজন তার বাঁশি বাজাতে আরম্ভ করলো কিন্তু কোনোভাবেই বাঁশিতে সুর তুলতে পারছে না।

ভদ্র লোকটি বলল কি হয়েছে? আজ তুমি বাঁশির সুর তুলতে পারছে না কেন।
সুজন :আসলে স্যার পুষ্প গান না ধরলে আমার বাঁশির সুর ওঠে না । এইটা কেমন জানি এটা আশ্চর্যের বিষয় হয়ে গেল। যখনই সে গান ধরে তখনই আমার বাঁশির সুর ওঠে। আর এমনে সারাদিন চেষ্টা করলেও আমার বাঁশির সুর ওঠে না। আজব একটা বিষয়।
ভদ্রলোক : হুম তাই তো । সত্যিই আজব করার মত। কিন্তু এরকমটা কেন হয় তা তুমি জানো কি!!
সুজন: না স্যার আমি কেমনে কমু ও গান না ধরলে আমার বাঁশির সুর ওঠে না কেন জানি না কেন এটা হয়।।
ভদ্রলোক: নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করতেছো।
সুজন: কি যা তা বলছেন জানাব।
যাক আমি যাচ্ছি আমার বাঁশির সুর ওঠলে পরে আমি এসে আপনাকে শুনিয়ে যাব।

এই বলে সুজন সেখান থেকে চলে যায়।
লোকটি মুচকি মুচকি হাসতেছেন। তেমন কিছু বলেননি।

চলবে..

গল্প:পাগলীর ভালবাসা
পর্ব: ১ম পর্ব
লেখক: SM Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here