গল্প : ভাবি যখন বউ পর্ব: ১৭তম

643

দুই দিন পরেই রাতুল আসলো রাকিবের বাড়ীতে। এসেই হইচয় করতে লাগলো…
রাতুল এসেছে কাজলের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য। আর তার ছেলেকে নিয়ে যেতে। যখনই এ কথা এসে বলল রাকিবের বাড়িতে যে রাতুল তার ছেলেকে নিয়ে যেতে এসেছে তখনই ঘর থেকে রাকিব এসে বলল এটা তোমার ছেলে কে বলেছে??

তখনই রাতুল অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর বলতে লাগলো কেন এটা আমার ছেলে এটাতে সন্দেহ কিসের রে ভাই তোর??
আমরা বিয়ে করেছি সংসার করেছি প্রায় দুই বছর হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে আমাদের সংসার সুখে শান্তিতে ভরপুর হয়ে গিয়েছিল আর এরই মধ্যে আমাদের একটি সন্তান হয়েছে তখনই তো আমি পাগল হয়ে যাই আর এই সন্তানই তো এখন গর্ভ ধারণ করেছে কাজলের পেট থেকে।

আমি সেই ছেলে নিতে এসেছি । আমি চাইনা কাজল কে নিতে ।কাজলকে তুই নিয়ে সংসার কর আমার কাজলের প্রতি কোন ইন্টারেস্ট নেই। আমাকে শুধু আমার ছেলে দে ফিরিয়ে দে ভাই আর আমি তোদের কাছে কিছু চাই না।

তখন রাকিব বলতে লাগল শোনো ভাই আমি তোমার এই কথার উত্তর দিতে পারব না।তুমি প্রশ্নের উত্তরটা কাজল থেকে সুন্দর ভাবে জেনে নাও…

তখনই রাতুল কাজলের ধারে গেল। কাজল এই কাজল এটা কি শুনতেছি তোমার কাছে আমি কি প্রশ্ন করবো আর কি শুনতে যাব বলো। আমি তো তোমার কাছ থেকে কোন কিছু শুনতে এসেছি না। আমি শুধু আমার সন্তানতাকে ফিরিয়ে নিতে এসেছি।

কাজল : শোনো রাতুল তোমার কি মনে নেই?? তুমি যে ডাক্তার দেখিয়েছিলে শহরে গিয়ে তোমার কেন সন্তান হয় না। ডাক্তার কি বলেছিল তোমার মনে নেই? তুমি হয়তো ভুলে গিয়েছো কিন্তু আমার মনে আছে তোমার যে সন্তান কখনো হবে না সেটাই তো বলেছিল ডাক্তার।। জানি তুমি এতে খুব কষ্ট পেয়েছো কিন্তু তুমি এটা থেকে হাল ছাড়লে না তুমি এটার পিছনে লেগে আছো ।।। কেন তোমার সন্তান হবে না , কেন তুমি সন্তান জন্ম দিতে পারবে না, এরপর এক এক চেষ্টা করেই যাচ্ছ করেই যাচ্ছ কিন্তু তোমার চেষ্টা কোনভাবেই সফল হচ্ছিল না।

বিভিন্ন কবিরাজ দরবেশ বিভিন্নজনের কাছে গিয়ে বিভিন্ন রকমের ঔষধ খেয়েছ। কিন্তু কোনভাবেই তোমার কোন কাজ হলোনা। অবশেষে আমি এ রাস্তাটাই বেছে নিলাম। অনেক ভুল করে ফেলেছি তোমার সাথে ।অনেক বড় অন্যায় করেছি
কি করবো বলো আমার বুকটা কি শুন্য রাখা যায়। আমারো তো ইচ্ছা আছে আমারও তো একটা প্রয়োজন আছে। এজন্যই আমি রাকিবের সাথে এই কাজটা করেছি।।

রাতুল কথাটা শোনার পরে আর কোনো উত্তর দিতে পারল না। মাথাটা কি আবার নষ্ট হয়ে যাবে কিছুই বুঝতেছে না বেচারা।।

মাথায় হাত দিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায় ।। মুখে একটি কথা বলেনি আর পিছন দিকে না তাকিয়ে একদম নিজ দিকে তাকিয়ে ওর বাড়ি থেকে চলে যায়। রাস্তার মাঝখানে পড়লো তার মায়ের সাথে দেখা তার মাকে রাস্তার মাঝখানে দাঁড় করিয়ে বললো..।
রাতুল :মা…. মা গো তুমি আমাকে কেন সুস্থ করেছ?? এইসবই দেখার জন্য কি? আমাকে কেন তুমি মেরে ফেলো নি। আমি যে আর এই দৃশ্যটা নিতে পারতেছি না মা। আমার জন্য কিছু একটা করো মা। না হয়তো আমাকে একটু বিষ এনে দাও, না হয় আমাকে গলা টিপে মেরে দাও।

মা : কাঁদিস না রে বাবা।। হয়তো কপালে এটাই লেখা আছে ।না হয়তো এরকম হচ্ছে কেন। আমি কিছুই বুঝতেছিনা কিভাবে এটা হয়ে গেল ।আমি কি এতোটাই বোকা যে আমার নিজের চোখের সামনে এটা হতে পারল। নিজেকে তো দোষী ভাবা দরকার। পরিবারের একজন প্রধান কর্তা আমি আমি পরিবারের মুরুব্বী অথচ আমি এই বিষয়টা লক্ষ্য করলাম না।। নিজেকে আমার কাছে অনেক ছোট মনে হচ্ছে রে বাবা।।

চলবে….
সাথে থাকুন ধন্যবাদ

গল্প : ভাবি যখন বউ
পর্ব: ১৭তম পর্ব
লেখক : S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here