গল্প : ভাবি যখন বউ (পর্ব: ১৪ তম)

744

পাবনা হসপিটাল থেকে রাতুল সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল। রাতুল বাড়িতে এসে এ সবকিছুই দেখে রাতুলের মাথাটা পুরোটাই গরম হয়ে গেল। নিজের চোখের সামনে এমনটা দেখবে সে কখনোই ভাবেনি। এখন ওর কাছে মনে হচ্ছে পাগল ছিলাম ভালো ছিলাম কেন ভালো হতে গেলাম।

রাতুল তার মাকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো
রাতুল: মা এসব কি এসব দেখার জন্য কি তুমি আমাকে ভালো করে এনেছো বাড়িতে?পাগল ছিলাম তাতেই তো ভালো ছিলাম।

মা: বাবা শোন তুই এতটা উত্তেজিত হইস় না। একটু মাথাটা ঠান্ডা কর রে বাবা।
রাতুল: আর মাথা ঠান্ডা করলে কি হবে? পাগল হওয়ার বাকি কি রেখেছো তোমরা? আমার এবাড়িতে কিচ্ছু নেই আমি আবার চলে যাব পাবনায়, না হয় ওই বাজারে চলে যাবো । আর যেখানে ছিলাম সেখানেই তো ভালো ছিলাম।।

শুধু শুধু তোমরা আমাকে এই দৃশ্যটা দেখার জন্য কি এনেছিলে? এখন বুঝতে পারছি তোমরা আমার কেউই আপন নয়
তুমি আমার মা হয়ে আমার সাথে এই কাজটা করতে পারলে ?? ভাইয়ের কথা তো বাদই দিলাম। আমার যে আজ ভাবতে অবাক লাগতেছে।।

মা: রাতুল তুই শোন একটু ঠান্ডা হও। আসলে যেটা ঘটেছে সেটার জন্য আমি বা কেউই দায়ী না আসলে এটা একটা এক্সিডেন্ট। এমনটা যদি আমাদের পরিকল্পনা করার থাকতো তাহলে তোকে তো আমাদের সুস্থ করে আনা দরকার ছিল না। তুই একবার চিন্তা কর জিনিসটা রে বাবা। তুই ছিলি না যখন তখন আমাদের জীবনটা অনেক কষ্টে গিয়েছিল রে বাবা।

আমরা তো এটা কখনই চাইনি রে বাবা তাহলে শোন তোর কাজলকে তারা অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে চেয়েছিল তকে না পেয়ে। তারপর আমরা কোনো উপায় না পেয়ে রাকিবকে দিয়ে কাজলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি । না হয় তারা কাজলকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিত। কাজলের পেটে তোর সন্তান ছিল তখন তখন ঐ সন্তানের কি হতো। আমরা তর ভালোর চিন্তা করেই রাকিবকে কাজলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি।

শোন বাবা এটা করাতে যদি আমাদের কোনো অন্যায় হয়ে থাকে তাহলে তুই আমাদের ক্ষমা করে দে। তোর মা হয়ে তোর কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাচ্ছি ।

রাতুল কান্না করছে আর বলতে থাকে এ কি মা কি করছো ?? তুমি আমার কাছে থেকে ক্ষমা চাচ্ছ কেন। প্রতিটি মায়েরা যেটা করে সেটা সন্তানের জন্য ভালোই করে ।। আর আমি বুঝি নি যে তোমরা আমার ভালো করেছো সেজন্য আমি আমার কাছে ক্ষমা চাই।। উঠো তাড়াতাড়ি ওখান থেকে।।

মা একটু মুচকি হাসি দিয়ে বলতে লাগলো ঘরে চল বাবা ঘরে চল।

রাতুল : মা আমি ওই ঘরটায় কেমন করে যাই বলো? যেখানে আমার বউ ছিল কাজল সেখানে আজ আর আমার বউ নেই আমার ছোট ভাইয়ের বউ হয়ে গিয়েছে তাহলে আমি কেমন করে ঘরে থাকি বলো ?? সেজন্য আমি ঠিক করেছি একটু দূরে চলে যাব ।আমি একটু দূরে চলে গিয়ে একটা ঘর করবো একটা সংসার করবো একটু শান্তিতে থাকতে চাই মা ।

এই ক্ষানে থাকলে যে আমি আবার পাগল হয়ে যাবো তুমি আমার বিষয়টা বুঝতে পারতেছো মা । যদি বুঝতে পারো তাহলে আমাকে আমার মত থাকতে দাও আমি জানি তোমরা আমার জন্য ভালো করেছো অনেক করেছে ।। আমি যে তোমাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ আমার সন্তানকে তোমরা বাঁচিয়েছো।।

মা :তাহলে তুই কোথায় থাকবি??
রাতুল আমাদের বাজারে জায়গাটা আছে যে আমি ওখানে একটা বাড়ি করবো কি বলো মা । সেখানে আমি একটা সুন্দর করে সংসার করবো ।। আমার ছেলেটা বড় হলে আমি তাকে ওখানে নিয়ে যাব আমার সাথে।।

মা: ঠিক আছে বাবা তাহলে তুই তাই কর।
ঘর তুলতে যত টাকা পয়সা লাগে আমার কাছ থেকে নে ।।

এই বলে রাতুল ওই ঘরে আর যায় নি সে চলে যায় বাজারে এবং বাজারে গিয়ে সে একটি নতুনভাবে ঘর তৈরি করে। এবং সেখানে সে জীবন যাপন করতে থাকে।
এদিকে রাতুলের ছোটভাই আবিরের সংসারের যাতে কোনো প্রভাব না ফেলে
সেজন্যই রাতুল দূরে চলে যায় তাদের থেকে।

একদিকে রাকিবের সংসারটাকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিল অন্যদিকে রাতুল কষ্টটা থেকে মুক্তি পেওয়ার জন্য একটু দূরে চলে গেল।।

এভাবে কিছুদিন চলতে থাকে। একদিন কাজল ঠিক করলো রাতুলকে দেখতে যা়বে রাতুলের বাড়িতে । অনেকদিন একসাথে ছিল অনেক কথাবার্তায় হয়েছিল তাদের মধ্যে সেগুলো খুব মনে করতেছে কাজল । তাই আজ রাতুলকে দেখতে খুব মন চাচ্ছে।

সেজন্যই কাজল রাকিবের কাছ থেকে অনুমতি নিতে ভয় পায়।। মনে মনে ভাবলো যদি তাকে সন্দেহ করে কিংবা যদি অনুমতি না দেয়। তখন তো আরো খারাপ হয়ে যাবে।। সেজন্যেই কাজল চুপিচুপি যায় রাতুলদের বাসায়।।

রাতুল তাকে দেখতে পেয়ে খুব খুশি হয়ে যায় আর বলতে লাগল কাজল তুমি আমার সাথে এরকম টা করতে পারলে?? তুমি আমার সাথে এতদিন পার করেছ আমাকে কি তুমি একটু ভালোবাসা নি। আমার কথা তুমি এত সহজে ভুলে যেতে পারো। আমার একটি মানসিক সমস্যা হয়েছিল বলে কি তুমি অন্যজনের ঘরে চলে যাবা। আমাকে তুমি সত্যি ঠকিয়েছো।

কাজল চুপ করে আছে…কিছু বলছে না।।

চলবে….
সাথে থাকুন ধন্যবাদ

গল্প : ভাবি যখন বউ
পর্ব: ১৪তম পর্ব
লেখক : S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here