গল্প : ভাবি যখন বউ (পর্ব: ১৩তম )

860

রাকিবের ওই রাতে আর ঘুম হলো না। কাজল যেন তার চোখ খুলে দিয়েছে আজ। সে তার ভাইকে প্রচন্ড ভালোবাসতো কিন্ত কাজলের ভালোবাসা চাপে পড়ে সে তার ভাইকে ভুলে যায়।
তার ভাই পাগল হয়ে যায় বটে কিন্তু কেন হয়েছে আধৌ কি তার চিকিৎসা দরকার। এসব না করে সে কোন খবরই রাকিব রাখে নি।।

বরংচ বেইমানের মতো নিজের বড় ভাইয়ের বউটাকেই সে বিয়ে করে বসে আছে । রাকিব নিজেকে ক্ষমা করতে পারতেছে না সকাল হতেই সে দ্রুত বেরিয়ে পড়ে তার ভাইয়ের খুঁজে তার ভাই কোথায় আছে ?? কে জানে?

অনেক খোঁজাখুঁজির পরে তার ভাইকে মানে রাতুলকে খুঁজে পাওয়া গেল এক বাজারে। খুঁজে পাওয়া গেল রাতুলকে কিন্তু আগের অবস্থায় নয় একটা রাস্তার পাগলের মতো অবস্থায়।।

রাস্তায় ফুটপাতে যে পাগল গুলো দেখা যায় ঠিক ওই রকমই দেখা যাচ্ছিল রাতুলকে। কি বিশ্রী কি ভয়ঙ্কর চেহারা হয়েছে। দেখে একবারে চেনাই যাচ্ছে না।

তখন দৌড়ে গিয়ে রাকিব বলতে লাগল তার ভাইয়াকে:
রাকিব : ভাইয়া তোমার এই অবস্থা হলো কি করে।
রাতুল : তুই এসেছিস ?? আয় আয় ভাই থাকবি আমার সাথে আমার যে খুব একা একা লাগে।।
রাকিব ; ভাইয়া তুমি এখানে কি করে এলে??
রাতুল : কি জানি কেমন করে এলাম?

রাকিব বুঝতে পারছে রাতুলের মাথা ঠিক নাই সে এখন উল্টা-পাল্টা বলছে ।সে জন্যই আর কোনো রকমের প্রশ্ন না করে দ্রুত বাড়িতে নিয়ে গেল।। বাড়িতে যাওয়ার পরে সবাই রাতুলকে দেখল কিন্তু কেউই রাতুলকে চিনতে পারল না। যখনই রাকিব বলল যে এটাই রাতুল ভাইয়া তখনই সবাই বলতে লাগল কি করে এটা হল এমনটা কি করে হলো।তখন এর কোনো উত্তর পাওয়া গেল।।

রাতুলের চিকিৎসা করার জন্য রাকিব অস্থিরতা করতেছে।। রাকিব রাতুলকে নিয়ে পাবনা হসপিটালে চলে যায় সেখানে তার চিকিৎসা করার জন্য।।
রাতুলকে পাবনা হসপিটালে রাখা হয়।
ছয় মাসের জন্য ভর্তি করে রেখে আসা হয়।

তখন বাড়িতে আসে রাকিব। কাজলকে বলতেছে এবার তো সব ঠিক আছে তুমি খুশি। কাজাল বলল হ্যাঁ এখন আমি খুশি। আমার মনে হয় ভাইয়া দ্রুত সুস্থ হয়ে আসবে।

( আসলে রাতুলের শেয়ার মার্কেটের ব্যবসায় লস হওয়াতে তার মাথায় একটু সমস্যা হয়ে গিয়েছিল । সেই জন্যই সে ঘর থেকে বাইরে চলে যায় পাগলের মতো অবস্থায় অনেকদিন থাকার জন্যই সে আজ এরকম। কিন্তু তাকে যদি ঠিকমতো একটু যত্ন করা হতো তাহলে কিন্তু এরকমটা হতো না ।যত্ন না করার জন্যই রাতুলের পাগলামিটা আরো বেশি বেড়ে যায়।।

এখন রাকিব ও কাজল খুব সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে থাকে । তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো সংসারটাকে গুছিয়ে নেয়।কাজলের ছেলে সন্তান হয়। কিন্তু সমাজের চোখে ছেলেটা কিন্তু রাতুলের কিন্তু রাকিব আর কাজল জানে এই ছেলেটা রাকিবের ই। থাক ওসব কথা আর ওরা বাইরে বের করল না এটা গোপন গোপনই থাকলো।।

তাদের ছেলেকে তারা সুন্দর ভাবে লালন পালন করতেছে। খুব সুন্দর ভাবে হাসিখুশিভাবে পরিবারটা রাকিব ম্যানেজ করে নিয়েছিল।। রাকিবের ব্যবসা দাঁড় করিয়েছে সে এখন ভালই ইনকাম করতে পারতেছে। অবশেষ খুশি করতে পারতেছে সবাইকে। আর তার অফুরন্ত ভালোবাসা সে কাজলকে দিতে পারতেছে।রাকিবের সব আশা ভরসা আজ পূর্ণ হয়েছে কাজলকে পেয়ে। সেই স্কুল লাইফ থেকে কাজল কে বিয়ে করবে বিয়ে করবে এই সাধনা নিয়ে সে এতদূর এসে ছিল আজ সে সফল হয়েছে কাজলকে বিয়ে করে। এবং তার সাথে সংসার করে তারা সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারতেছে।

যেটা সে আগেই করতে পারতো কিন্তু দুঃখের বিষয় তার বড় ভাই রাতুল সমস্যাটা পাকিয়েছে দিয়েছিল। যদি বড় ভাই বিয়ে না করতো কাজলকে তাহলে হয়তো তাঁর বিয়েটা আগেই রাকিব করে ফেলত।। পরে আর ভাবিকে বিয়ে করতে হতোনা রাকিবের।।

তারা খুব সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই একটা গন্ডগোল দেখা দিল তাদের পরিবারে।।

পাবনা হসপিটাল থেকে রাতুল সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল…

চলবে….
সাথে থাকুন ধন্যবাদ

গল্প : ভাবি যখন বউ
পর্ব: ১৩তম পর্ব
লেখক : S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here