গল্প : ভাবি যখন বউ (১০ম পর্ব)

839

কিন্তু বেচারা রাকিব কি করবে কাজল তো তার নিজের বিয়ে করা বউ না যে তার কথায় সব হবে।। সবকিছু দূরে ঠেলে দিয়ে কাজলকে তার ভাইয়া নিয়ে যায়।

তবে যাইহোক কিছুদিনের জন্য নিয়ে যাচ্ছে আবার বাচ্চার হলে ফিরিয়ে দিয়ে যাবে। কিন্তু রাকিব একদম এটা মানতে চায় না।।

তার না মানার কারণ কি??
হয়তো কেউ জানে না??
শুধু রাকিব আর কাজলি জানে!!

অবশেষে কাজলকে নিয়ে গেল এদিকে রাকিব মন ভাঙার মত পড়ে আছে রুমে।
বেচারা এখন কার সাথে সময় পার করবে কার সাথে মজা করবে। সে তো কিছুই বুঝতেছে না। হতভাগার মত পড়ে আছে।।

দিন যাচ্ছে কিছুই ভালো লাগতেছে না ।শুধু সব সময় কাজলের কথা মনে পড়ছে।।

তখনই বিষয়টা রাকিবের মায়ের চোখে বাজলো । রাকিবের মার মনে হল ছেলেটাকে এখন বিয়ে করাতে হবে না হয় ছেলেটা ঠিক হবে না।।

তাই রাকিবের মা রাকিবের জন্য একটা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রেডি করে দিল।।।
যাতে করে সে বেকার না থেকে কিছু একটা করে উপার্জন করতে পারে।।

রাকিব মনে মনে খুশি হয়ে সেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে পড়ে।
আর ভাবতেছে সে যদি আমি ব্যবসা করে টাকা পয়সা রোজগার করতে পারে তাহলে অবশ্যই ভাবিকে বাড়িতে নিয়ে আসবে ।। টাকা পয়সা উপার্জন করতে পারলেই তো তার ভাবির সকল চা’হিদা পূরণ করতে পারবে।

দিন যাচ্ছে রাকিব ও টাকা পয়সা রোজগার করতে পারছে ।
রাকিবের মা রাকিব এর জন্য পাত্রী দেখতে শুরু করলো। রাকিব এর জন্য একটি পাত্রী পছন্দ করা হলো।।

যখনই এই কথা রাকিবকে জানানো হয় তখনই রাকিব রেগেমেগে যায়।।
কেননা তাকে না বলেই এই বিয়ের কথা শুরু করে দিয়েছ কেন।
তার বিয়েতে কি কোন মত আছে নাকি সেই বিষয়টা কেন জানানো হলো না।।

রাকিব বাসায় এসে রেগে রেগে আগুন হয়ে আছে কেননা তার বিয়ে হচ্ছে অথচ তাকে যে জানানোর প্রয়োজন মনে করল না ।। কিন্তু কেন ??

রাকিবের মা বলল ; কিরে বাবা তোর কি কোথাও পছন্দ আছে?? পছন্দ থাকলে বল আমাদের আমরা সেটাই দেখব!!

রাকিব: না মা। আমার পছন্দ করা নেই। কিন্তু আমি এখন বিয়ে করতে পারছি না।
আমি আরো পরে বিয়ে করব এখন আপাতত বিয়ের কথাবার্তা বাদ দিয়ে দাও

রাকিবের মা : কিরে বাবা তোর কি হয়েছে? কেন তুই বিয়ে করতে যাচ্ছিস না? তুই যদি বিয়ে না করিস তাহলে আমি আর এই ঘরের আর ভাত খাব না ।। তোকে এই এক মাসের মধ্যে বিয়ে করতে হবে না হয় আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাব।।

তখন রাকিব পড়ে গেল মহাবিপদে কেননা সে তো বিয়ে করতে চায় না।। সেতো কাজলকে ভালোবাসে মানে তার ভাবিকে । সে তো ভালোবাসে।। তার ভাবির পেটে বাচ্চার পিতা তো সেই।। কি করে কাজলকে এতটা কষ্ট দিতে পারে সে।। অন্যদিকে তার ভাই রাতুল সে তো আধা পাগল হয়ে গিয়েছে।।কোথায় থাকে কি করে কাউকে কোন কিছু বলেনা।। বাড়িতে ও বেশি আসে না।

কিন্তু রাকিবের মা যে কথা বলল বিয়ের ব্যাপারে তা শুনে রাকিব চমকে গেলো সে এখন কি করবে তার মায়ের কথা রাখবে নাকি কাজলের কথা রাখবে।।

আসলে তার মায়ের ইচ্ছে এই তার ছেলের দুঃখ-কষ্ট দূর করবে কিন্তু তার মা তো এত সত জানে না।। রাকিবের মা ভেবেছে হয়তো ছেলেটাকে বিয়ে করালে ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে।। সেজন্যই ছেলের সুখের জন্য এমন একটা আবদার করে বসলো।।

আর ওই দিকে রাকিবের কাছে কতটুকু ভয়ংকর সেটা তো রাকিবের মা বুঝতে পারেনি।। আর এই কথাটা তো কখনোই বলা যাবে না উনাকে ।

এদিকে রাকিবের মা রাকিবের জন্য পাত্রী পছন্দ করে ফেলেছে।।
এখন শুধুমাত্র বাকি রয়েছে রাকিবের সাথে দেখা করিয়ে দেওয়াটা।। রাকিব যদি মেয়েটাকে পছন্দ করে তাহলেই বিয়েটা সম্পন্ন হয়ে যাবে।।

রাকিবকে বলা হয়েছে মেয়েটাকে দেখে আসার জন্য কিন্তু সে যাচ্ছে না।। আবারো রাকিবের মা রাকিবকে ওই দোহাই দিয়ে বলতেছে যে তুই না গেলে আমি মরে যাব আমার মরা মুখ দেখবি তুই যদি বিয়ে না করিস এখন।।

বেচারা রাকিব কি করবে অসহায়ের মতো কোনো উপায় না পেয়ে মেয়ে দেখতে গেলা।। মেয়ে দেখে এসে হাজির হলো এবং তার মাকে বললো মেয়ে পছন্দ হয়েছে।।

ওইদিকে কাজলের প্রসবের দিন ঘনিয়ে আসছে।। রাকিবের যে বিয়ে করতেছে তাকে জানানোই হলো না।। এব্যাপারে কাজল কিছু লেখেন না।

এদিকে বিয়ের সব রকমের আয়োজন করা হচ্ছে।। রাকিব এ বিয়েতে একদমই রাজি নয়।। তার মায়ের অনুরোধে সেই বিয়েটা করতে যাচ্ছে।।

রাকিবের বিয়ে হয়ে গেলে কাজলের কপালে আসবে দুঃখ কষ্টের বন্যা।। যদিও রাকিব আর কাজল বিয়ে না করে থাকে তারা কিন্তু অ’বৈধভাবে বিয়ে করে নিয়েছে।। শুধুমাত্র আকাশ বাতাস সাক্ষী রেখে তারা বিয়েটা করেছিল ।।

কাজলের পেটে বাচ্চা এবং এই বাচ্চাটি আসবে আর কিছুদিন পরেই এই দুনিয়াতে । এই দুনিয়ার মুখ দেখবে কিন্তু বাচ্চাটি তার বাবার মুখ দেখতে পারবে না। কাকে সে বাবা বলে ডাকবে??

আজকের প্রশ্ন : রাকিবের বিয়ে করাটা কি ঠিক হচ্ছে???

চলবে….
সাথে থাকুন ধন্যবাদ

গল্প : ভাবি যখন বউ
পর্ব:১০ম পর্ব

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here