গল্প : ভাবি যখন বউ (৯ম পর্ব)

1223

রাকিব কাজলের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে কিন্তু কাজল রাকিবের খুব কাছে আসার চেষ্টা করে ।।
কাজল রাকিবের কাছে কি চায় ???
আসলে বলা খুব মুসকিল।।

এভাবে চলতে থাকে কিছুদিন।। রাতুল ঠিকমতো বাসায় আসে না।। কোথায় থাকে কি করে কাউকে কিছু জানায় না।।

আর ওদিকে কাজল পাগলীর মতো যা মন চায় তাই করে রাকিবের সঙ্গে।
রাকিব শতবার জন্য থাকার চেষ্টা করে কাজল থেকে দূরে থাকার কিন্তু সে থাকতেই পারে না কাজলের কাছে তার বারবার আসতেই হয়।।

এরকম ভাবে চলতে থাকে কিছুদিন।। ঠিক কিছুদিন যাওয়ার পরেই কাজলের পেটে বাচ্চার সংবাদ পাওয়া যায়।। কি অবাক কান্ড তাই না।। অবাক হবার কিছু নেই যা কপালে লেখা আছে তাই হবে ।।

খবরটা ছড়িয়ে পড়ে সবার কাছে । সবাই তো খুশিতে আত্মহারা। কাজলের বাপের বাড়িতে খবরটা পৌঁছানো হয় ওরা শুনে খুব আনন্দিত হয় কেননা অনেকদিন হয়ে গেল কোনো বাচ্চার খবর পাওয়া যাচ্ছে না সেজন্যই সবাই একটু বেশি আনন্দিত।।

কিন্তু এই বাচ্চাটা কার ?? কি করে আসলো কাজলের পেটে?? সে নিয়ে কারো কোনো চিন্তাই নেই।। ওদিকে রাতুল বাসায় নেই অনেকদিন ধরে তাহলে এবার কাজলকে প্রেগন্যান্ট করল কে ।

এ নিয়ে কারো কোন টেনশন নেই সবাই হাসিমুখে কাজলকে সমাধর করতেছে।। আসলে এই বাচ্চাটা কাজলের পেটে আসলো সাকিবের দ্বারা রাকিবের সাথে সে আনন্দ ফুর্তি করতে গিয়ে কখন যে এই অবস্থা হলো তারা কেউই বুঝতে পারল না।।

আর হবেই না কেন অবিবাহিত এক যুবকের সঙ্গে যদি এক বিবাহিতা মহিলা থাকে তাহলে তো যুবক তার থেকে কিছু চাবেই। আর কিভাবে যে এটা হয়ে গেল সেটা তো রাকিব ও তো বুঝতে পারেনি। তবে কাজল কি বুঝতে পেরেছিল সে কি ইচ্ছা করেই করেছে ? নাকি মনের অজান্তে।। সেটাই এখন প্রশ্ন ।।।

নাকি দুজনের মনের অজান্তেই এটা হয়ে গেল।। কিন্তু এটা তো ঠিক না।। এটা সবাই মানতে পারলেও উপরওয়ালা হয়তো মানতে পারবে না।।

এদিকে রাকিবের কাছে সম্পর্কটা আরো গভীর হতে থাকে ।। দুজনের সারাক্ষণই দুষ্টমি করে। ওরা সারাক্ষণ হাসি তামাশা আনন্দ উল্লাস ও নানান কিছু করে থাকে।
ওরা এখন প্রায় খুব কাছাকাছি চলে এসেছে এবং ওরা খুব কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে ।।

আর রাতুল মাঝে মাঝে আসে বাসায় এসে সব কিছু ওলট পালট করে ভেঙে ফেলে এবং কাজের উপর অত্যাচার করে। ও কাজলকে প্রচুর মারধর করতে থাকে।

মারধর করে বাসায় থেকে চলে যায় ওই যেখানে মন চায় সেখানেই চলে যায়।।

কাজল কে যখন মারধর করে তখন কিন্তু রাকিবের একদম ভাল লাগে না। তার বড় ভাই বলে কথা, না হয় সে তার বড় ভাইয়ের উপর হাত তুলতে দ্বিধা করত না।

সে জন্যই সে কিছু বলতে পারে না শুধু চুপচাপ সহ্য করে যেতে হয়।।

এদিকে কাজলের প্রেগনেন্সির দুই মাস হয়ে গেলো। কাজলকে ভালো করে দেখাশোনা করা হচ্ছে না কেননা রাতুল তো তার কোনো খবর নিচ্ছে না ।।

এদিকে রাকিব বেচারা কোন বেতন নেই চাকরি নেই বেকার মানুষ সেজন্য কাজলকে ভালো করে দেখাশোনা করতে পারতাছে না।।

কাজলের বাপের বাড়ি থেকে কাজলকে নিতে আসে। কেননা এখন যে সময়টা এ সময়ে কাজলকে ভালো যত্ন করা উচিত ।কিন্তু হচ্ছে না সেজন্য তাকে তার বাপের বাড়ি নিয়ে যেতে আসছে ওর ভাইয়া।
কিন্তু রাকিব কিছুতেই যেতে দিচ্ছে না।।

কেননা রাকিব ওকে ছেড়ে বাঁচতে পারবে না । একটি দিনও কাটাতে পারবে না ওকে ছাড়া।

আর বেচারা কাজল ও কান্নাকাটি করতেছে সেও যেতে চায় না। কিন্তু কি করবে তার পেটে বাচ্চা
তার দিকে তাকিয়ে হয়তো তার এই কাজটা করতে হবে।।

রাকিব কাজলকে কিছুতেই যেতে দিচ্ছে না। রাকিব বলতেছে দরকার হয় আমি কাজ করে টাকা জোগাড় করে আমার আমার ভাবীকে আমার বাড়িতে রাখবো তবুও সে তাকে যেতে দেবে না।

তখন কাজলের ভাই বলল আরে ভাই তুমি কেন কাজ করতে যাবে ।।
কাজলের এখন প্রেগনেন্সির সময় ওকে ভালো খাবার দাবার, ভালো যত্ন করতে হবে ।য়সেজন্য ওকে আমাদের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি ।। ওর যখন ডেলিভারি হয়ে যাবে তখন ওকে আবার এখানে দিয়ে যাব।।

আর ঐদিকে তো রাতুল ভাইয়ের তো কোন খবরই পাওয়া যাচ্ছে না সেজন্যই ওকে নিয়ে যাই তারপরে দিয়ে যাব।

কিন্তু এই সহজ কথাটা রাকিব কিছুতেই মানতে পারতেছে না ।কেননা রাকিবের একটি মুহূর্ত একটু সময়ও কাটে না।। কাজলকে ছাড়া মানে তার ভাবিকে ছাড়া।।

চলবে…

গল্প : ভাবি যখন বউ
পর্ব:৯ম পর্ব
লেখক : S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here