গল্প : ভাবি যখন বউ পর্ব: ৬ষ্ঠ পর্ব

854

হঠাৎ করেই কাজল রাকিবকে বলে বসল::
কাজল: কিরে তুই এখনো কি আমায় ভালোবাসিস??

রাকিব: চুপ করে রয়েছে । কিছু বলছে না । মনটাকে স্থির করে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। আর জোরে একটা নিঃশ্বাস ফেলছে।।

কাজল : কিরে তুই কিছু বলছিস না যে?? ভালবাসিস এখনো আমায় ?? পাগলামি করিস এখন আগের মত??

রাকিব : দূর তোকে ভালোবাসার এখন সময় আছে আমার।। তোর সাথে তো আমি মজা করেছিলাম।। আর তুই সেটাকে কি ভালোবাসা মনে করে নিয়েছিস রে ।। পাগলি একটা!!

কাজল : তাহলে কেন তুই এক মাস নিজের বাড়িতে আসিস নি ??কেন তুই বাইরে ছিলে??

রাকিব : বললাম তো আমার একটা দরকার ছিল সেজন্য আমি একটু বাইরে ছিলাম। এখন দরকার শেষ তাই ফিরে এসেছি।

আর শোন তোকে যদি আমি ভালবাসতাম তাহলে কি আমার ভাইয়ের সাথে তোর বিয়ে হতে দিতাম। তোকে তো আমি উঠিয়ে নিয়ে আসতাম।

সেজন্য আসেনি কারণ আমি তোকে ভালোবাসি নি । তোকে আমি একটা ভালো বন্ধু হিসেবে দেখেছি ।তুই আমার বন্ধু ছিলি এখন বুঝেছিস??

কাজল : ও আচ্ছা । তাহলে তোর পাগলামিতে এখন ঠিক হয়েছে । যাক বাবা বেঁচে গেলাম তাহলে ।

রাকিব কথাটা একদমই মন থেকে বলে নি। তাকে জোর করে বলতে হয়েছে। কেননা এখন যদি সে কাজলকে ভালোবাসার অধিকার খাটায় তাহলে যে তার ভাইয়া কষ্ট পাবে। তার ভাইয়ের মনটা যে ভেঙ্গে যাবে।

সেজন্য সে আর তার ভালোবাসার অধিকার টুকু খাঠায়নি । কাজলকে তাই সে বলে দিয়েছে যে কাজলকে সে আদো কখনো ভালোবাসিনি। শুধুমাত্র অভিনয় করেছে ।।

কিন্তু এই অবলা রাকিব বেচারা সত্যিই আজ কষ্টে আছে তার বুকটা চিরে কাউকে দেখাতে পারতেছে না তার বুকের যন্ত্রণাটা। কেউ দেখতেও তো যাচ্ছে না তার বুকের যন্ত্রণাটা।।

যাক এখন ঐসব যন্ত্রণা কথা ভুলে গিয়ে রাকিবকে একটি সুন্দরভাবে জীবন গড়ে তুলতে হবে ।। কেননা এখন যদি ওই পাগলামি করে যায় তাহলে তাদের পরিবার একটি ক্ষতিকর ইফেক্ট পড়ে যাবে।।

সেজন্য রাকিব এখন মনস্থির করে নিয়েছে । যে আর ওই রকমের পাগলামি সে করবে না। এখন শুধুমাত্র এইটাই কাজল তার একমাত্র ভাবি বা বড় ভাইয়ের বউ।।

তারা হাশিখুশি মুখেই বাড়িতে আসে। বাড়িতে এসেই মা বলতে লাগলেন

মা: কিরে তোরা একদিনেই এত পরিচিত হয়ে গেলি । মনে হচ্ছে তরা জনম জনমের পরিচিত।

রাকিব: মা তুমি যে কি বল ভাবি কিন্তু দেখতে যে রকমই হোক না কেন তার মনটা কিন্তু অনেক মায়াবতী। দেখনা এক দেখাতেই আমাকে কেমন আপন করে নিয়েছে সত্যিই অনেক ভালো।

আর আমার ভাই তো অনেক গর্বিত এরকম একটা বউ পেয়ে । এমনিতে আমার ও অনেক গর্বিত এরকম একটা ভাবি পেয়ে । সত্যি আমারা খুব লাকি।।

কাজল : ওকে ওকে হয়েছে হয়েছে অনেক বেশি বলে ফেলেছো । আর বলতে হবেনা এবার থামো তো।

মা : ওকে তোরা ফ্রেশ হয়ে আয় আমরা একসাথে খাবো আমি খাবার রেডি করতেছি তাড়াতাড়ি আয়।।
রাকিব :ঠিক আছে মা যাও আসতেছি।।

এই বলে মা চলে গেলেন রান্নাঘরে খাবার রেডি করতে ।। আর এদিকে রাকিব রাকিবের রুমে যাচ্ছে ফ্রেশ হতে।। আর ওইদিকে কাজল তার রুমে যাচ্ছে না।।
যাচ্ছে রাকিবের সাথে রাকিবের রুমে।

তখন রাকিব বলতে লাগল তুমি আমার রুমে আসতেছিস কেন ?? তর রুমে যা..

কাজল: আমি তোর রুমে যাবো এখন।

রাকিব : পাগলামি করিস না রে ।।
তুই এখন এইবাড়ির একটা বউ। যদি কেউ দেখে ফেলে না তাহলে খুব খারাপ হবে । নানান কিছু ভাবতে থাকবে। এখন যা তোর রুমে যা।।

কাজল : বললাম তো যাব না । আমার একা একা ভালো লাগে না । তোর সাথে আড্ডা দেবো এখন ।
রাকিব: এখন যা তো পরে আড্ডা দিবি। এখন আমি আমার রুমে একটু কাজ করব তারপরে আসিস । মার সাথে রান্নাবান্না রেডি কর গিয়ে..

এই বলে কাজলের পাগলামি টা কিছুটা থামাল । কিন্তু কাজল এমনই সে হঠাৎ করেই এই ধরনের পাগলামী করে বসে থাকে।।

এগুলা কিন্তু মানুষের চোখে খারাপ দেখায় মানুষ নানান কিছু ভাবতে থাকে। আর থাকবেই না কেন দেবরের সাথে যদি এত মধুর সম্পর্ক হয় । তাহলে তো সবার চোখেই জিনিসটা বাজবে।। সেজন্যই রাকিব একটু দূরে দূরে থাকার চেষ্টা করে।

দিন যাচ্ছে এভাবে একদিন সকালবেলা এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো।।
রাতুল খুব রেগেমেগে আছে এমন সময় কাজল গিয়ে কি একটা উল্টাপাল্টা বলে ফেলেছিল। তখনই কাজলকে ইচ্ছামত মারধর করে।

রুমে বন্ধ করে মারে এত পরিমাণে মারে যে কাজল জোরে জোরে চিৎকার করে কিন্তু কোন ভাবেই বাঁচতে পারেন নি।

আর অন্য রুমে ছিল রাকিব। রাকিব তখন সেটা দেখছিল এবং শুনছিল।। কিন্তু কোন সামর্থ ছিল না কেননা ভাই তার বউকে মারতেছে সেখানে তার কোনো অধিকার নেই ফেরানোর ।। সেটা তাদের পারিবারিক ব্যাপার। সেজন্য সে এগোতে পারেনি । কিন্তু খুব কষ্ট পেয়েছে রুমে বসে সেও অনেক কান্না করতেছে।।

সে যে এক অবলা ছেলে যে কিনা কাজলকে পাগলের মত ভালবাসে ।কাজলকে খুশি রাখার জন্য যা মন চায় তাই করতো । আর সে যদি কখনও কাজলের চোখে পানি দেখতো তাহলে সে তার নিজের চোখে পানি ধরে রাখতে পারতো না ।। অথচ তারই চোখের সামনে কাজলকে প্রচুর পরিমাণে মার খেতে হচ্ছে তার বড় ভাইয়ের হাতে সেটা কিভাবে দেখছে সে??

সে রুমে কাজলের চিৎকার শুনতে পাচ্ছে আর সে নিজে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে!! নিজের হাত কাটতেছে ব্লে’ড দিয়ে। নিজের পা কাটতেছে।

রাকিবের কাছে যেন মনে হচ্ছে রাকিব কে মারছে কাজলকে নয়।
কাজলের শরীরের সমস্ত দাগগুলো যেন রাকিবের শরিরে লাগতাছে।

কাজলের পৃথিবীটা পুরোটাই ফিল করতেছে রাকিব।।

রাকিবের ভাইয়া রাতুল রেগেমেগে মারধর করে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে
আর এদিকে কাজল মেঝেতে পড়ে কান্না করতেছে…

চলবে…

গল্প : ভাবি যখন বউ
পর্ব: ৬ষ্ঠ পর্ব
লেখক : S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here