গল্প : ভাবি যখন বউ (পর্ব: ৪থ পর্ব)

1293

রাকিব মনে মনে কান্না করতে করতে বাড়ি থেকে চলে আসে ।। কেননা ওর মনটা আজ খুব খারাপ। আজ নিজের চোখের সামনে নিজের প্রেমিকাকে দেখতে হচ্ছে বড় ভাইয়ের বউ হিসেবে।।
মানে ভাবি হিসাবে ।।

ওর কাছে হয়তো এটাই দেখার বাকি ছিল। সে আজ এটা ভাবতেই পারতেছে না যেকি করে হল এটা ।। সে এক বেচারা মানুষ যে কিনা বড় ভাইয়ের বউকে বিয়ের আগে দেখিনি ।। ওটাই হয়তো ওর ভুল ছিল । বারবার নিজের কাছে প্রশ্ন করতেছে যদি আমি একবার দেখতে পারতাম ।। শুধু একবার যদি প্রশ্ন করতে পারতাম কেন সে এটা করলো ??

তাকে ফাকি দিয়ে অন্য আরেকজনের হাত ধরে কেন ? কেন তাকে শুধু একবার বলো যায় নি ।।।।তার শুধু এইটাই প্রশ্ন জানতে চায় ? এখন তো সে আর কাজলের কেউ না । তারপরও সে তার দূরে থাকার চেষ্টা করবে । চলে যাচ্ছে অনেক দূরে

          দোয়া করি তোমার  জন্য কাজল !!!

সেই দিনটা রাকিবের জন্য কতইনা আনন্দে ছিল কেননা আজ তার বড় ভাই বিয়ে করেছে কিছুদিন পরেই সে বিয়ে করবে। কিন্তু কি আর হবে ভাগ্যে পরিহাস রাকিবের মনটা খারাপ হয়ে গেল।।

রাকিব নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারতেছে না । সে কি করবে এখন। কিভাবে কমবে এই ক্ষতটা । কোথায় গেলে কমবে এই ক্ষতটা?? কি করে কমবে মনের জ্বালাটা….
কি করে আলোর পথে ফিরে আসবে । কখনো কি সম্ভব রাকিবের ধারা।

রাকিব নিজেকে ঐ অবস্থায় সামলাতে পারবে না বলেই সে বিয়ের দিনই রাতে নিজ বাড়ি থেকে চলে আসে । এবং কোথায় গেছে কোথায় যাবে কোথায় থাকবে কাউকে কোন কিছু বলে আসেনি শুধু একটাই গন্তব্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার।।।

এদিকে আজ রাকিবের বড় ভাই রাতুলের বাসর রাত।
কাজলের জন্য একটি বিশেষ রাত ।
আর রাকিবের জন্য এই রাত্রি হচ্ছে একটি কালো রাত । এই রাতে আজ কাজল তার জীবনের সুখ মেটাবে রাতুলকে দ্বারা।। আর অন্যদিকে রাকিব হাতে নিল ম`দ ।।

রাকিব এতটাই ভেঙে পড়েছে যে সোজা হওয়ার মতো পরিস্থিতি আর নেই। সে ভেঙে পড়েছে । সে ভালোবাসতো কাজলকে মন থেকে।। কিন্তু এমন কেন হলো ।।

এখন আজ কোথায় গেল একটু কমবে কষ্টটা। ওর শুধু একটাই কথা একটুও কি বলার প্রয়োজন মনে করলে না তাকে কেন ?? এরকম করলো কেন? শুধুমাত্র একটা প্রশ্নই তার কাছে। শুধুমাত্র তাকে একবার জানাতো যে আজ আমার বিয়ে একটি ছেলের সাথে।।

জানানোর প্রয়োজন মনে করলো না । যদিও বন্ধু হিসেবে বলতো এই কথাটা তারপরও মেনে নিত ।। কিন্তু কিছু না জানিয়ে সে বিয়েটা করে নিল ।। আজ কে তার হাতটি ধরবে।

আজ অসহায় বঞ্চিত লঞ্চিত ভালোবাসার কাছে। সে হেরে গেছে আজ। ভালোবাসা মূল্য তার কাছে নেই সে অফুরন্ত ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।।

সে জানতো না যে রাকিব তাকে কতটা ভালোবাসে।।
রাকিবের ভালবাসায় কোন অপবিত্রতা ছিল না।।

এদিকে এখন রাকিব পথে পথে হেঁটে হেঁটে চলে আসে এক হোটেলে । একটা রুম বুক করে নেয়।।

ওখানে তাঁর যাবতীয় জিনিসপত্র বলতে নেশা কিনে আনে।। ওই কষ্টটা ভুলার জন্য যাবতীয় যা যা প্রয়োজন সেটা কিনে নিয়েছে কেননা এই কষ্টটা যে এত সহজে ভোলার মত নয়।।

বিয়ে বাড়িতে সবাই অনেক আনন্দ-উল্লাস করতেছে আর রাত ঘনিয়ে আসছে।
রাতুল ও কাজলের জন্য ফুলশয্যার জন্য ঘর সুন্দর করে সাজানো হয়েছে তারা ওই রুমে একটু পরেই প্রবেশ করবে।

ইতিমধ্যে ফুলসজ্জার রুমে প্রবেশ করল।
এদিকে সবাই সবার বাড়ির দিকে রওনা হচ্ছে । রাকিবের মা খুজতেছে রাকিব কোথায় গেল এত রাতে।

মনে মনে ভাবছে হয়ত বন্ধুর বাসায় গেছে। না হয় বন্ধুকে এগিয়ে দিয়ে আসছে। তাই তেমন চিন্তা করলো না।

এভাবে সারারাত কাজল আর রাতুল মজা করলো । জীবনের উপলব্ধি করল আর জীবন টাকে কিভাবে সাজাবে?? কিভাবে গুছিয়ে নেবে ইত্যাদি সম্পর্কে বিভিন্ন রকমের কথা বলেছে ! এভাবে সারাটা রাত কাটিয়েছে সকাল ঘনিয়ে আসছে..।।

সকাল হয়ে গেল বটে কিন্তু এখন ও রাকিব বাড়িতে ফিরলো না । কারো কোনো চিন্তা নেই কোনো মাথা ব্যথা নেই।।

নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে রাতুল ও কাজল ।। হাসিখুশি মুখে চোখে চোখ থেকে কত কি যে করে। হা তা তো করতেই পারে। যেহেতু স্বামী-স্ত্রী সেটাই তো কোনো বাধাই নেই।

আর ওইদিকে রাকিব মাতাল হয়ে শুয়ে আছে মেঝেতে আর পাগলের মতো কথা বলতেছে ।।

কাজল তুই এটা কী করলি রে ….।আমাকে তুই একবার জানানোর প্রয়োজন মনে করলি না ….
কাজল! কাজল আই লাভ ইউ কাজল।
আমি তকে অনেক ভালোবাসি আমার ভালোবাসার তুই মূল্য দিলি না কাজল।

জানি আমি বেকার কিন্তু তুর ভালোবাসার জন্য আমি পাগল রে। সে পাগল টাকে তুমি একটুও মূল্য দিলি না কাজল। একটুও জানানোর প্রয়োজন মনে করলি না ।। আজ আমার ভালোবাসার কোন মূল্য তুই দিলি না । তুই ছুটলি টাকার পিছনে কাজল।।

কাজল তুই এই অবলা বঞ্চিত অসহায় মানুষটাকে একটুও কাছে টানবার মনে হলো না তুই কেমন মেয়ে কেমন রে।

তকে দেখার জন্য তর কলেজের সামনে হাজারোবার তাকিয়ে থাকত । কলেজে তর জন্য অপেক্ষা করতাম । তকে না দেখতে পারলে সে যে আমি পাগল হয়ে যেতাম। কেন তুই বুঝলি না এসব ।।কেন?? কাজল তুই আজকে আমার ভালোবাসার কোন মূল্য দিলি না।

ভালোবাসা কি সত্যিই অসহায় হয়ে পড়েছে নাকি শুধু মানুষের হাতে খেলার পুতুল হয়ে গিয়েছে । কেন তুমি আমাকে ঠকালে কাজল??

এভাবে দুই দিন হয়ে গেল রাকিবের কোন খোঁজখবর নেই ।। বাড়িতে হালকা একটু গন্ডগোল হচ্ছে রাকিব টা কোথায় গেল কাউকে কিছু বলে যায় নাই তাহলে এই দুইদিন সে কোথায় কি করছে??

অস্থির হয়ে যাচ্ছে রাকিবের মা ছেলেটা তো কোথাও গেলে বলে যায় । আজ কেন দুই দিন হয়ে গেল তাও আসছে না ।আবার কোথাও গেছে সেটাও বলে যায়নি।

তাহলে ছেলেটা কোথায় একটু চিন্তার বিষয় সবাই মাথা ঘামাচ্ছে আর ওর সাথে যোগাযোগ করার জন্য সব মাধ্যমেই বন্ধ দেখাচ্ছে। তাহলে সে কোথায় আছে কেউ জানে না।

বাড়িতে নতুন বউ রাকিব রাকিব রাকিব কথাটা শুনতে শুনতে একটু অন্য রকম ফিল করতেছে ।। ভাবতেছে রাকিব নামে তো আমার একটা বন্ধু ছিল । ভালই হলো এখন এই নামে একটা দেবর পেলাম। এরপর যদি মত হয় তাহলে তো আরো ভালো।

মনে মনে ভাবতেছে আসলে রাকিব নামটাই মনে হয় অনেক ভালো । আর মানুষগুলো মনে হয় অনেক ভালো হয়। তো যাই হোক আগে দেখি কেমন হয় ও বাড়িতেই আসতেছে না।।কোথায় গেল ??

সকল জায়গায় খোঁজখবর করা হচ্ছে কোথাও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না রাকিবের ।এদিকে বাড়ির সবাই কেমন অস্বাবিক হয়ে যাচ্ছে রাকিবকে পাওয়া যাচ্ছে না বিধায়।

প্রায় 15 দিন চলছে কিন্তু কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না । পরিবারের সবাই ওর জন্য পাগল হয়ে পড়ছে আর রাকিবের মা প্রচুর কান্নাকাটি করতেছে ছেলেটা কোথায় গেছে কি করছে কি খাচ্ছে। কে জানে…

অন্যদিকে রাকিব ছেলেটার সব শেষ । বাড়িতে গেলেই কি হবে । এই ভেবেই সে এই হোটেলেই পড়ে আছে।।

চলবে…

গল্প : ভাবি যখন বউ
পর্ব: ৪থ পর্ব
লেখক : S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here