গল্প : ভাবি যখন বউ (সিজন ২) পর্ব: ২য় পর্ব

1338

রাকিব ফেইজবুকে যে মেয়েটার সাথে রিলেশানে আছে তার নাম কাজল।
ওদের পরিচয়টা হয় কাল্পনিকভাবেই। একদিন রাকিব ফেইসবুকিং করছিল তখন ওর আইডিতে একটি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসলো ।। আইডির নাম ছিল নীলপরী নীলাঞ্জনা। এটা দেখে অবাক হয়ে যায় রাকিব । কি সুন্দর নাম আর কি সুন্দর করে প্রোফাইলটা সাজানো আর কি সুন্দর একটা প্রোফাইল পিক দেওয়া । সত্যিই অবাক করার মতো। সে দ্রুত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করলো। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করে রাকিব দ্রুত এসএমএস দেয়।।

রাকিব: এই যে শোনেন একটা কথা বলার ছিল।
((কোন রিপ্লে আসতেছে না এভাবে কেটে গেল একদিন। পরদিন যখন ঘুম থেকে উঠে রাকিব ফেসবুকটা ওপেন করল তখনই দেখতে পেলো নীলপরী নীলাঞ্জনার রিপ্লে আসছে))

নীলপরী নীলাঞ্জনা: জী ভাইয়া বলেন।
রাকিব: আপনি মঙ্গল গ্রহ থেকে কখন ফিরলেন??

নীলপরী নীলাঞ্জনা: আরে বাহ আমি মঙ্গলবারে যাব কেনো??
রাকিব: ওমা আপনি তো পরি !! নীলপরী
আপনার তো বিভিন্ন গ্রহে গ্রহে থাকার কথা সেটা নতুন করে বলার কী আছে।

নীলপরী নীলাঞ্জনা: ও এই কথা।
না রে ভাই আমি কোনো পরি না এটা আমার ফেসবুক আইডির নাম জাস্ট ভালো লেগেছিল তাই দিয়েছিলাম।

রাকিব : ও আচ্ছা। তো আমরা কি পরিচিত হতে পারি যেহেতু আমরা একই গ্রহের মানুষ।
নীলপরী নীলাঞ্জনা: হে অবশ্যই কেন না!!

(এসব বলতে বলতে তারা পরিচিত হয়ে যায় । ওরা একই ক্লাসে পড়াশোনা করে কিন্তু ভিন্ন ভার্সিটিতে। দিন দিন ওরা খুব কাছে আসতে থাকে । একসময় দেখা যায় যে ওরা খুব ভালো ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হয়ে পড়ে। আর বলতে গেলে রাকিব ছেলেটা একটু ইমোশনাল । হালকা পাগলের মত।।

নীলপরী নীলাঞ্জনা যে ফেসবুক আইডিটা ছিল ওই মেয়েটার আসল নাম ছিল কাজল। ওরা প্রায়ই দেখা করে । একসাথে ঘোরাফেরা করে। এভাবে কাটতে থাকে কিছুদিন ।

কাজলের কাছে রাকিব একজন ভালো বন্ধু । কিন্তু রাকিব তার থেকে উল্টো সে মনে মনে নানান কিছু ভাবতে থাকে। কাজলকে নিয়ে সে পাড়ি দিতে চাই বহূদুর।একে অপরের হাত ধরে।

রাকিব পুরোপুরি হারিয়ে গেছিল ওর আকাশে যেন চাঁদ হয়ে রয়ে যেতে চায় ।
ওর সুখে দুখে সব জায়গাতেই অবস্থান করতে চায় রাকিব ।
সত্যি কথা বলতে রাকিবের চোখে এমন মেয়ে কখনো আলোড়ন সৃষ্টি করেনি।
যেন অন্যরকম ওর কাছে । ওর কথা বলার স্টাইল। ফ্যাশন, ওর মায়াবতী ভাব ইত্যাদি সবকিছুতেই পাগল হয়ে যাচ্ছে বেচারা রাকিব ।

এইজন্য রাকিব দ্রুত বাসায় বিয়ে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু বিয়ের চাপ দিলেই কি তার বড় ভাই রাতুল তো এখনো বিয়েই করেনি। আর সেতো এখনো গ্র্যাজুয়েট কমপ্লিট করে নি। কিভাবে করবে সে বিয়ে।

রাকিব সারাক্ষণ চিন্তা করে অথচ কখনো সে কাজলকে বলে নি নিজে থেকে কাজলকে সে ভালবাসে।।

অন্যদিকে রাতুলের জন্য পরিবার থেকে পাত্রী খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু ভালো পাত্রী কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিভিন্ন উকিল ধরা হয়েছে কিন্তু ভালো পাত্রী কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

একদিন বিকালে বাসায় আসার সময় রাতুল দেখতে পেলো রাস্তায় একটি মেয়ে একটি অনাথ শিশুকে খাওয়াচ্ছে।
অনাথ শিশুদের শরীরে প্রচন্ড ময়লা । শরীর থেকে বের হচ্ছে দুর্গন্ধ।
কিন্তু শিশুটিকে দেখে মনে হচ্ছে খুব ক্ষুধার্ত খেতে পেয়ে খুব খুশি।

রাতুল দূরে দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছে ।।
ওই মেয়েটি অনাথ শিশুটির পাশে বসে মুখে তুলে খাওয়াচ্ছে খাবার ।
এটা থেকে সে মুগ্ধ এরকম মেয়ে জীবনে কখনো আগে দেখিনি এত মায়াবতী সত্যিই অবাক।।

আর অবাক তো হবারই কথা এরকম মেয়ে হয়তো এখনকার যুগে পাওয়া যায় না।।

সে মেয়েটির পিছন পিছন যায় । মেয়েটার বাড়ি কোথায় সে দেখে আসে আড়াল থেকে । তারপরের দিনই রাতুল উকিল পাঠায় ওই বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। উকিলকে জানায় মেয়ে পক্ষ মেয়ে তো বড় হয়েছে তাকে তো বিয়ে দিতে হবেই। তো আপনি এক কাজ করেন ছেলের একটা ছবি নিয়ে আসেন তারপর দেখি আমাদের পছন্দ হয় কিনা।

রাতুল ছবি দিল ।। মেয়ে পক্ষের ছবিটা পছন্দ হয়েছে।

কিন্তু মেয়ের বাবা-মা এখনো মেয়েকে জানালো না যে ওর বিয়ের কথা হচ্ছে।। যখনই মেয়েকে জানালো যে ওর বিয়ে কথা হচ্ছে তখনই মেয়ে বলল না বাবা মা আমি এখন বিয়ে করবো না। আমি পড়াশোনা শেষ করে তারপরে বিয়েটা করব । তারপরে ওর বাবা-মা বললো সমস্যা নেই বরপক্ষ তকে পড়াশোনা করাবে এ নিয়ে তুই কোন চিন্তা করিস না তোর পড়াশোনা হবে।
মেয়ে: মা তাও তো আমার তো এখনো বয়স হয়নি বিয়েটা আর কয়টা দিন পরে দাও না।
মা : না এখন ভালো একটা সম্বন্ধ আসছে তো দেখি কি করা যায়।
মেয়ে : ওকে । তোমরা যা খুশি তাই করো আমার কোন আপত্তি নেই।।

এই বলে মেয়ে পক্ষ প্রস্তাব দিল মেয়েকে দেখানোর জন্য। রাতুল আর রাতুলের মা মেয়েকে দেখতে আসলো। কিন্তু রাকিব আসেনি। রাকিবের একটা এক্সাম ছিল তাই।

খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষে। মেয়েটাকে দেখে রাতুলের মায়ের খুব পছন্দ হয়েছে ।।

এখন রাতুলের মা মেয়েটাকে কিছু প্রশ্ন করছে…

মা : তোমার নাম কি গো মা??
মেয়ে : আমার নাম মুসলিমা বিনতে কাজল।
।।।।।

চলবে…

গল্প : ভাবি যখন বউ (সিজন ২)
পর্ব: ২য় পর্ব
লেখক : S M Rony Chowdhury

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here