বিশ্বাস

তানহা, একটু দাঁড়াবেন?

ঘুরে তাকাতেই তানহা কে দেখতে পেলাম।

তানহা, কেমন আছেন? আপনি রাহাত তাইনা? আমাকে চিনতে পেরেছেন?

আমি, জ্বি ভাল, হ্যাঁ চিনতে পেরেছি আপনি তানহা। আপনাকে কি ভুলা যায়?

তানহা, আমিতো ভেবেছিলাম ভুলে গিয়েছেন। পাঁচ বছর আগের কথা মনে রাখবেন তা ভাবিনি।

আমি, হুম মানুষ অনেক কিছুই ভাবেনা। কিন্তু সময়ের সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয় আবার অনেক কিছুই ভাবতে শিখায়।

তানহা, তা ঠিক বলেছেন। তো কোন চাকরি করছেন? নাকি এখনো বেকার আছেন?

আমি, কি বলা উচিৎ বুঝতে পারছি না। এই তানহা একটা সময় আমার অনেক কিছু ছিল। কতটা ভালোবাসতাম বলে বুঝাতে পারবো না। তানহাও আমাকে ভালোবাসতো। কিন্তু ওর স্বপ্ন ছিল ভাল শিক্ষিত, সরকারি চাকরি জীবি কিংবা বড় ব্যবসায়ি বিয়ে করবে। আর তখন আমি পুরো বেকার। কেবল লেখাপড়া শেষ করছি। প্রতিদিন তানহা নানান রকম কথা শোনাতো।

তানহা, কি হলো বুঝছি এখনো বেকার আছেন। নয়তো কোন ছোট খাটো চাকরি হয়তো করছেন।
সে যাই হোক বিয়ে করেছেন?

আমি, আবারও মাথা নিচু করে নিলাম। সেদিনের কথা, হুট করে তানহা এসে বললো তোমাকে দিয়েতো আর হলো না। বাবা মা আমার বিয়ে ঠিক করেছেন। আর আমিও তাদের মানা করতে পারিনি। তুমি এক কাজ করো আমার বিয়েতে বন্ধু হয়ে দাওয়াত খেতে এসো। সরকারি চাকরিজীবি বর যদিও পাইনি তবে ভালই একটা বেসরকারি অফিসের উচ্চ পদেই আছে। আমি অনেক করে বললাম আমাকে কিছু দিন সময় দাও আমি যে কোন একটা চাকরি যোগার করেই তোমাকে বিয়ে করে নিবো।

তানহা আমার দিকে তাকিয়ে একটা বিদ্রুপ হাসি দিয়ে হাসি দিয়ে চলে গেল। তিন বছরের রিলেশনের ব্রেকআপ করে।

তানহা, কি হলো চুপ করে আছেন কেন? বিয়েটাও করেননি এখনো? আপনার কপালে মনে হয়না বউ আছে।

তানহার কথা শেষ হতে না হতেই, নুপুর এসে আমার হাত চেঁপে ধরলো।

তানহা, চমকে হ্যালো আপু কেমন আছেন?

নুপুর, আলহামদুলিল্লাহ, তুমি কেমন আছো শাহেদ ভাইয়ের সাথে দেখা করতে আসছিলে নাকি?

তানহা, জ্বি আপু। দেখা করেছি এখন ফিরছি বাসায়।

নুপুর, ওহ আচ্ছা, পরিচয় করিয়ে দেই, ও হচ্ছে রাহাত, এই কোম্পানির চেয়ারম্যান। আজ আমাদের চতুর্থ বিবাহ বার্ষিকী। চলো না আজ আমরা সবাই এক সাথে লাঞ্চ করি? আমি শাহেদ ভাইকে ফোন করছি চলে আসবে।

তানহ, মাথা নিচু করে না আপি আজ না অন্য আরেক দিন খাবো আজ আমার একটু কাজ আছে।

নুপুর, ওকে তাহলে আমরা আসি, আবার কোন দিন দেখা হবে।

আমি তানহার দিকে তাকিয়ে একটা বিদ্রুপ হাসি দিয়ে, নুপুরের হাত ধরে এগিয়ে চললাম পার্কিং এর দিকে। হাসিটা ওর পাপ্রো ছিল।

গাড়িতে বসতেই নুপুর প্রশ্ন করলো কি এক্স গার্লফ্রেন্ডের সাথে কি কথা বললে এতো সময় দাঁড়িয়ে?

আমি, অনেক কিছুই বলছি শুধু বলিনি আমি তার হাজবেন্ডের বস। বলেই নুপুর আমি এক সাথে হেসে দিলাম।

নুপুরের কাছে আমি কোন কিছুই লুকাইনি। সেদিন তানহা সেখান থেকে চলে যাবার পর আমি পার্কে বসে বেশ কিছুটা সময় কান্না করি। চোখ মুছে যখন বাড়ি ফিরছিলাম তখন নুপুরের গাড়ির সাথে আমার ধাক্কা লাগে। নুপুর আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর আমাদের মাঝে কথাবার্তা হয়। আমি নুপুরকে সব খুলে বলি।

নুপুর সেদিন চলে যায়। খুব অবাক করে দেয় নুপুর এর কিছুদিন পর আমাকে ফোন দিয়ে। বলে আপনার প্রেমিকার বিয়ে খেলাম আজ। এবং যার সাথে বিয়ে হয়েছে সে ওদের কোম্পানিতেই জব করে। এরপর থেকে আমাদের নিয়মিত কথা হয়।

নুপুর ওর পরিবারকে আমার কথা জানায় তারাও কোন দ্বিমত পোষণ করেনি। একমাত্র মেয়ের পছন্দের সাথে। পারিবারিক ভাবেই আমাদের বিয়েটা হয়ে যায়। আজ থেকে চার বছর আগে ঠিক এই তারিখটাতেই।

আমরা ভাল আছি নুপুর অনেক ভাল একটা মেয়ে। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি আল্লাহ যা করেন ভালর জন্যই করেন। আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন ভালই লিখে রেখেছেন।

হয়তো আমরা প্রথমে তা বুঝি না, কিংবি মানতে চাইনা। তবে বাস্তবতা এটাই। সত্যিই উনি ভাল কিছুই চান উনার বান্দাদের জন্য। যার সাথে যার জোড়া লেখে রেখেছেন তার সাথেই তার মিল হবে।
ভেঙে পরলে চলবে না। সামনের দিকে এগিয়ে চলতে হবে। আজ কি হলো তা ভেবে মন খারাপ করলে চলবে না। আগামির দিনটা ভালই হবে এই বিশ্বাসে এগিয়ে চলতে হবে।

বিশ্বাস
©শাহরিয়ার

Leave a Comment